আপনারা লক্ষ্য করে থাকবেন রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে আধুনিক মেডিসিনের সীমাবদ্ধতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষতঃ ক্রণিক রোগ নিরাময় বা আরোগ্যের ক্ষেত্রে। যেমন – ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এ্যাজমা ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় আধুনিক মেডিসিন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তারা আগে বলতেন এ রোগ গুলি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, এখন বলছেন এদের manage করে সারাজীবন চলতে হবে। অনারোগ্য বা incurable রোগের তালিকা প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিরাট অংশ ধাবিত হচ্ছেন হলিস্টিক চিকিৎসা পদ্ধতি হোমিওপ্যাথির দিকে। হোমিওপ্যাথিতে মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় এবং দেহ, মন, আবেগ ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয়ে যে রুগ্ন মানুষটি তাকে পরিপূর্ণভাবে আরোগ্য করা হয়।

যাহোক, আপনি আরোগ্যের জন্য আমাদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। কিন্তু আরোগ্য ? আরোগ্য হচ্ছে transition from sickness to health। প্রশ্ন আসে অসুস্থতা কি? আমরা প্রথমেই দেখবো আধুনিক এ্যালোপ্যাথি এটিকে কিভাবে দেখে। Modern medicine অনুযায়ী রোগের সংখ্যা অনেক যেমন – এ্যাজমা, ডায়বেটিস, আথ্রাইটিস, বা কোন acute infection যেমন – নিউমোনিয়া। মডার্ণ মেডিসিন অনুয়ায়ী রোগের অর্থ হচ্ছে – there is something wrong of the parts of the body or the organ system. উদারহরণস্বরূপ, আপনার চর্ম রোগ হয়েছে বা আপনার জয়েন্ট ডিজিজ বা ফুসফসের রোগ বা ধরুন হৃদরোগ। বিভিন্ন অংগ প্রত্যংগের জন্য চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। For example, a surgery to correct the part or a pain killer or anti inflammatory medicine or antibiotic.  ধরুন, আপনি এ্যাজমায় আক্রান্ত, এ্যাজমা কি? It is nothing but the spasm of the bronchi. আধুনিক মেডিকেল ডক্টর তাই আপনার এ্যাজমার নিরাময়ে ব্রংকোডায়ালেটর প্রয়োগ করবেন, চেষ্টা করবেন সমস্যাটি স্থানীয়ভাবে ঠিক করার জন্য। আপনাকে নিয়ে তার কোনই মাথাব্যথা নেই। একইভাবে যদি আপনি জয়েন্ট ইনফ্লামেশন বা সন্ধির প্রদাহে ভোগেন, তবে তারা আপনাকে এন্টি ইনফ্লামেটরী বা পেইন কিলার বা ষ্টেরয়েড প্রেসক্রাইব করবেন। কেন? ব্যথা বা প্রদাহ প্রশমনের জন্য। কিন্তু এই ট্রিটমেন্ট হচ্ছে অত্যন্ত স্বল্প মেয়াদী। রোগী উপশম পাচ্ছেন বটে, কিন্তু খুব কম সময়ের জন্য। কেন উপশমটি কম সময়ের জন্য? কারণ, basic আইডিয়া হচ্ছে রোগটি কোন অংগের রোগ নয়, সমস্যাটি  হচ্ছে পুরো মানুষটিকে নিয়ে। আর এখানেই আসছে হলিস্টিক চিকিৎসা ব্যবস্থা হোমিওপ্যাথির ভূমিকা। কারণ হোমিওপ্যাথিই একমাত্র হলিস্টিক চিকিৎসা পদ্ধতি যা আপনার কোন কিছুকেই উপেক্ষা করেনা। হোমিওপ্যাথি একটি বিশুদ্ধ চিকিৎসা বিজ্ঞান। যা বিশ্বাস করে রোগ প্রকৃতপক্ষে কোন নির্দিষ্ট কোন অংগ প্রত্যংগে বাসা বাঁধেনা, এটি পুরো মানুষটিকেই আক্রান্ত করে বা রুগ্ন করে। প্রথমে মানুষটিই পরিপূর্ণভাবে রুগ্ন হয় এরপর তার অংগ প্রত্যংগে তা স্থানান্তরিত হয়। আমরা যদি রোগ নিরাময়ে দীর্ঘমেয়াদী কোন সমাধান চাই তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই রুগ্ন ঐ মানুষটিকে চিকিৎসা দিতে হবে, রুগ্ন ব্যক্তির রোগকে নয়। we have to treat the man in disease, rather than disease in man. হোমিওপ্যাথিতে আমরা বিশ্বাস করি যে, অংগ প্রত্যংগের রোগ বা সমস্যা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সেগুলি মানুষের অনেক গভীর স্তর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। এই গভীর স্তরগুলো কি? আমাদের শরীরে ৩ ধরণের কন্ট্রোলিং সিস্টেম আছে। সেগুলো হচ্ছে  – নার্ভাস সিস্টেম, হর্মোন বা এন্ডোক্রাইন সিস্টেম এবং ইমিউন সিস্টেম। উদাহরণস্বরুপ, ধরুন আপনার rheumatoid arthritis হয়েছে, এটি একটি সাধারণ রোগ। একে আমরা একটা auto immune disorder হিসেবে মনে করি। সেটা আবার কি? জানতে হলে আপনাকে জানতে হবে auto immune system কি। অটো ইমিউন সিস্টেম হচ্ছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যা মূলতঃ একটি protective system বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। এটি আসলে watchman বা প্রহরীর মত, যা প্রকৃতই একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা security system। এটি শরীরকে বাইরের আক্রমণ যেমন – ব্যাক্টেরিয়া-ভাইরাস ইত্যাদি হতে নিরাপদ রাখে। এটি আক্রান্ত হলেই লড়াই শুরু করে। অটো ইমিউন অর্থ হচ্ছে যদি ইমিউন সিস্টেম ভুল করে তাহলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরীরকে বাঁচানোর জন্য শরীরের মধ্যেই লড়াই করা শুরু করে এবং শরীরের নিজের টিস্যুকেই ধ্বংস করে। এই ধরণের লড়াই এক পর্যায়ে জয়েন্টে ছড়িয়ে পড়ে যাকে আমরা রিউমেটয়েড আথ্রাইটিস বলি। এতে জয়েন্ট ফুলে উঠে। এটিকে ঠিক করার জন্য আমাদের প্রকৃত পক্ষে ভেতরকার গভীর বিশৃংখলাটিকে ঠিক করতে হবে। কারণ মূল সমস্যাটি ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরোধ ব্যবস্থায়। your system has gone mad. Instead of attacking someone else, it is attacking you. সুতরাং আমাদের প্রয়োজন গভীর স্তরে আপনার প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে সংশোধন করা। ইমিউন সিস্টেমটি কোন বিচ্ছিন্ন সত্ত্বা নয়। এটি নার্ভাস সিস্টেম, হরমোনাল সিস্টেম ইত্যাদির সাথে সংযুক্ত। আর এগুলি সংযুক্ত মন ও সাইকির সাথে। মন, নার্ভাস সিস্টেম, হরমোনাল সিস্টেম, ইমিউন সিস্টেমটি প্রকৃতপক্ষে একটি সরকারের কেবিনেটের মত। সেগুলো একই কার্যকরী ব্যবস্থার অংশ। সুতরাং আমাদের দেখা প্রয়োজন কেন্দ্রে অর্থাৎ সরকারে বা এক্ষেত্রে প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যাটি কি। আর এখানেই হোমিওপ্যাথির আসল ক্ষেত্র।

আমরা বলি অনেক সমস্যার মুলে আমাদের দুঃশ্চিন্তা বা স্ট্রেস। কিন্তু স্ট্রেস কি? আমরা প্রায়ই বিশ্বাস করি বা বলি যে বাহ্যিক কারণেই স্ট্রেস দেখা দেয়। আপনার পেশায় বা কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকতে পারে, পারস্পারিক সম্পর্ক বা দাম্পত্য কলহ থাকতে পারে, আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে, আরও অনেক সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু স্ট্রেসটা আসলে কি? আমরা যখন এটি নিয়ে গবেষণা করি এবং দেখতে চাই তখন দেখতে পাই স্ট্রেস শুধুমাত্র বাহ্যিক কারণে দেখা দেয়না। এটি নির্ভর করে কিভাবে একজন ব্যক্তি স্ট্রেসকে গ্রহণ করেন এবং বিশেষ অবস্থায় তার প্রতিক্রিয়া কিভাবে ব্যক্ত করেন তার উপর। প্রতিটি ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া ভিন্ন অর্থাৎ অনন্যরূপে দেখা যায়। এখানেই আসছে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের প্রশ্ন। হোমিওপ্যাথের কাছে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা স্বতন্ত্র্য ব্যক্তিত্বের সন্ধান করি। আমরা দেখি একই রকম পরিস্থিতি ভিন্ন ভিন্ন লোক সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মোকাবিলা করে। তাই প্রতিটি ব্যক্তির স্ট্রেসই তার জন্য পৃথক ঘটনা বা ইস্যু। ধরুন, তিনজন লোক মাথ্যাব্যথায় আক্রান্ত। কিন্তু সবারই মাথাব্যথার ধরণ পৃথক। প্রত্যেকের মাথাব্যথা পৃথক সময়ে দেখা দেয়, পৃথক কারণে দেখা দেয়, পৃথক কারণে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। সুতরাং হোমিওপ্যাথিতে সাধারণ মাথাব্যথা বলে কিছু নেই। আমরা অনেক রকম মাথাব্যথার কথা জানি। আমাদের প্রয়োজন তাই পূর্ণ ব্যক্তিকে study করা – তার শরীর, মন, ইমোশন সবকিছু। আমরা দেখতে চাই কি এমন বিষয় আছে যা ব্যক্তিটিকে অন্য সবার থেকে পৃথক হিসেবে উপস্থাপন করছে? এটি বড়ই চ্যালেঞ্জিং, তবে অসম্ভব নয়। এটি বের করার পর আমরা চেষ্টা করি ঐ ব্যক্তির জন্য সঠিক ওষুধটি খুঁজে বের করতে। যে ওষুধটি ঐ স্বতন্ত্র ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের সাথে সম্পূর্ণ মানানসই হয়। ঐ স্বতন্ত্র ব্যক্তি কিভাবে চিন্তা করেন, ভাবেন, কিভাবে তার রোগলক্ষণাবলী দেখা দেয়, তিনি কিভাবে খান, পান করেন, কথা বলেন, স্বপ্ন দেখেন সব জানা চাই। এটিই হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক কেস টেকিং-এর পূর্ণ ও শুদ্ধ পদ্ধতি। আপনি আসলে কে – সেটা বের করে নিয়ে আসাটাই হোমিওপ্যাথের কাজ।

