হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রোগীর রোগলক্ষণসমষ্টির উপর নির্ভর করে; ল্যাব রিপোর্টের উপর নয়। সুতরাং ডায়গনসিস পরিষ্কার হওয়ার পূর্বে বা রোগ কার্যগত স্তর (functional level) হতে কাঠামোগত স্তরে (structural level) স্থানান্তর হবার পূর্বে হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার অত্যন্ত সফলভাবে রোগীর চিকিৎসা করতে পারেন বা রোগটির কাঠামোগত পরিবর্তনকে রোধ করতে পারেন। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ডায়গনসিসে যদি কোন নির্দিষ্ট রোগ না পাওয়া যায় তবে ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট ছুড়ে ফেলা হয়, রোগীকে স্বাভাবিক মনে করা হয় অথবা তার রোগ একটি মানসিক বিষয় বলে চালিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু যখন রোগ কাঠামোগত স্তরে প্রবেশ করে (কিডনী, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ইত্যাদির অস্বাভাবিক কাঠামোগত পরিবর্তন হয়) এবং ল্যাব টেষ্টে মারাত্মক প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন দেখা যায় তখন রোগীকে অনারোগ্য (incurable) হিসেবে লেবেল লাগিয়ে দেয়া হয়। এ পর্যায়ে আধুনিক এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। অনারোগ্য রোগের তালিকা প্রতিদিন দীর্ঘতর হচ্ছে।

একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যেমন ধরুন, একজন রোগী অত্যন্ত বুদ্ধিমান, কিন্তু খিটখিজে মেজাজের এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে আধিপত্যবিস্তার করতে পছন্দ করেন। রোগী উচ্চাভিলাষী কিন্তু স্নায়বিকভাবে দুর্বল এবং সদা উদ্বিগ্ন। তার হজমক্রিয়ায় সমস্যা আছে এবং পেটে গ্যাস হয়; এমনকি সামান্য আহারেও পাকস্থলীতে গ্যাস জমে। রোগী আটোসাটো পোষাক পরতে পারেননা বিশেষতঃ কোমরে বেল্ট পরতে পারেন না। তিনি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন। ঘন ঘন প্রস্রাব হচ্ছে। তিনি গরম খাবার ও পানীয় পছন্দ করেন। তিনি যৌন দুর্বলতায় ভুগছেন বলে জানান।

এই স্তরে রোগীর রোগ কার্যগত স্তরে গতিশীল। এখনো পর্যন্ত কোন কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি। তথাকথিত সকল ল্যাবটেস্ট রিপোর্ট নরমাল পাওয়া গেছে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এ রোগীকে জোলাপ (laxative) এবং ঘুমের ঔষধ (tranquillzer) দেয়া হবে। যা কখনো রোগীকে আরোগ্য করেনা বরং রোগলক্ষণ চাপা দিয়ে রোগীর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে কাঠামোগত পরিবর্তন সাধন করে। যেহেতু এখানে সুনির্দিষ্ট কোন রোগ ডায়াগনসিস হয়নি, তাই আধুনিক ডাক্তার রোগীকে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা দেননি।

কয়েক বছর পর ঐ রোগী পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া ও প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন এবং রাতে ক্ষুধার অনুভূতি নিয়ে রাতে প্রতিনিয়ত ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তিনি জ্বালকর ঢেঁকুর তোলেন। এখন তার কোষ্ঠকাঠিন্য মারাত্মক রূপ নিয়েছে। তিনি পুরুষত্বহীন হয়ে পড়েছেন। তার প্রস্রাবে লাল বালুকণা দেখা যাচ্ছে। এখন নতুন করে ল্যাব টেস্ট করিয়ে দেখা গেল রোগীর পাকস্থলীতে আলসার এবং কিডনীতে পাথর ধরা পড়েছে। আধুনিক চিকিৎসায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে সার্জারীর পরামর্শ দেয়া হলো। তার পূর্বের চিকিৎসা তাকে তার রোগ কার্যগত স্তরে ধরে রাখতে বা আরোগ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ রোগলক্ষণাবলী কাকে বলে এবং তা দিয়ে কিভাবে রোগ আরোগ্য করতে হয় তা আধুনিক ডাক্তার জানতেন না।

প্রখ্যাত হোমিওপ্যাথ ডাক্তার কেন্ট তাই ব্যঙ্গ করে বলেছেন, “সনাতন স্কুল অব মেডিসিন (এ্যালোপ্যাথি) কে অবশ্যই রোগীর ব্যবস্থাপত্র দেয়ার আগে রোগীর প্যাথলজি জানতে হবে; আর প্যাথলজির জ্ঞান অর্জন করতে তাদের রোগীর ময়না তদন্ত (post mortem) করতে হয়!!” হায় আধুনিক চিকিৎসা!!!

হোমিওপ্যাথি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি শুধুমাত্র রোগীর কাঠামোগত পরিবর্তন বা রোগের চিকিৎসা করে না বরং কার্যগত পর্যায়ে রোগটি আরোগ্য করে কাঠামোগত পরিবর্তন রোধ করে। হোমিওপ্যাথিতে উল্লেখিত রোগীকে উপযুক্ত মাত্রা ও শক্তিতে উপযুক্ত ঔষধ (এক্ষেত্রে লাইকোপডিয়াম) সেবন করানো গেলে রোগী সকল দিক হতে পূর্ণ আরোগ্য লাভ করতেন। রোগীকে প্রাথমিক পর্যায়ে ঐ ঔষুধ সেবন করালে রোগটি আর আজকের মত কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটাতো না অর্থাৎ রোগীর আর কিডনী পাথর বা পাকস্থলীর আলসার হতো না। হোমিও ঔষধে রোগীর মানসিক লক্ষণাবলী, তার পাকস্থলী ও প্রস্রাব সংক্রান্ত লক্ষণাবলীর সমষ্টি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চমৎকার আরোগ্য সাধিত করেছে।

ডা. বেনজীর আহমেদ একজন কনসাল্টেন্ট হোমিওপ্যাথ। বিশ্বখ্যাত হোমিওপ্যাথ প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাসের নিকট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বিশ্বব্যাপী প্রফেসর জর্জের নিকট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হোমিওপ্যাথের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.