অনেক সময় জরায়ুগাত্রে বা জরায়ু গহ্বরে নানা প্রকার টিউমার হতে পারে। এর আকার মটর কলাই হতে ২০ কেজি ওজন পর্যন্ত এবং সংখ্যায় এক হতে পঞ্চাশটি পর্যন্ত হতে পারে। কোন কোন টিউমার হতে পূঁজ বের হতে পারে আবার কোন কোন টিউমার হতে এই জাতীয় স্রাব নাও হতে পারে। এই জাতীয় টিউমার বা আব বা অর্বুদকে Fibroma or Myoma বলে।

কারণঃ টিউমার দুভাগে বিভক্ত – বিনাইন (benign) এবং ম্যালিগন্যান্ট (malignant)। বিনাইন টিউমার নানা প্রকারের হতে পারে। অতি ক্ষুদ্র হতে অতি বৃহৎ। অবস্থা সময় ভেদে এদের আকার ছোট বড় হয়। এই টিউমার কখনও মিউকাস কোটের উপর আবার কখনও সাবমিউকাস কোটের উপর হতে পারে। আবার কখনও বা মাসকুলার বা সাব সেরাস কোটের উপর হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার জননতন্ত্রের নানা স্থানে যেমন – জরায়ু, ডিম্বাশয়, ডিম্বনালী ইত্যাদিতে বেশী হয়। ম্যালিগন্যান্ট টিউমার হতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যানসার হয়। জরায়ুর উপর টিউমারকে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ভাষায় Fibro Myoma বলে। এ ধরনের টিউমার ফাইব্রাস টিস্যু এবং অনেকটা মাসকিউলার দুজাতের টিস্যুর মিলনে গঠিত হয় তবে এদের মধ্যে পেশীর টিস্যুই প্রধান।

লক্ষণঃ (১) আকার আলপিনের মাথার ন্যায় হতে আপেলের ন্যায় হতে পারে। (২) কেটে পরীক্ষা করলে সাদা দেখায়। উহাদের চারপাশে গোলাপী বর্ণ, কখনও নরম  fibroid দেখা যায়। (৩) অনবরত সাদা স্রাব হতে থাকে। ঋতুস্রাব অনিয়মিত, কখনও কম আবার কখনও বেশী। (৪) যোনির ক্ষমতা বা প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। (৫)রক্তহীনতার ভাব। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের জন্য এনিমিয়া হতে পারে। (৬) রক্ত প্রবাহের পরিবর্তনে কখনো কখনো Oedima বা লিম্ফের প্রবাহে বাধা, রক্ত প্রবাহে বাধার সৃষ্টি করতে পারে। (৭) টিউমার সাধারণত সারভিকসে বা জরায়ুমুখে কম হয়, জরায়ুতে বেশী হয়। ম্যালিন্যান্ট হতে ক্যানসার হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

টিউমারের স্বতন্ত্র চিকিৎসা বিজ্ঞানসম্মত নয়। রোগীর লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে নির্বাচিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবনে রোগী অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থায়ী আরোগ্য সুস্থ হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.