ফুসফুসের বায়ুবাহী নালীগুলো অতি ক্ষুদ্র পেশী দ্বারা সমাবৃত। ঐ পেশীর আক্ষেপবশত সমস্ত বায়ুবাহী নালীগুলো সংকুচিত হয় যার ফলে বাতাস চলাচল বাঁধাগ্রস্ত হয় এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এই অবস্থাকেই হাঁপানি বলে। এটি একপ্রকার স্নানবিক রোগ। সাময়িক আক্ষেপিক শ্বাসকষ্ট সহ বুকে চাপ ও কসে ধরা বোধ এবং সাঁই সাঁই শব্দ হলে তাকে হাঁপানি বা Asthma বলে।

কারণঃ
1. বংশগত কারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,
2. অতিশয় দুর্বলতা এবং নিশ্বাস বায়ুতে উপযুক্ত পরিমাণ অক্সিজেনের অভাব,
3. পুরানো ব্রংকাইটিস রোগ, বার বার এ রোগে আক্রান্ত হবার ইতিহাস,
4. রক্তে এসিনোফিল বৃদ্ধি পেলে,
5. ফুসফুস পেশীর আক্ষেপ হলে,
6. ফুসফুসের দুর্বলতা হেতু Air sac গুলোর ক্রিয়া শক্তি নষ্ট হলে,
7. ধুলোবালি, গুড়ো, উগ্রগন্ধ শ্বাসনালীর মধ্যে প্রবেশ হেতু,
8. শীতল জলীয় আর্দ্র বায়ু, আবহাওয়ার পরিবর্তন হেতু,
9. অজীর্ন, অতিরিক্ত আহার, অম্লেরোগ হেতু।

লক্ষণাবলীঃ
1. শ্বাসকষ্ট এবং মনে হয় বুক আটকে যাচ্ছে। রোগী শুয়ে থাকতে পারে না, উঠে বসতে বাধ্য হয়, কাশতে কাশতে অস্থির হয়ে পড়ে।
2. বুকের মধ্যে সাঁই সাঁই শব্দ করে, টেনে টেনে শ্বাস করতে হয়। বিছানায় উঠে বসে এবং উপুড় হয়ে সম্মুখ দিকে মাথা অবনত করে থাকে। কাশির উপক্রম হলে দম বন্ধ হবার উপক্রম হয়।
3. শুষ্ক কাশিতে কষ্ট বেশী, তরল হয়ে গয়ের বা শ্লেষ্মা উঠলে উপশম বোধ।
4. শ্বাসটানের সাথে সাথে পেটে প্রায়ই বায়ু জমে। টানের বৃদ্ধি হলে মাথা ধরা, বমি ভাব।
5. হাঁপানির সাথে অজীর্ন বা বাত রোগের লক্ষণ থাকতে পারে। গয়ের বা শ্লেষ্মা যত বেশী আঠালো বা শক্ত হবে রোগীর কষ্ট তত বেশী হবে। শুয়ে থাকলে কষ্ট বেশী। উঠে বসলে কিছুটা উপশম। উপশম লাভের জন্য কাঁধ দুটি উচু করে বালিশে ঠেস দিয়ে সোজা হয়ে বসে থাকতে চায়।
6. হাঁপানি রোগী সব সময় অসুস্থ থাকে না। টানের সময় কষ্ট পায়, টান কমে গেলে আবার সুস্থ বোধ করে। অনেক রোগীর অমাবস্যা-পুর্নিমায় বৃদ্ধি পায়।
7. রোগী বাতাস পেলে আরাম বোধ করে, এজন্য দরজা-জানালা খুলে রাখতে চায় বা পাখার বাতাস চায়।
প্রকারভেদঃ শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি সাধারণতঃ দুই প্রকার যথা- (১) spasmodic এবং (২) bronchial

রোগ নির্নয়ঃ (১) এক্স-রে দ্বারা পরীক্ষা করলে ফুসফুসের কোঠরগুলো জলীয় পদার্থে পূর্ণ দেখা যায়। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ব্যতিত প্রথম অবস্থায় হাঁপানি ও ব্রংকাইটিস চেনা কষ্ট, (২) Blood Culture করে Eosinophil গণনা করা, (৩) Pulmonary Function Test.

জটিল উপসর্গঃ হাঁপানি যদিও খুব কষ্টকর ব্যাধি তবুও এ রোগে মৃত্যু সংখ্যা কম। অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করলে অনেক সময় রোগী আরোগ্য লাভ করে। বলা  বাহুল্য এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা সাময়িক কিছু উপশম পাওয়া যায়। ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, প্লুরিসি এর জটিল উপসর্গ। অজীর্ন, অম্ল ও শারীরিক দুর্বলতা এর উপসর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *