মানুষের স্বাস্থ্য হলো মানুষের সেই অবস্থা যখন তার দেহের প্রতিটি কোষ, প্রতিটি কলা, প্রতিটি অংগ যার যার নির্ধারিত কাজ পরস্পরের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রেখে এমন স্বাভাবিক ও সুচারুরূপে সম্পন্ন করে যে মানুষের চৈতন্যময় সত্তা তার অংগপ্রত্যংগের পৃথক অস্তিত্বের কথা উপলব্ধি করতে পারে না। কেবল আমি আছি এই বোধটি বর্তমান থাকে। জীবনস্রোত (vital current) স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাবিত হয়, হৃদয় স্পন্দিত হয়, ফুসফুসের সংকোচন ও প্রসারণক্রিয়া বিরামহীনভাবে তালে তালে চলে, অন্ত্রে চলে ছন্দোময় আলোড়ন। চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা ইত্যাদি পঞ্চেন্দ্রিয় আপন আপন কাজ ত্রুটিহীনভাবে সম্পন্ন করে। সেই ছন্দোময় অনুকুল পরিবেশে ব্যক্তিমানুষ সচেতনভাবে মনের কাজ চালিয়ে যায়। ফলে চিন্তাধারা স্বাভাবিকভাবে ও যুক্তিসংগত পথে প্রবাহিত হয় ভাবাবেগ, পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুয়ায়ী স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া করে। আর ব্যক্তিমানুষের সামগ্রিক সত্তা সজীবতায়, স্বাচ্ছন্দ্যে ও সাবলীলায় স্পন্দিত হয়, একটা সার্বিক ভালোলাগা বোধ সর্বত্র বিরাজ করে। এটাই স্বাভাবিক সুস্থাবস্থা, পরিপূর্ণ সুখ ও শান্তিভোগের অবস্থা। এটাই সুস্থাবস্থা। হোমিওপ্যাথির জনক ডা. হ্যানিম্যান বলেন, ”মানুষের সুস্থাবস্থায় তার অতীন্দ্রীয় জীবনীশক্তি (the spiritual vital force) তার জড়দেহকে সঞ্জীবিত রাখে, অসীম ক্ষমতায় নিজের কর্তৃত্ব প্রকাশ করে এবং প্রাণক্রিয়া সম্পাদনের জন্য দেহতন্ত্রকে সকল অংশের কর্মক্ষমতা ও অনুভবশক্তি সুন্দর ও সুসামঞ্জস্যভাবে বজায় রাখে যার ফলে আমাদের চিন্তাশীল বিবেকযুক্ত মন এই সুস্থ জীবন্ত দেহযন্ত্রটিকে জীবনের মহত্তর উদ্দ্যেশ্য সাধনের নিমিত্ত স্বাধীনভাবে নিয়োজিত করতে পারে।”

মানুষ যতক্ষণ জীবনধারণের প্রাকৃতিক নিয়মগুলি মেনে চলে, যতক্ষণ সে অনুকুল পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে বাস করে, ততক্ষণ জীবনীশক্তির ক্রিয়াধারাও অব্যাহত থাকে। কিন্তু মানুষ যখন প্রাকৃতিক নিয়ম ভংগ করে, কিংবা প্রতিকুল পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে থাকে, কিংবা কোন বিরূপ প্রভাব বা শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন জীবনীশক্তির স্বাভাবিক ক্রিয়াধারা ব্যাহত হয়। প্রতিকুল অবস্থা থেকে মুক্ত হবার জন্যে মানুষের প্রাণসত্তা (life principle) তার সমস্ত শক্তি সংহত করে এবং যত শীঘ্র সম্ভব আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করে। যদি বাইরের বিরূপশক্তি প্রাণসত্তার উপর বিশেষ কোন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে তবে আমরা দেহে ও মনে বিশেষ কোন প্রতিক্রিয়া অনুভব করিনা। কিন্তু যদি এই বিরোধী শক্তির প্রভাবে প্রাণসত্তা অভিভূত বা পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে তখন জীবনীশক্তির সহজ, সরল ও সাবলীল গতি ব্যাহত হয়। দেহতন্ত্রের ভারসাম্য (equilibrium) নষ্ট হয়ে যায়। প্রাণক্রিয়ায় নানারকম বিশৃংখলা দেখা দেয়। দেহে ও মনে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত হয়, কষ্ট হয়। আমরা তখন অসুস্থ বোধ করি।  এটাই রুগ্নাবস্থা।

ডা. বেনজীর বিশ্বখ্যাত হোমিওপ্যাথ প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাসের নিকট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বিশ্বব্যাপী প্রফেসর জর্জের নিকট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হোমিওপ্যাথের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *