রোগীর বয়স ৪০, গৃহিনী। জরায়ুর টিউমার ধরা পড়ার পর স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ তাকে অবিলম্বে সার্জারী করতে বলেন। কিন্তু তিনি অপারেশনে রাজী না হওয়ায় হোমিও চিকিৎসা করাতে আসেন। তার লক্ষণাবলী নিম্নরুপঃ
ছোট বেলা হতে ত্বক প্রচন্ড রকমের শুকনো, তিনি বলেন এটি বংশগত, তার বাবার দিকের সবারই এমন অবস্থা। জরায়ু এলাকায় প্রচন্ড টেনেধরা ব্যথা, বিশেষত মাসিক চলাকালীন, ব্যথাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
তিনি রুটি ও আপেল খেতে পছন্দ করেন, ঠান্ডা পানীয়ে অনীহা, প্রতিদিন ৫-৬ গ্লাস পানি পান করেন, রোজ ৫-৬ কাপ চা পানের অভ্যাস। পায়খানা-প্রস্রাব স্বাভাবিক।
রোগী গরমকালে ভাল বোধ করেন। ঠান্ডাবাতাসে অনীহা, শরীর আবৃত রাখতে পছন্দ করেন। ঝড়-বৃষ্টি, স্যাতস্যাতে আবহাওয়া এবং এয়ারকন্ডিশনে ভাল বোধ করেন না।
প্রথম মাসিক হয় ১৩ বছর বয়সে। সাধারণত ২-৩ দিন থাকে, প্রতিমাসে কয়েকদিন পূর্বে বা পরে হয়ে থাকে। স্রাবের পরিমাণ অতি সামান্য। রং গাঢ় লাল, মাঝে মধ্যে জমাটবাধা। মাসিকের সময় টেনে ধরা ব্যথা অনুভব করেন। মাঝে মধ্যে তার সাদাটে হলুদ স্রাব হয়।
রোগী বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য ৩ বছর ধরে হরমোন থ্যারাপি গ্রহণ করেছেন যাতে কোন ফল হয়নি।
মায়ের হাইপোথাইরয়েডিজম আছে। বোন – ডিপ্রেশনে ভোগেন। বাবা – উচ্চমাত্রার কোলেষ্টেরল, ডায়াবেটিস মিলিটাসে ভোগেন। নানী পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ৬ বছর শয্যাশায়িত থেকে ৬৭ বছর বয়সে মারা যান। তার হাঁপানীর সমস্যাও ছিল। নানা লিভার সিরোসিসে ভুগে ৭৫ বছর বয়সে মারা যান। দাদা ৭২ বছরে হার্ট এ্যাটাক করে মারা যান। দাদী পাকস্থলীর ক্যান্সার ও কেমোথেরাপিজনিত জটিলতায় ৬৬ বছরে মারা যান। (অতএব রোগীতে বর্তমানে সোরা-সাইকোসিসের প্রাধ্যান্য অধিক যদিও তিনি মূলতঃ সোরা-সিফিলিটিক)
তিনি কোন কিছুতেই বিচলিত হতেন না। আর্থিক স্বচ্চলতার কারণে তিনি জীবনে যা চাইচেন তাই পেতেন। নতুন চাঁদ দেখা গেলে তিনি কোথাও বের হতেন না। কারণ এটিকে তিনি শুভ মনে করতেন না। অপ্রয়োজনে নতুন কাপড় ক্রয়ে তিনি অনেক অর্থ ব্যয় করতেন। যেখানে সেখানে টাকা-পয়সা ফেলে রাখার কারণে তার স্বামী তাকে কেয়ারলেস মনে করতেন। তিনি কারো যত্ন নিতেন না কারণ তার ধারণা সবাই প্রাপ্ত বয়ষ্ক, তাই যার যত্ন তারই নেয়া উচিত। তিনি ছিলেন লক্ষ্যহীন, সময় সম্পর্কে দ্বিধায় ভুগতেন বিশেষত ঘরের কোন কাজটি কখন করবেন বুঝে উঠতে পারতেন না। তিনি পারিপার্শ্বিক সবকিছুতেই খুব সংবেদনশীল ছিলেন। যেমন – তিনি সামান্য উগ্র গন্ধ সহ্য করতে পারতেন না, এতে তার মাথা ঘুরতো। কারো স্পর্শ পছন্দ করতেন না। তার স্বামী তার হাত ধরলেও হাতে ব্যথা করতো, মানুষের সংগ ভাল লাগতো না, কিন্তু যেহেতু তার একাকী থাকতে ভয় করতো তাই ধারে কাছে কেউ অবস্থান করুক এটা চাইচেন, মানে বাড়ীতে কেউ থাকলেই হলো। তার স্বামী জানান তার হিষ্টিরিয়ার সমস্যা ছিল এবং যা মাসিকের সময় বৃদ্ধি পেত। তার ডান পাশে শয়নে ঘুম ভাল হতো।
পর্যবেক্ষণঃ তিনি ব্যথা পাবেন মনে করে তার পালস্ চেক করার সময় তার হাত আলতোভাবে ধরতে বলেন। এতে তিনি হিষ্টিরিক্যাল বলে বোধ হয়। তিনি আরও বলেন, ”ওহ! আমার অনেক কিছুই করার আছে, এখানে অনেক ঠান্ডা, আমি জমে যাচ্ছি (কিন্তু এটা ছিল সূর্যকরোজ্জল একটি দিন), আমাকে এই ফাইব্রয়েড হতে বাঁচতে হবে, এটাই আসল”।
রোগীনির ভারী গড়ন, উচ্চতা- ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, ওজন ৭৫ কেজি, ত্বক-শুষ্ক, মুখে ও ঘাড়ে ছোট ছোট নরম আঁচিল ছিল।
চোখ, নাক, কান, টনসিল, গলায় কোন অস্বাভাবিক কিছু ছিলনা। দাঁত সামান্য হলুদাভ। পেটে অধিক চর্বিজমা।
তার শরীরের তাপমাত্রাঃ ৩৬.১ ডিগ্রী সে., রক্তচাপ ১৩২/৯০ mmHg. মিনিটে ১৪ বার শ্বাসগ্রহণ করেন।
আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টঃ ”Fibroid Uterus ”. Bulky uterus with few intramural fibroids, in anterior myometrium – few fibroids, largest measuring – 4 cm,
ডায়গনসিসঃ Uterine Fibroid
যে সকল রোগলক্ষণাবলী বিশ্লেষণ করা হয়ঃ
মানিসকঃ Heedless (careless+2), Hysteria+3
Confusion of mind+2, Superstitious+3, Aversion for company but fears to be alone+2
সাধারণ: Desires- apples+2, breads+3
Aversion to cold drinks+2
Thermal chilly+3
Particulars: Pain in uterus during menses, cramps+3
Nature of Disease – chronic
History of suppression – present
Pathology – reversible (পরিবর্তনযোগ্য)
Sensitivity of the individual – high
উপরোক্ত লক্ষণাবলী অনলাইন সফটওয়্যারে বিশ্লেষণ করে রোগীর সাথে খুব কাছাকাছি সাদৃশ্যযুক্ত ২টি ওষুধ পাওয়া যায় যা হলো- Conium and Sepia.
ওষুধ দুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায় Conium রোগীর লক্ষণাবলী সাথে অধিক সাদৃশ্যযুক্ত। এটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও বটে। সর্বশেষে এটি সুনির্দিষ্ট মাত্রায় প্রেসক্রাইব করা হয় এবং রোগীকে নিম্নোক্ত উপদেশ দেয়া হয়ঃ
নিয়মিত শরীর চর্চা, পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। চা পানের পরিমাণ ২ কাপে কমিয়ে আনতে হবে।
রোগী ৪টি ফলোআপের পর ৩ মাসের মাথায় পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেন।
মন্তব্যঃ এমন একটি রোগীর এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা একমাত্র সার্জারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.