Evaluation of symptoms in Homeopathy: অনেক সফল হোমিওপ্যাথের মন্তব্য – রোগীর লক্ষণাবলী সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে পারাটাই ৫০% সাফল্য বা সাফল্যের পথে ৫০% এগিয়ে যাওয়া। আজ আলোচনা  করবো রোগলক্ষণাবলী সংগ্রহ করার পর আমরা একটি উপযুক্ত মেডিসিন খুঁজে পাবার জন্য লক্ষণাবলীকে কিভাবে মূল্যায়ন করি তা নিয়ে। হোমিওপ্যাথিক কেস এ্যানালাইসিসের উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে প্রতিটি রোগীকে একটি স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিচার করা বা প্রতিটি রোগীর জন্য স্বাতন্ত্র্যসূচক লক্ষণের (distinctive symptoms) অনুসন্ধান করা যার মধ্যে কিছু অদ্ভুত (peculiar) ও তীব্র (intense) লক্ষণ থাকে। এই অনুসন্ধানে আমাদের প্রায়ই রোগীর রোগের কিছু সম্ভাব্য কারণকে (possible causative factor) বিবেচনায় রাখতে হয়।

রোগীর এই স্বাতন্ত্র্যসূচক লক্ষণাবলী তার প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি অনন্য (unique) ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে যার মাধ্যমে আমরা দৃশ্যত একই জাতীয় রোগীদের মধ্যে পার্থক্য বিচার করি। সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার জন্য যা অপরিহার্য।

কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে এমন কিছু তীব্র লক্ষণ পাওয়া যায় যাদের কোনভাবেই অবজ্ঞা করা চলেনা। তীব্রতার কারণেই সেগুলি স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যযুক্ত। একিউট ও ক্রণিক উভয় রোগীর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটতে পারে। একিউট রোগীর ক্ষেত্রে একটি উদাহরণ যেমন – তীব্র টনসিলের প্রদাহ যেখানে আমরা দেখতে পাই টনসিল প্রচন্ড ফুলে গেছে, প্রচন্ড তাপ ও স্পন্দনসহ গলার ভেতর লাল হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আমরা সচরাচর বেলেডোনা নামক ওষুধ প্রয়োগ করি। কারণ ওষুধটি পরীক্ষাকালীন ঠিক ঐ জাতীয় প্যাথজেনিক উপসর্গ উৎপাদন করেছে। ক্রণিক কেসে উদাহরণস্বরূপ  উচ্চ রক্তচাপের (hypertension) কথা বলা যায় যেখানে মুখে তীব্র congestion বা রক্তজমাভাব দেখা যায়। এক্ষেত্রে আমরা অন্য সকল লক্ষণাবলীকে নাকচ করে অনেক সময় amylenum  nitrosum নামক ওষুধ প্রয়োগ করি। লক্ষণাবলীর তীব্রতা নির্ণয়ের আরো উপায় আছে যেমন- লক্ষণাবলী কত পুন: পুন: দেখা দেয়। লক্ষণাবলী যত ঘন ঘন ঘটবে তা ততো তীব্র ও গুরুত্বপূর্ণ।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সেই জ্ঞান অর্জন করার উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত যার মাধ্যমে রোগীর স্বাতন্ত্র্যসূচক লক্ষণ খুঁজে পাওয়ার জন্য তার তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি ও গভীর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা অর্জিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, অতীতের সকল সফল হোমিওপ্যাথের এই সামর্থ ও অন্তর্দৃষ্টি ছিল। এই সামর্থ অর্জনের একটি সহজ উপায় হলো অভিজ্ঞ ও সফল হোমিওপ্যাথদের কেসগুলি অধ্যয়ন করা এবং তাদের কেস এ্যানালাইসিসের ধরণ ও কৌশল বুঝতে চেষ্টা করা।

স্বাতন্ত্র্যসূচক লক্ষণাবলী পাওয়ার জন্য আমাদের মূলত ৩টি বিষয় অনুসন্ধান করতে হয়ঃ

  1. অদ্ভুত লক্ষণাবলী (peculiar symptoms): এই রোগলক্ষণগুলি সত্যিকার অর্থেই অদ্ভুত। রোগীর ব্যাকগ্রাউন্ড যেমন – বয়স, ধর্ম, বেড়ে ওঠা, সংস্কৃতি দ্বারা এগুলোকে সর্বদা ব্যাখ্যা করা যায়না। অথবা রোগীতে বর্তমানে বিদ্যমান শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ থেকেও সেগুলি জানা যায়না। তারা রুগ্ন ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন কিছু অনন্য ও স্বতন্ত্র্য প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে যাতে করে রোগী একইজাতীয় অন্য রোগী হতে নিজেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রদর্শণ করে। এই উপসর্গগুলি কখন কখনও বিরল (rare) হতে পারে যেমন, চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণের সময় বিবমিষা বা বমি বমি ভাব, অথবা ঠিক ভোর ৪:০০টায় মাথাব্যথা (বামচোখের ঠিক উপরে)। অনেক সময় অদ্ভুত উপসর্গের সন্ধান পাওয়া যায় ব্যাখ্যা করা যায়না এমন উপসর্গ হতে বা আজব/অপরিচিত উপসর্গ বা বিরল লক্ষণাবলী হতে।

  2. তীব্র লক্ষণাবলী (intense symptoms): লক্ষণের আতিশয্য বা তীব্রতার জন্যই এ জাতীয় উপসর্গ গুলি স্বতন্ত্র্য হয়ে ওঠে। এরা সচরাচর প্যাথলজি ওরিয়েন্টেড এ্যানালাইসিসের অন্তর্ভূক্ত। এদের একিউট ও ক্রণিক উভয় রোগে লক্ষ্য করা যায়। যদিও উপসর্গগুলি অদ্ভুত নয়, তবুও এগুলি খুব শক্তিশালী হওয়ার কারণে আমরা এদের অগ্রাহ্য করতে পারিনা। উদাহারণস্বরুপ, মাথাব্যথায় ভোগা অধিকাংশ রোগী চুপচাপ থাকতে পছন্দ করেন অর্থাৎ খুব একটা ঘোরাঘোরি পছন্দ করেননা। কিন্তু মাঝে মধ্যে ঘোরাঘুরি বা গতিজনিত কারণে (motion) মাথাব্যথার তীব্রতা এতটা বৃদ্ধি পায় যে তা একটি মূল্যবান উপসর্গে রুপান্তরিত হয়। এমনকি সামান্য চোখ ঘোরালে বা চোখের পাতা ফেললেও (winking)  মাথাব্যথার তীব্রতা বাড়ে। এজাতীয় উপসর্গের তীব্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক শক্তিশালী হওয়ায় মূল্যায়ন করা হয়। যখন রোগীতে এমন অদ্ভুত উপসর্গ না পাওয়া যায় তখন আমরা প্যাথলজিভিত্তিক বিশ্লেষণ (pathology oriented analysis) করি। এজন্য আমরা শক্তিশালী, সবচেয়ে তীব্র উপসর্গগুলি ব্যবহার করি।

  3. কার্যকারণ উপসর্গ (causal symptoms): এই তথ্যগুলি তখনই ব্যবহার করা হয় যখন রোগীর অভিযোগের সাথে কার্য-কারণ সম্পর্কের স্পষ্ট সংযোগ থাকে। অস্পষ্ট কার্য-কারণ সম্পর্ক বা নিজস্ব জল্পনা-কল্পনার (speculation) উপর ভিত্তি করে কখনও প্রেসক্রাইব করা যুক্তিযুক্ত নয়। কিভাবে আমরা জানবো কার্য-কারণ সম্পর্ক স্পষ্ট কিনা? এর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো লক্ষণাবলীর কালানুক্রমের (chronological symptoms) অনুসরণ করা। কিছু কিছু উপসর্গ স্পষ্টভাবে কোন না কোন কার্যকারণ ফ্যাক্টরের জন্যই সৃষ্টি হয়। যেমন – দুর্ঘটনার পর থেকেই মাথাব্যথা বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হবার পর থেকেই অতিশয় দুর্বলতা। একথা ঠিক যে রোগী সব সময় এসকল বিষয়ে সচেতন থাকেনা। সেকারণে হোমিওপ্যাথ আবশ্যিকভাবে রোগীর ব্যক্তিগত মেডিক্যাল হিস্ট্রি সম্পর্কে রোগী ও তার আত্মীয়-স্বজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান করবেন। এগুলিকে কালানুক্রমে লিপিপদ্ধ করার পর যথাযথ মূল্যায়ন করে একটি সঠিক ওষুধের অনুসন্ধান করবেন।

এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় একই জাতীয় রোগীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের পরিবর্তে তাদের মধ্যে সাদৃশ্যকে মূল্যায়ন করা হয়। ফলে আরোগ্যের পরিবর্তে রোগলক্ষণ চাপা পড়ে।

Dr. Benojir is trained by the world’s best homeopath. To see the list of homeopaths visit

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *