সচরাচর জিজ্ঞাস্য

প্রশ্ন ১- ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি এবং আধুনিক হোমিওপ্যাথির মধ্যে প্রভেদ কোথায়?
হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান যে হোমিওপ্যাথির উদ্ভাবন করেছিলেন এবং যা আমাদের শিখিয়ে গেছেন সেটাই ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি। কিন্তু সেখানে আজ আমরা অনেক বিচ্যুতি দেখতে পাই।

ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির মূল কথা রোগীর মানসিক, আবেগিক ও শারীরিক লক্ষণাবলীর সাথে সদৃশতম (সিমিলিমাম) ১টি মাত্র ঔষধ প্রয়োগ করা। যেহেতু, বিজ্ঞানসম্মত ভাবে একটি সুস্থ মানবদেহে একটির অধিক ঔষধ একই সময়ে প্রয়োগ করে তা পরীক্ষা করা (প্রুভিং) সম্ভব নয় এবং প্রয়োগ করা হলেও কোন্ ঔষধ কি কি লক্ষণ উৎপাদন করে বা কিভাবে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখায় তা পৃথকভাবে জানা সম্পূর্ণই অসম্ভব তাই রোগীর শরীরেও রোগাক্রান্ত অবস্থায় একাধিক ঔষধ প্রয়োগ করা অসম্ভব। প্রকৃতপক্ষে, এ পদ্ধতি চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। প্রতিটি রোগীর জন্য নানাবিধ বিশ্লেষণ ও গবেষণা করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন যা আধুনিক হোমিওপ্যাথদের পক্ষে বিড়ম্বনা বলে বোধ হয়। কিন্তু ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির সাফল্য অত্যন্ত সন্তোষজনক। যদি সদৃশতম ঔষধটি খুঁজে পাওয়া না যায় তবে ফলাফল শুন্য বা বড়জোর রোগী কিছু সাময়িক উপশম লাভ করতে পারে। বিশ্বখ্যাত হোমিওপ্যাথেরা তাই ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির পক্ষে।

অপরদিকে অনেক হোমিওপ্যাথ আছেন যারা শ্রমবিমুখ এবং একাধারে বিশ্লেষণ ও গবেষণা বিমুখ। তারা রোগীর লক্ষণাবলী যথাযথভাবে বা আদৌ লিপিবদ্ধ করেননা, বুঝতে পারেন না ঠিক কি ঔষধ প্রয়োগ করবেন। মুলতঃ শ্রমবিমুখতা, সময়ের অভাব, চিকিৎসা পেশার প্রতি আন্তরিকতার অভাব এবং জনসেবায় অনীহা ও অনৈতিক মনোভাব হেতু এ সকল চিকিৎসক সোজা রাস্তা বেছে নিয়ে রোগীকে ইচ্ছামত ৪/৫ টি হতে ২৫/৩০টি ঔষধও প্রয়োগ করে থাকেন। তাদের ধারণা সদৃশতম ঔষধটি এদের মধ্যেই কোন না কোনটি হবে এবং তা কাজ করবে। তাদের এ ধারণা হোমিওপ্যাথিক মুলনীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এভাবেই তারা রোগীকে যথেষ্ট সময় না দিয়ে মূলতঃ ঔষধের ব্যবসা করে লাভবান হতে চান- যা রোগীর সাথে প্রতারণার সামিল। প্রকৃতপক্ষে এ চিকিৎসায় কোন কোন ক্ষেত্রে সাময়িক উপশম হলেও হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো রোগীর অবস্থা এতে জটিল হতে জটিলতর হয়, রোগীর স্বাতন্ত্র্যসূচক লক্ষণাবলী বিলুপ্ত হয়, রোগীর হ্রাস-বৃদ্ধির লক্ষণসমূহ পরিবর্তিত হয় এবং রোগ আরোগ্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়ায়। ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির দ্বারা যা সম্ভব, এ জাতীয় তথাকথিত আধুনিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় তা কখনও সম্ভব নয়।

প্রশ্ন ২ -হোমিওপ্যাথি কি কি রোগ আরোগ্য করতে পারে?
হোমিওপ্যাথি রোগ নয়; রোগীর চিকিৎসা করে। ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি সকল ধরণের একিউট রোগীর চিকিৎসা করা ছাড়াও নানা রকম ক্রণিক জিনেজারেটিভ রোগের চিকিৎসা করে। যদি রোগের প্রথমাবস্থায় রোগী ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথের শরণাপন্ন হন, অধিক দিন যাবৎ এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দ্বারা যদি রোগলক্ষণ চাপা না দেয়া হয় এবং রোগী যদি রোগভোগের শেষ সীমায় না পৌঁছান তবে রোগীর যে কোন রোগ আরোগ্য হয় ইনশাল্লাহ্। অধিকন্তু আরোগ্যের সীমা অতিক্রম করেছে এমন রোগীর ক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসা এ্যালোপ্যাথিক বা অন্যান্য যেকোন চিকিৎসার চেয়ে অধিকতর উপশমদায়ক চিকিৎসা দিতে সক্ষম। অনেক ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দ্বারা এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় অনারোগ্য বিবেচিত অনেক রোগের সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে।

প্রশ্ন ৩ – হোমিও ঔষধের উৎস কি?
হোমিও ঔষধ তরল পানীয়, পাউডার, ট্যাবলেট বা পিল জাতীয় উপদান যার মুল উৎস কোন না কোন উদ্ভিজ্জ, খনিজ বা প্রাণীজ উপাদান। ডাইলিউশন এবং পোটেনটাইজেশন এর মাধ্যমে ঔষধ কারখানায় এসব ঔষধ তৈরী করা হয়।

প্রশ্ন ৪ – হোমিও ঔষধ বা রেমিডি কিভাবে কাজ করে?
মূলতঃ রোগীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ডিফেন্স ম্যাকানিজমের উপর সরাসরি কাজ করে রোগীর জীবনী শক্তিকে অধিকতর শক্তিশালী করে যার ফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এভাবে রোগ নিরাময় হয়।

প্রশ্ন ৫ – হোমিও ঔষধ কি বিপজ্জনক?
যেহেতু উচ্চমাত্রায় ডাইলিউশন করে ও সবলে ঝাঁকুনি দিয়ে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরী করা হয়, সেহেতু হোমিও ঔষধের ক্ষতিকর বিষক্রিয়া বিলুপ্ত হয়। এ সকল হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সদৃশ লক্ষণানুযায়ী রোগীকে প্রয়োগ করা হলে তাতে কখনও বিপদের আশংকা থাকেনা। তথাপি ভুল ঔষধ প্রয়োগ করা হলে সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে ঐ ওষুধের প্রুভিং লক্ষণাবলী দেখা দেয়।

প্রশ্ন ৬ – হোমিও ঔষধ নেশা বা কোন প্রকার আসক্তি সৃষ্টি করে কিনা?
কখনই না।

প্রশ্ন ৭ – হোমিও ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কি?
ভুল ঔষধ প্রয়োগ করা হলেই শুধুমাত্র হোমিও ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যেমন – রোগীর যে মাথাব্যথা নিয়মিত ডানদিকে দেখা দিত তা ডান দিক হতে বাম দিকে স্থানান্তর হতে পারে। তবে হোমিও নিয়মনীতি অনুযায়ী সদৃশতম ঔষধটি প্রয়োগে এ সম্ভাবনা থাকেনা।

প্রশ্ন ৮ – হোমিও চিকিৎসায় রোগীর আরোগ্য হতে হলে রোগীর রোগ বা রোগলক্ষণের বৃদ্ধি কি অত্যাবশ্যক?
ক্যা্নসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অধিকাংশ সময় বাস্তব ক্ষেত্রে রোগীর লক্ষণাবলীর সাময়িক বৃদ্ধি হয়ে থাকে। রোগীর প্যাথলজির গভীরতা যত বেশী প্রারম্ভিক এই বৃদ্ধিও ততটা অধিক। সৃদশ লক্ষণাবলী বিবেচনা করে যথাযথ শক্তি ও মাত্রায় ওষুধ সেবনের পর এই বৃদ্ধিই প্রমাণ করে ওষুধ কাজ করা শুরু করেছে এবং রোগশক্তি হতে ওষুধের শক্তি অধিক, যা আরোগ্যকর। তবে দৈহিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ফাংশনাল সমস্যার ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধি অতি নগণ্য বা অনেক সময় তা দৃষ্টিগোচর হয়না বা উপলব্ধি করা যায়না। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীর তাৎক্ষণিক উপশম আমাদেরকে ভুল চিকিৎসার অন্ততঃ ২২ (বাইশ) টি ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার অন্যতম ২ (দুটির) কথা মনে করিয়ে দেয়। যা হলো চিকিৎসার পর সাথে সাথেই উপশম হলে বুঝতে হবে – হয় রোগীর জীবণীশক্তি অত্যন্ত ক্ষীণ বা হীন যার কারণে রোগী আর আরোগ্যযোগ্য নয় অথবা যে ঔষধটি প্রয়োগ করা হয়েছে তা ভুল। যদিও কিছু ক্ষেত্রে রোগীর জীবনীশক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও এমন বৃদ্ধি দেখা যায়না বা মৃদু বৃদ্ধি দেখা দিলেও রোগী তা উপলব্ধি করতে পারেনা। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হলো এমন স্বাস্থ্যবান রোগীর সংখ্যা অতি নগণ্য। বড়জোর শতকরা ২ হতে ৩ ভাগ।

প্রশ্ন ৯ – একই সময়ে একাধিক ঔষধ প্রয়োগ কি সম্ভব?
একই সময়ে একাধিক ঔষধ প্রয়োগ অনুচিত। তবে রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হলে এবং চিকিৎসক যদি নিকটতম সদৃশ ঔষধের মধ্যে কোন্ ঔষধটি প্রয়োগ করবেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারেন তবে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ১টির পর অন্য ১টির ব্যবহার বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা সফলতার সাথে এক্ষেত্রে ও ১টি ঔষধই প্রয়োগ করেন।

প্রশ্ন ১০ – হোমিও ঔষধ ক্যামিক্যাল ড্রাগ বা এ্যালোপ্যাথিক ঔষধের চেয়ে কতটা সাশ্রয়ী?
তুলনামুলকভাবে অনেক সাশ্রয়ী। তাছাড়া যেহেতু এ্যালোপ্যাথিকের মত একসাথে অনেক ওষুধ ব্যবহৃত হয়না তাই এটা অনেক সাশ্রয়ী।

প্রশ্ন ১১ – হোমিও ঔষধ কিভাবে সংরক্ষণ করতে হয়?
শুষ্ক স্থানে, যেখানে সূর্যরশ্মি সরাসরি পৌঁছায় না, এবং কোন প্রকার উগ্র গন্ধ নেই এমন স্থানে রাখা প্রয়োজন। ফ্রিজে রাখার কোন দরকার নেই।

প্রশ্ন ১২ – হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কি অনেকদিন ধরে নেয়া প্রয়োজন?
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কতদিন ধরে চলবে তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। তবে গবেষণা লব্ধ তথ্য থেকে দেখা যায় প্রতি ১ (এক) বছর রোগভোগের জন্য ১ (এক) মাসের চিকিৎসা প্রয়োজন। রোগীর রোগের গভীরতা, প্যাথলজির জটিলতা, জীবণীশক্তির অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে চিকিৎসাকাল কম-বেশী হয়। এ সকল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে হোমিওপ্যাথ অনেক সময় একটি পূর্বাভাস দিতে পারেন।

প্রশ্ন ১৩ – একজন রোগী কি আজীবন চিকিৎসা চালিয়ে যাবে?
অবশ্যই না। রোগী সুস্থবোধ করা মাত্রই চিকিৎসা থামিয়ে দেবেন। রোগটি আবার ফিরে আসে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য হোমিওপ্যাথকে কিছু সময় দেয়া প্রয়োজন। তবে ক্রণিক রোগীর ক্ষেত্রে এটি একটু ব্যতিক্রম। যেখানে ডাঃ হেরিং এর আরোগ্যনীতি অনুযায়ী রোগী পুরোপুরি আরোগ্য হওয়ার আগে নিম্নোক্ত ধারা লক্ষ্য করা যায়:

(ক) একটি নির্দিষ্ট ক্রমে রোগীর পুরাতন রোগলক্ষণ ফিরে আসে। অর্থাৎ সর্বশেষ লক্ষণটি সবার আগে চলে যায় এরপর বিপরীতক্রমে পুরাতন লক্ষণাবলী সামান্য সময়ের জন্য ক্রমানুসারে ফিরে আসে ও বিলুপ্ত হয়।
(খ) অধিক গুরুত্বপূর্ণ অংগ হতে লক্ষণাবলী কম গুরুত্বপূর্ণ অংগে স্থানান্তরিত হয়। যেমন হৃদপিন্ডের লক্ষণবলী উপশম হয়ে তা ফুসফুস বা যকৃত বা কিডনীতে স্থানান্তরিত হয় (অবশ্যই ঐ অংগগুলি আগে রোগভোগ করে থাকলে)। ভেতরকার লক্ষণাবলী ক্রমশ বাইরের অংগে বা চর্মে প্রকাশিত হয়।
(গ) রোগলক্ষণাবলী শরীরের উপরের অংশ হতে নিম্নাংশে প্রকাশিত হয় এবং এক সময় রোগটি বিলুপ্ত হয়।

প্রশ্ন ১৪ – হোমিও চিকিৎসা চলাকালে কোন কারণে রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে কি করণীয়?

চিকিৎসা চলাকালীন যতটুকু সম্ভব নতুন রোগের ক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসা করা উচিত। সবার আগে হোমিওপ্যাথকে বিষয়টি রিপোর্ট করা উচিত। অনেক সময় হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি হতে পারে যা হোমিওপ্যাথের নির্দেশনা মত চললে এমনিতে চলে যায়। কোন কারণে রোগীর জীবনের আশংকা না দেখা পর্যন্ত ক্যামিক্যাল ড্রাগ বা এ্যালোপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। দুর্ঘটনাজনিত কারণে ডাক্তারের পরামর্শে দ্রুত যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ দুর্ঘটনার কারণটি বাহ্যিক কোন বিষয়, এটি অভ্যন্তরীণ রোগ নয়।

প্রশ্ন ১৫ – একই সময়ে হোমিওপ্যাথিক ও এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার ফল কি?
কোন কোন রোগী যেমন যারা ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, হাঁপানী ইত্যাদি রোগ আক্রান্ত। তাদের ক্ষেত্রে হোমিও ও এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা একসাথে চলতে পারে। যদিও একই সাথে দুই ধরণের চিকিৎসায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়না। ঐ সকল রোগের মুল কারণ, রোগীর রোগের গভীরতা ও জটিল প্যাথলজি বিবেচনায় রাখা উচিত। সকল ক্ষেত্রে বস্তুগত লক্ষণ অর্থাৎ ল্যাবটেস্ট রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেয়া হয়। হোমিওপ্যাথি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি বিধায় এক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে মুল লক্ষণাবলী খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হয়। ঐ সকল রোগে রোগী টেস্ট রিপোর্ট ব্যতীত ব্যক্তিগত হ্রাস-বৃদ্ধি বা লক্ষণ উল্লেখ করতে পারেনা। ফলে চিকিৎসার গতি ধীর হয়। তবে এ অবস্থায় হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নিম্ন শক্তিতে ঘন ঘন প্রয়োগ করলে এবং ধীরে ধীরে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা প্রত্যাহার করলে কাংখিত ফল পাওয়া যায়। এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় যেখানে ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, হাঁপানী ইত্যাদির রোগ সম্পূর্ণ অনারোগ্য সেখানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসার দ্বারা এ জাতীয় রোগী আরোগ্যের অনেক ইতিহাস রয়েছে। তবে কোন অবস্থাতেই ক্ল্যাসিক্যাল হোমিও চিকিৎসা ছাড়া আধুনিক হোমিও চিকিৎসায় এই আরোগ্য সম্ভব নয়।

প্রশ্ন ১৬ – হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি কি অন্য সকল প্রকার চিকিৎসা করা যায়?
হ্যাঁ। তবে ঐ চিকিৎসায় মাদক জাতীয় কোন ঔষধ যেন না থাকে।

প্রশ্ন – ১৭ হোমিও চিকিৎসা রোগমুক্ত হলে তা কি আবার ফিরে আসে?
ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির সাহায্যে পুরোপুরি রোগমুক্ত হলে অবশ্যই রোগটি আর ফিরে আসেনা। তবে ভুল চিকিৎসার ফলে রোগীর সাময়িক উপশম হয় এবং রোগী আগের অবস্থা ফিরে আসে। সকল ক্ষেত্রেই রোগীকে স্বাস্থ্যরক্ষার ন্যুনতম নিয়মাবলী যেমন- পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীর চর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের বিষয়গুলি মেনে চলতে হবে। এসবের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন অপরিহার্য।

error: Content is protected !!