নিদ্রাহীনতা (Insomnia) প্রকৃতপক্ষে কোন রোগ নয়; বরং এটি অন্য কোন রোগের উপসর্গ (Symptom)। নিদ্রাহীনতা সৃষ্টি হলে এর পিছনে অবশ্যই কোন না কোন অস্বাভাবিক কারণ আছে বুঝতে হবে। দৈনন্দিন কার্যাবলী সম্পাদনের নিমিত্তে পরিশ্রমের পর যখন শরীর ও মন অবসন্ন হয়ে পড়ে তখন নিদ্রাই সে অবসন্নতা দুর করে পুনরায় শরীর-মনকে সতেজ ও কার্যক্ষম করে। পরিশ্রমের পরে শরীরের অনেকটা শক্তি ক্ষয় হয় ও অবসন্নতা দেখা দেয়। আহারের মাধ্যমে সেই ক্ষয় পূরণ হয় এবং নিদ্রা দেহের অবসন্নতা দুর করে। অতএব স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রতিদিন একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষের ৬/৭ ঘন্টা ঘুমানো একান্ত প্রয়োজন। নিম্নোক্ত কারণ ও লক্ষণ মোতাবেক আমরা অনিদ্রার প্রতিকার করতে পারিঃ

  1. শোক, দুঃখ, ভয়, ক্রোধ, অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম, মানসিক উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা, মাত্রাতিরিক্ত আনন্দ, বাড়ী থেকে দুরে অবস্থান করায়, অপমানিত হওয়া ইত্যাদি কারণে।
  2. অতিরিক্ত যৌন উত্তেজনা বা যৌন চিন্তা বা অতৃপ্ত কামনা-বাসনা জন্য।
  3. চা, কফি, মদ ইত্যাদি উত্তেজক পানীয় গ্রহণ বা ধুমপান ইত্যাদি।
  4. ঘি, তেল বা গুরুপাক খাবারে বৃদ্ধি পায় এবং রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
  5. অতি ভোজন, ক্ষুধা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি কারণ।
  6. ফুসফুসের কোন রোগের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যাঘাত, কাশি ইত্যাদি।
  7. মস্তিষ্কে রক্তাধিক্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এ কারণে রোগী রাত্রে অস্থির থাকে এবং ঘুমাতে পারেনা।
  8. অনেক সময় মস্তকের পরিপুষ্টির অভাব হেতু অনিদ্রা দেখা দেয়। আবেগ ও স্নায়বিক দুর্বলতার জন্যও অনিদ্রা দেখা দেয়। অনেক রোগী সামান্য শব্দেই চমকে ওঠেন বা সামান্য কারণে ভয় পান যাতে অনিদ্রা দেখা দেয়।
  9. কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে তন্দ্রালুভাব থাকে অথচ ভাল ঘুম হয়না, কষ্টকর স্বপ্ন দেখে। লক্ষণ হিসেবে মস্তিষ্কের পিছনে, ঘাড়ে, পৃষ্ঠদেশে বেদনা, দুর্বলতা এবং মস্তিষ্কে শুন্যবোধ হয়। রোগী নানা প্রকার জটিলতায় ভুগতে থাকেন।
  10. অনেক রোগী অভ্যাসবশতঃ অধিক রাত পর্যন্ত ঘুমাতে পারেন না আবার দেরী করে ঘুমিয়ে ভর দুপুরে ঘুম হতে ওঠেন।
  11. চুলকানি বা অন্য কোন শারীরিক রোগ, অমাবস্যা-পুর্ণিমায়, রোগীর সেবা করার কারণে, অতিরিক্ত গরম, ঘাম বা হৃদস্পন্দনের কারণে, মাথা ঘোরার জন্যও অনিন্দ্রা হয়ে থাকে।
  12. কোন কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে এ্যালোপ্যাথিক ডাক্তার কারণ অনুসন্ধান না করে অতিরিক্ত মাত্রায় হিপনোটিক ঔষধ ব্যবহার করে নিদ্রা আনয়ন করেন। এর ফলে রোগের কোন উপকার তো হয়ই না বরং নতুন উপসর্গের সৃষ্টি করে। ফলতঃ ঘুমের ব্যাঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়।                                                                                           হোমিওপ্যাথ লক্ষণ সাদৃশ্যে উপযুক্ত ঔষধ প্রদান করেন যাতে রোগের মূল কারণের সাথে নিদ্রাহীনতাও দুর হয়।

ডা. বেনজীর আহমেদ একজন কনসাল্টেন্ট হোমিওপ্যাথ। বিশ্বখ্যাত হোমিওপ্যাথ প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাসের নিকট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বিশ্বব্যাপী প্রফেসর জর্জের নিকট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হোমিওপ্যাথের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *