যখনই আপনি ওজন কমানোর কথা ভাবেন তখন প্রাথমিক ভাবে যে দু’টি বিষয় আপনার মনে আসে তা হলো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও শরীর চর্চা। নিশ্চয়ই এদু’টো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওজন কমানোর আরো কিছু টেকসই কৌশল আছে।

অনেক মানুষই ওজন কমানোকে অতি সাধারণ বিষয় ভাবেন। ”কম খাও ও অধিক পরিশ্রম করো (Eat less and workout more)”- এভাবেই সকল ডায়েট প্রোগামের প্রচারণা চালানো হয়।

কিন্তু কম খেলে ও শরীর চর্চা করলে অবধারিতভাবে টেকসই ওজন হ্রাস করা যায়না। ডায়েট করলে আপনি কিছু ওজন হারাতে পারেন একথা সত্য। কিন্তু কয়েকমাসের মধ্যেই আপনি হারানো ওজন ফিরে পাবেন।

ওজন হ্রাস করে তা ধরে রাখার ব্যাপারে আপনার ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকলে বিষয়টিকে অবশ্যই holistically দেখতে হবে।

এই পোষ্টে না জানা ৪টি কৌশল উল্লেখ করবো যা অনুসরণ করলে আপনি স্বাভাবিক ওজন ধরে রাখতে পারবেন এবং আপনার স্বাস্থ্যেরও সার্বিক উন্নতি হবে।

সিক্রেট # ১: মানসিক চাপ কমানঃ ওজন কমানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর কৌশল এটি।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও উদ্বিগ্নতা ওজন কমতে বাঁধা দেয়। খুব বেশী মানসিক চাপে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। গবেষণা বলছে, উচ্চমাত্রার কর্টিসল স্তর শরীরের অতিরিক্ত চর্বিকে কঠিন করে তোলে। ফলে ওজন হ্রাসের পরিবর্তে ওজন বৃদ্ধিই পেতে থাকে।

অতিরিক্ত কর্টিসল ক্ষুধাও বাড়িয়ে দেয়। একারণে অধিক খাদ্য গ্রহণের জন্য তীব্র আকাংখা সৃষ্টি হয়।

সুতরাং আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন। মানসিক চাপ কমাতে আল্লাহ্ কে অধিক স্মরণ করুন, নিয়মিত প্রার্থনা, মেডিটেশন ও শরীরচর্চা করুন। রাসুল (সঃ) এর প্রতি বেশী বেশী দরুদ ও সালাম প্রেরণ করুন।

রাসুল (সঃ) বলেছেন, মহান আল্লাহ মুমিনগণকে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর মহান নবীর (ﷺ) উপর সালাত (দরুদ) ও সালাম পাঠ করতে। সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এ সকল ফযীলতের মধ্যে রয়েছে:

(১). সালাত ও সালাম পাঠকারীর উপর আল্লাহ নিজে সালাত (রহমত) ও সালাম প্রেরণ করেন। একবার সালাত (দরুদ) পাঠ করলে মহান আল্লাহ সালাত পাঠকারীকে ১০ বার সালাত (রহমত) প্রদান করবেন, তার ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন, ১০টি সাওয়াব লিখবেন এবং ১০টি গোনাহ ক্ষমা করবেন। একবার সালাম পাঠ করলে আল্লাহ তাকে ১০ বার সালাম জানাবেন।

(২). সালাত বা দরুদ পাঠকারী যতক্ষণ দরুদ পাঠে রত থাকবেন ততক্ষণ ফিরিশতাগণ তার জন্য দোয়া করতে থাকবেন। একবার সালাত (দরুদ) পাঠ করলে আল্লাহ এবং তাঁর ফিরিশতাগণ তাঁর উপর সত্তর বার সালাত (রহমত ও দোয়া) করবেন।

(৩). সালাত ও সালাম পাঠকারীর সালাত ও সালাম তার পরিচয়সহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছান হবে।

(৪). রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে সালাত পাঠকারীর জন্য দোয়া করবেন।

(৫). দরুদ পাঠ কেয়ামতে নবী (ﷺ)-এর শাফায়াত লাভের ওসীলা।

(৬). মহান আল্লাহ সালাত (দরুদ) পাঠকারীর দোয়া কবুল করবেন এবং সকল দুনিয়াবী ও পারলৌকিক সমস্যা মিটিয়ে দেবেন।

‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ’ এটুকু কথা হলো দরুদের ন্যূনতম পর্যায়। এর সাথে ‘সালাম’ যোগ করলে সালামের ন্যূনতম পর্যায় পালিত হবে। যেমন, ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও সাল্লিম’। অথবা ‘সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদিও ওয়া সাল্লামা।’ সহীহ হাদীসে দরুদ পাঠের জন্য দরুদে ইবরাহিমী ও ছোট বাক্যের দুই একটি দরুদ পাওয়া যায়।

সিক্রেট # ২: পর্যাপ্ত ঘুমানঃ আপনি পর্যাপ্ত না ঘুমালে ধরে নেয়া হবে স্বাস্থ্য রক্ষায় আপনি যথেষ্ট করছেন না।

Nutrition & Diabetes বিয়ষক একটি জার্ণালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে যারা রাতে ৫ ঘন্টার পরিবর্তে ৮ ঘন্টা ঘুমান তাদের ৫৬% অধিক চর্বি হ্রাস পায়। ঐ গবেষণায় ২ স্টাডি গ্রুপকে একই খাবার দেয়া হয়েছিল।

সুতরাং ঘুমের ব্যাপারে যে সহজ সত্যটি আপনার জানা উচিত তা হলো- শরীরের অধিক চর্বি থাকার জন্য অল্প ঘুম অনেকাংশে দায়ী। তাই যদি সত্যিকারে আপনি ওজন হ্রাস করতে চান এবং এ বিষয়ে বাঁধাটিকে সনাক্ত করতে চান, তবে আপনার ঘুমের ধরণটিকে মনিটর করুন এবং ভালভাবে ঘুমান। প্রতিদিন অন্তত: ৭ ঘন্টা ঘুমানোর টার্গেট রাখুন।

সিক্রেট # ৩: এ্রকাগ্রতা বা মনোযোগের সাথে খাবার গ্রহণ করুনঃ

এর অর্থ আপনি কি খাচ্ছেন ও কিভাবে খাচ্ছেন সেদিকে মনযোগ দিন। খাবারের স্বাদ, গন্ধ উপভোগ করুন, খাবারের গঠন বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করুন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপনার প্রতিটি লোকমা খাদ্যের জন্য মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

মনোযোগ সংযোগে খেতে হলে কিছু কাজ করা যাবেনা যেমন- টেলিভিশন দেখা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা বা লেখাপড়া। গবেষণা বলছে, খাওয়ার সময় টিভি দেখলে স্বভাবতই ৩০% অধিক খাদ্য গ্রহণ করা হয়। অতএব কিভাবে খাচ্ছেন সেটিও কি খাচ্ছেন তার মতই গুরুত্বপূর্ণ।

একাগ্রতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী ধারণা। দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতাও এর উপর অনেকাংশে নির্ভর করে।

সিক্রেট # ৪: মানসিকতার পরিবর্তন করুনঃ

“Whether you think you can, or you think you can’t–you’re right.” ― Henry Ford

এই উদ্ধৃতি দ্বারা মূলত: আমাদের মনোভাব বা মানসিকতার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।

আপনি যদি বিশ্বাস করেন যে, আপনি ওজন কমাতে পারবেন এবং আপনি এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হন, তখন এই ইতিবাচক চিন্তা আপনাকে গঠনমূলক আচরণ করতে সহায়তা করবে, আপনার প্রেরণা ও শক্তির মাত্রাকে বৃদ্ধি করবে।

অপরপক্ষে, নেতিবাচক চিন্তা যেমন- ”আমি কখনও ওজন কমাতে পারবোনা” আপনাকে সুস্থ ও চর্বিহীন স্বাস্থ্যে উত্তরণ ঘটাতে এবং তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত করবে।

প্রশ্ন হচ্ছে- চর্বিহীন ও সুস্থ শরীর অর্জনের জন্য আপনি আজ কোন গোপন রহস্যটি বাস্তবায়ন করবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *