Positive Mind-Set: ইতিবাচক মনোভাব জীবন চলার পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মানুষকে সফলতার সাথে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। আপনি নিজেকে যা ভাবেন আপনি প্রকৃতপক্ষে তাই (you are what you think about you)। কিভাবে অধিকতর বাস্তবসম্মত ও ব্যবহারিক উপায়ে ইতিবাচক মনোভাব কে উন্নত করা যায় তার প্রধান ৩টি উপায় নিয়েই আজকের আলোচনা। আমি দাবী করছি না যে এই ৩টি উপায়ই কেবল পজিটিভ মাইন্ড সেট তৈরী করার ও তা উন্নত করার একমাত্র অনুসরণীয় উপায়। কিন্তু আপনি এই ৩টি বিষয়ের প্রতি অংগীকারবদ্ধ (committed) এবং অবিচলিত (consistent) থাকলে ইনশাল্লাহ্ অতি দ্রুতই ফল পাবেন। পজিটিভ মাইন্ডসেট তৈরী কোন অন টাইম এ্যাকশন নয়; বরং এটি একটি লাইফস্টাইল। আর জীবনে যে কোন ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য চাই অংগীকারাবদ্ধ হওয়া ও অবিচল থাকা।

১ম পদক্ষেপ: চিন্তায় শুদ্ধতা আনুন (purify your thougts): আপনি কি চিন্তা করেন বা আপনার অনুভূতি কি তা আপনার জীবন ও কর্মের উপর অনেক প্রভাব ফেলে। একটি প্রবাদ আছে – ”আপনার বাইরের বিশ্ব আপনার ভেতরের বিশ্বেরই প্রতিফলন”। কথাটি যথার্থ।

যেহেতু আপনার চিন্তা শব্দে এবং আপনার শব্দ কাজে রূপান্তরিত হয়ে যায়, সেহেতু আপনার চিন্তাধারাকেই প্রথমে শুদ্ধ করা জরুরী।

প্রশ্ন হচ্ছে – কিভাবে আপনি আপনার চিন্তাকে শুদ্ধ করবেন? উত্তর হলোঃ

বেশী বেশী অনুশোচনা বা তওবা করুন। অত্যন্ত আন্তরিকভাবে এবং পুন: পুন: আল্লাহর নিকট ক্ষমা চান। আমাদের প্রিয় নবী মুহম্মদ (সাঃ) দিনে কমপক্ষে ১০০ বার তওবা করতেন।

আল্লাহর স্মরণ বা জিকিরে জিহ্বাকে আদ্র রাখার চেষ্টা করুন। নিয়মিত কোরআন পড়ুন, বেশী বেশী দোওয়া করুন এবং রসুল (সাঃ) এর প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণ করুন।

এ বিশ্বাস দৃঢ় করুন যে, মুমিনের জীবনে যা কিছুই ঘটে তা তার জন্য ভাল। সহীহ মুসলিমের এক হাদীসে এসেছে “ঈমানদারদের বিষয়টি খুব আশ্চর্যজনক, নিশ্চয়ই তার সকল ব্যাপার ভাল এবং এমনটি ঈমানদার ব্যতীত আর কারো জন্য নয়। তার জন্য ভাল বা সুখের কিছু ঘটলে সে কৃতজ্ঞ হয় এবং এটি তার জন্য ভাল। যখন কোন ক্ষতি ও অনিষ্ট তাকে স্পর্শ করে, তখন তিনি ধৈর্যশীল থাকেন। এটিও তার জন্য ভাল।”

৪. অন্যের সম্পর্কে ভাল চিন্তা করুন। “আপনি যদি জানতে পারেন যে, আপনার একজন ভাই বা বোন তার কোন কথা বা কাজে আপনাকে কষ্ট দিয়েছেন বা ক্ষতি করেছেন, তখন তার জন্য আপনার একটি অজুহাত তৈরী করা উচিত; যদি একটিও অজুহাত খুঁজে না পান, তখন আপনার বলা উচিত, – ’নিশ্চয়ই এমন কোন কারণ আছে যা আমি জানিনা” – Ibn Seereen

২য় পদক্ষেপ: সর্বদাই ভাল ও ইতিবাচক কথা বলুন (always speak good and positive words): জীবনে আপনি বার বার কোন একটি কাজ করতে থাকলে কাজটি আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যায়। সুতরাং আপনি প্রথম পদক্ষেপে যত বেশী কাজ করবেন ইনশাল্লাহ্ ভাল ও ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার করা আপনার জন্য ততোটা সহজ হয়ে যাবে।

আমাদের প্রিয় নবী মুহম্মদ (সাঃ) সত্যিকার অর্থে আশাবাদী (optimist) মানুষ ছিলেন। তিনি (সাঃ) সবসময় ইতিবাচক এবং উদ্দীপনামূলক শব্দের ব্যবহার উৎসাহিত করতেন। একটি সুন্দর হাদীসে নবী (সাঃ) বলেছেন – আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন সংক্রামক রোগের সংক্রমণ হয়না এবং কোন খারাপ লক্ষণ বা কুসংস্কার বলে কিছু নেই। বরং আমি আশাবাদী হওয়া পছন্দ করি। সাহবীরা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, ”আশাবাদ কি?” তিনি (সাঃ) বললেন, ”একটি ভাল শব্দ বা কথা” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।

সুতরাং যখনই আপনি কারো সাথে বাক্যালাপ করবেন, ইতিবাচক ও উদ্দীপনামূলক শব্দ ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দেবেন। যে শব্দটি আপনি চয়ন / ব্যবহার করেন তা যেন আপনার নিজের মনের উপর প্রভাব ফেলে। যখনই কেউ আপনাকে প্রশ্ন করেন, ”আপনি কেমন আছেন বা আপনার কেমন চলছে?”তখন বলতে চেষ্টা করবেন –

”আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি (Alhamdulillah, I’m ok)” অথবা বলুন- “Alhamdulillah, I am great”.

এ শব্দগুলির আপনার উপর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। দেখবেন শব্দগুলির ব্যবহারে আপনি ভাল বোধ করবেন।

সবসময়ই ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক শব্দ ব্যবহারের কথা স্মরণ রাখুন। জীবনের সকল ক্ষেত্রে পুনঃ পুনঃ ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক শব্দের ব্যবহার করতে করতে আপনি সমর্থ হবেন সচেতনভাবে নেতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক শব্দের ব্যবহার এড়িয়ে চলতে। আর এর মাধ্যমেই আপনার জীবন ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

৩য় পদক্ষেপ: ইতিবাচক মানুষের মত কাজ করুন (act like a positive person): সাধারণত আপনি কোন কাজকে জাল করতে পারেন না। আমরা সবাই সত্যিকার হাসি ও মিথ্যা হাসির পার্থক্য জানি। সুতরাং যখন আপনি প্রথম দুই পদক্ষেপে বা ধাপে অভ্যস্থ হয়ে উঠবেন, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং সরাসরি তৃতীয় ধাপে আপনার চিন্তা ও ইতিবাচক শব্দ ব্যবহারের ফল পেয়ে যাবেন।

তাই পরবর্তীতে যে মুহুর্তেই আপনি ইতিবাচক অনুভূতি কাজ করবে, সে মূহুর্তেই ইতিবাচক কিছু করে ফেলবেন। হাসুন, আশা দেখান, একটি সুন্দর কথা বলুন। একটি ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে অন্যের জীবনে কিছুটা হলেও উন্নয়ন ঘটান। ইনশাল্লাহ্ এটি আপনার চিন্তা চেতনার উপর একটি অবিশ্বাস্য প্রভাব সৃষ্টি করবে।

জেনে রাখুন, আপনি আপনার চিন্তা, কথা ও কাজের একটি সমষ্টিগত সত্ত্বা। এটিই সত্যিকার আপনার সংগা। তাই যখনই পরবর্তীতে আপনার খারাপ চিন্তা আসবে তখনই সতর্ক হোন যেন এটা আপনাকে কাবু করতে না পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *