গোটা বা পূর্ণ খাদ্যের উপকারীতাঃ

আপনি কি আপনার কোলেষ্টেরল লেভেল কমাতে চান? টাইপ-২ ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমাতে চান? অতিরিক্ত শারীরিক ওজন হ্রাস করতে চান? ওপরের যেকোন প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হলে এ লেখাটি আপনার জন্যই।

মুল আলোচনায় যাবার আগে পাঠকদের একটি প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দেই। তা হলো: ”আপনি যা খান আপনি তাই” (you are what you eat)। সংক্ষেপে এর ব্যাখ্যা দাড়ায় – যে খাদ্যই আপনি গ্রহণ করেন না কেন, আপনার শরীর ও মনের উপর তার নিশ্চিত ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব আছে।

আজ লিখবো গোটা বা পূর্ণ খাবারের গুণাবলী নিয়ে। আলোকপাত করবো কিভাবে গোটা খাদ্য (Whole Foods) আপনাকে স্বাস্থ্যবান করে তার উপর।

গোটা বা পূর্ণ খাদ্যের (whole food) উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করার আগে জেনে নেই গোটা খাদ্য বলতে কি বুঝি।

সেই খাদ্যই গোটা বা পূর্ণ খাদ্য যা অনেকটা প্রাকৃতিক অবস্থায় খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং যার পুষ্টিগুন অনেকাংশে প্রাকৃতিক খাবারের কাছাকাছি। গোটা খাবার যতটুকু সম্ভব কম মাত্রায় পরিশোধিত বা রিফাইন করা হয়, নিবিড়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্যাকেটজাত করা হয়না। এ জাতীয় খাদ্য শরীর সহজেই গ্রহণ করে। এগুলি কোন অভিনব বা ফ্যান্সি প্যাকেজে থাকেনা এবং সামান্য সময়ের জন্য থাকলেও তাতে কোন উপাদানের তালিকা (ingredient lists) সংযুক্ত থাকেনা। উদাহরণ হিসেবে টাটকা শাক-সবজী, ফল-মুল, বাদাম, মাংশ, মাছ, সমগ্র শস্য (whole grains), শীম জাতীয় খাদ্য (legumes) ইত্যাদির কথা উল্লেখ করা যায়।

এখানে সংক্ষিপ্তাকারে whole food এর ৫টি উপকার বা গুনের কথা উল্লেখ করা হলো। আশাকরা যায় এই উপকারের তালিকাটি আপনাকে এজাতীয় খাদ্যগ্রহণে অনুপ্রানিত করবে। যার ফলে আপনি এ খাদ্যগুলি নিয়মিতভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে শুরু করবেন।

১. গোটা খাদ্যে উপকারী ফাইবার থাকেঃ এ খাদ্যে প্রচুর পরিমানে আঁশ বা ফাইবার থাকায় চর্বিহীন ও সুস্থ জীবনের জন্য খাদ্যতালিকায় এই ফাইবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য খেলে আপনার রক্তের শর্করা, চর্বি বা লিপিড কমে যাবে। সাথে সাথে আপনার ওজনও হ্রাস পাবে। সর্বোপরি, খাদ্যে এই ফাইবার আপনার অন্ত্রকে সুস্থ রাখবে। এ জাতীয় খাদ্য নিয়মিত আপনার কোষ্ঠ পরিষ্কার রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আপনি আমার সাথে একমত হবেন যে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে ”আপনার পেট খালি করা” আপনার ”পেট পূর্ণ করার” চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

২. গোটা খাদ্যে ভিটামিন ও খনিজের প্রাচুর্য আছেঃ সর্বাধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন- পিজা, বার্গার, ডোনাট, ইনস্ট্যান্ট ফুড ইত্যাদি যদিও উচ্চ ক্যালরিযুক্ত কিন্তু এদের পুষ্টিমান অতি সামান্য। খাদ্য বেশী প্রক্রিয়াজাত করলে এর ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য উপকারী উপাদানগুলি হ্রাস পায় বা হারিয়ে যায়।  পুরো খাদ্য পছন্দ করার অর্থ আপনি আপনার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান এর মাধ্যমেই পাবেন।

৩. পুরো খাদ্যে আছে আপনার জন্য ভাল Phytonutrients: এই Phytonutrients এর বৈজ্ঞানিক ধারণাটি অতি সাম্প্রতিক। গত ১০-১৫ বছরে বিজ্ঞানীরা Phytonutrients এর মধ্যেই phytochemicals এর উৎস সনাক্ত করেছেন যা আল্লাহর ইচ্ছায় টিউমার কোষ দমন করতে সাহায্য করে। এই phytonutrients অনুকূল সেলুলার ফাংশন এবং এদের আন্ত: যোগাযোগের জন্য অপরিহার্য। অতএব, এটি অধিক হারে গ্রহণ করার অর্থ আপনি অনেক আধুনিক রোগের বিরুদ্ধে আপনার ”সুরক্ষা প্রাচীর (protection wall)” কে শক্তিশালী করছেন। phytochemical যৌগের সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারীতা অনেক। আপনার ক্ষতিকর এলডিএল কলেস্টেরল হ্রাস করার জন্য, কোষের ক্ষতিসাধন হ্রাস ও এর উন্নতি সাধনের জন্য এবং সর্বোপরি আপনার স্বাস্থ্য রক্ষার্থে ও এর উন্নতিতে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের উপকারীতা নিশ্চিত করার জন্য আপনি চেষ্টা করুন আপনার দৈনন্দিন খাবারে হরেক রকমের শাক-সবজী ও ফল-মুলের পরিমাণ বাড়াতে।

৪. গোটা খাদ্য সকল পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে প্রাকৃতিক সমন্বয় ও মিথষ্ক্রিয়া সাধন করেঃ কখনও কখনও আমরা একটি নির্দিষ্ট ভিটামিনের বা phytochemical এর স্বাস্থ্য বেনিফিটের উপর ফোকাস করি যাতে করে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু মিস করি: একটি একক খাদ্যের নানা উপাদান স্বাস্থ্যের উপকারের জন্য একসাথে কাজ করে, সেভাবে নানা খাবারের বিভিন্ন উপাদান একসাথে গ্রহণ করলে একই ঘটনা ঘটে। আমরা জানি যে, কিছু সংখ্যক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন ই যুক্ত গোটা খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সার্বিকভাবে উপকারী। আপনি পুরো-গম থেকে যে স্বাস্থ্যকর ভিটামিন ও অন্যান্য উপাদান পান সেটি সাদা আটা-ময়দা (enriched white flour) হতে পাওয়া সম্ভব নয়।

৫. গোটা খাদ্য অধিক ক্যালরি বার্ণ করেঃ গবেষণায় দেখা গেছে যে, ‘প্রক্রিয়াজাত খাদ্য (processed-food)’ হজমে ‘পুরো-খাদ্যের (whole-food)’ তুলনায় প্রায় 50% কম শক্তির প্রয়োজন হয়। অন্য কথায় আপনার শরীর অধিক ক্যালরি ব্যয় করে পুরো খাবার পরিপাকের জন্য। তাই পুরো খাবার আপনার শরীরের জন্য একটি জয়-জয় অবস্থার (win win situation) সৃষ্টি করে – শরীর প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টিও পায় এবং তা পরিপাক করতেও অধিক ক্যালরি খরচ করে। আলহামদুলিল্লাহ!

এভাবেই গোটা খাবার ক্ষতিকর কোলেষ্টেরল লেভেল কমিয়ে রাখে, ডায়বেটিস টাইপ-২ এর ঝুঁকি কমায় এবং শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে।

Dr. Benojir is trained by world’s best homeopath Prof. George Vithoulkas. Click to see the whole list of Homeopaths worldwide

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.