এর পর হোমিওপ্যাথি গুরুত্বারোপ করে “Law of Similar” এর উপর। এর অর্থ হলো সুস্থ মানবদেহে ওষুধ প্রুভিংকালে সেটি যে সকল কৃত্রিম রোগলক্ষণ তৈরি করে, প্রাকৃতিক রোগে ঠিক সেগুলিই আরোগ্য করে। এটিকে আমরা “Like cures like” ও বলি। সংক্ষেপে যে ওষুধে যে রোগ সৃষ্টি করে সে ওষুধে সেই রোগই আরোগ্য করে।

হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকায় আমরা হাজার হাজার মেডিসিন অধ্যয়ন করেছি। এগুলো স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবকদের উপর পরীক্ষা করা হয়েছে এবং রোগলক্ষণাবলী নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে মেটিরিয়া মেডিকা নামক পুস্তকে এবং বর্ণনাক্রমিক তালিকা রেপার্টরী নামক পুস্তকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং যখন আপনি আমাদের কাছে আসবেন তখন আমরা আপনার সবকিছুকেই অধ্যয়ন করবো, আপনার মন, আপনার শরীর, আপনার অভিযোগ, আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছা সবকিছু। আপনার একটি সঠিক প্রতিচ্ছবি বা প্রতিলিপি আমরা তৈরি করতে চাই এবং এর পর আপনার প্রতিচ্ছবিকে আমরা মেটেরিয়া মেডিকায় লিপিবদ্ধ হাজার হাজার ওষুধের প্রতিচ্ছবির সাথে তুলনা করে থাকি। এই কাজে আমরা অত্যাধুনিক এবং অনলাইন সফটওয়্যার ব্যবহার করছি। যে সফটওয়্যারের মাধ্যমে আমরা আপনার সাথে ওষুধের সঠিক মিলটি নিখুঁতভাবে খুঁজে পাই এবং তা আপনাকে প্রয়োগ করি।

রোগী ওষুধ সেবনের পর আমরা তার জীবনীশক্তি বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কি পরিবর্তন হয় তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি। কারণ, হলিষ্টিক উপায়ে ওষুধ প্রয়োগে প্রথমেই জীবনীশক্তি বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা উদ্দীপিত বা চাংগা হয়। হোমিও আরোগ্য যখন সাধিত হয় তখন তা দেহ, মনের সকল স্তরেই সাধিত হয়। হোমিও মেডিসিন শুধুমাত্র রোগের লক্ষণ নয় বরং রোগের কারণ দুর করে রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করে। চিকিৎসার ফলে যখন আপনি স্বাস্থ্যবান হবেন আপনার রোগলক্ষণাবলী বা রোগের নাম যাই হোকনা কেন তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।

মাইগ্রেন, একজিমা, ক্যান্সার, হেপাটাইটিস ইত্যাদি কোন রোগ নয়। এগুলি রোগের শেষ ফলাফল। প্রকৃত রোগ হচ্ছে জীবনীশক্তির বিশৃংখলা। হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন রোগের মুল কারণ তথা রোগীর ভেতরকার মূল বিশৃংখলাটিকে খুঁজে বের করে তা নিরাময় করে এবং এতে যে নামেই আপনার স্থানীয় রোগ বা প্যাথলজি থাকুক না কেন তা আরোগ্য হয়।  আর এজন্যই আপনি শারিরীক ও মানসিকভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

অতীতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুধুমাত্র রোগীর রোগলক্ষণের উপর নির্ভর করেই করা হতো। আমরা রোগীর লক্ষণাবলীর সাথে ওষুধের লক্ষণাবলী তুলনা করতাম। কিন্তু নিকট অতীতে, অর্থাৎ গত দুই দশকে আমাদের এই ওষুধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে যার ফলে আমরা অনেক নতুন নতুন পদ্ধতির সন্ধান পেয়েছি। এখন আমরা শুধু আপনার রোগলক্ষণাবলীই বিবেচনা করছি না। অধিকন্তু আপনার অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিসমূহ বিবেচনায় আনছি। আপনার  ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার উপর আমরা অত্যধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ এগুলিও আপনাকে, আপনার রোগকে প্রভাবিত করছে। যাহোক এটির মাধ্যমে আমরা আপনার মনের গভীরে থাকা অভিজ্ঞতার উপর আলোকপাত করছি। রোগীর ঘটনাবহুল জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি ও ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার সন্ধান পাওয়া যায়। এখন রোগীর রোগ লক্ষণাবলীর সাথে আমরা রোগীর অভিজ্ঞতাটা মিলিয়ে দেখছি যা আমাদের সঠিক ওষুধ নির্বাচনে অধিকতর সহায়তা করছে। এই সকল রোগলক্ষণাবলী ও অভিজ্ঞতাসমূহ পেতে আমরা আপনাকে নানান ধরণের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি – আপনি কি পছন্দ করেন, কি অপছন্দ করেন, কিভাবে খান, কিভাবে ঘুমান, কিভাবে চিন্তা-ভাবনা করেন, কিভাবে অনুভব করেন ইত্যাদি। এর সাথে আমরা আপনাকে জিজ্ঞেস করতে শুরু করি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনার অভিজ্ঞতা কি সে বিষয়ে। যেমন ধরুন – আমরা আপনাকে শুধু এটা জিজ্ঞেস করি না যে, কিসে আপনাকে এত রাগান্বিত করলো অধিকন্তু এটাও জিজ্ঞেস করি রাগের সময় আপনি কেমন বোধ করেন বা আপনার ফিলিংসটা কি। এই রাগের মুহুর্তে আপনার অভ্যন্তরীন অভিজ্ঞতাটা কি তাই জানতে চাই। কেউ মনে করতে পারেন রাগের মুহুর্তে তার কাউকে খুন করতে ইচ্ছে করে, কেউ বলবেন তার শরীর কাঁপতে থাকে, কেউ বা বলবেন তার ভেতর থেকে গরম কিছু বের হয় আসছে (Flush of heat coming out)। আপনার রাগের মুহুর্তের এই অনুভূতি বা অভিজ্ঞতাকেই আমরা এক ধরণের সংবেদনশীলতা বলছি। এই অভিজ্ঞতা নানা পরিস্থিতিতে নানা মানুষের নানান ধরণের। মানুষের এই অভিজ্ঞতাগুলি বাস্তব জীবনে ভয়, স্বপ্ন, অভিযোগ, শখ ইত্যাদির মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।

এখন নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন যে, আপনারা চিকিৎসার মাধ্যমে যে ফলাফলটি আশা করেন তা পেতে বা আমরা আপনার জন্য যে ফলাফলটি আশাকরি তার জন্য – আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা দরকার। কিভাবে আপনি আপনার রোগলক্ষণাবলী আমাদেরকে দিচ্ছেন সবকিছুই তার উপর নির্ভর করছে। একথা মাথায় রেখেই আমরা আপনার রোগলক্ষণাবলী সংগ্রহ করি এবং আপনার জন্য একটি অনন্য রোগীলিপি দাড় করাতে চেষ্টা করি। আপনার অতীত ইতিহাস, পারিবারিক ইতিহাস আপনার সম্পর্কে সবকিছুই আমরা জানতে চাই। এর বাইরেও আপনাকে অনেক প্রশ্ন করি। জানতে চাই আপনার সুনির্দিষ্ট ও অনন্য ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য সম্পর্কে। আমরা আপনার জীবনের সকল অভিজ্ঞতার গভীর স্তরে প্রবেশ করতে চাই। অনেক সময় আমরা আপনাকে একই প্রশ্ন বার বার করে থাকি। সেটি এজন্য নয় যে আমরা আপনার উত্তরটি বুঝতে পারিনি বা তা আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। বরং আমরা আপনার রোগলক্ষণাবলীর ও অভিজ্ঞতার গভীর স্তরে পৌঁছে যেতে চাই। এই কাজটি অধিক নিশ্চয়তার সাথে আপনার জন্য সঠিক মেডিসিনটি খুঁজে পেতে আমাদের সহায়তা করে।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শক্তিকৃত উপায়ে প্রয়োগ করা হয়। শক্তিকৃত করার প্রধান উপায় ডাইলিউশন। একের পর এক সিরিয়াল ডাইলিউশন বা পুনুঃ পুনঃ মিশ্রনের মাধ্যমে আমরা ওষুধ প্রস্তুত করি। এতে করে ওষুধটি অত্যন্ত শক্তিশালী হয় এবং এভাবে ওষুধটি হয় উচ্চ মাত্রায় ফলদায়ক অথচ সম্পূর্ণভাবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত।

রোগী ওষুধটি সেবন করার পর কি ঘটছে তা আমরা অধ্যয়ন করতে শুরু করি। এই সময়েও আবার আপনার সহযোগিতা খুব দরকার। আপনাকে আমাদের বলতে হবে ওষুধ সেবনের পর আপনার সকল স্তরে – দেহ, মন, আবেগ, স্বপ্ন, স্থানীয় রোগে ওষুধের কি প্রভাব পড়েছে। কি পরিবর্তন আপনি লক্ষ্য করেছেন? আপনি যত নিপুনভাবে আমাদের কাছে আপনার লক্ষণাবলী রিপোর্ট করতে পারবেন, তার উপর নিশ্চিতভাবে নির্ভর করবে আমাদের পরবর্তী করণীয় কি সেটি। ওষুধ দেবার পর আমরা আপনার কেসটি পুনঃমুল্যায়ন বা ফলোআপের জন্য কমবেশী ১ মাসের মধ্যে আপনাকে আবার চেম্বারে আসতে বলি বা যে কোনভাবে যোগাযোগ করে জেনে নেই। এই  ফলোআপে আপনার স্বাস্থ্যের সকল বিষয় মূল্যায়ন করা হয়। ফলোআপে যে সকল বিষয় জানতে চাই তা হলোঃ আমাদের সাথে সাক্ষাতের পর এবং শেষ ওষুধটি সেবনের পর হতে আপনি কেমন আছেন? আপনার অভিযোগের বর্ণনা চাই অর্থাৎ সর্বশেষ সাক্ষাতের পর হতে সেগুলো কেমন ছিল? আপনার সাধারণ এনার্জি লেভেলটি কেমন? আপনার মন-মেজাজটি কেমন? স্ট্রেস কেমন? এই মুহুর্তে কোন স্ট্রেস আছে কিনা? শেষ সাক্ষাতের পর কোন ধরণের স্বপ্নের কথা মনে পড়ে কিনা? কোন ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন কিনা? তার রিপোর্ট কেমন? এর বাইরে আর কোন বিষয়ে আপনি রিপোর্ট করতে চান কিনা?

এসকল তথ্য পাওয়ার পর আমরা আবার পূর্ণ কেসটি পুনঃ মুল্যায়ন করি ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এভাবে ধাপে ধাপে আমরা আপনাকে আরোগ্যের দিকে নিয়ে যাই। এ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝখানে আপনার যদি কোন প্রকার একিউট সমস্যা যেমন জ্বর, প্যানিক এ্যাটাক, চর্মরোগ ইত্যাদি দেখা দেয় তবে আপনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। এটি জেনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে বিশেষতঃ ক্রণিক রোগীর আরোগ্য প্রক্রিয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধীর অথচ একটি অবিচল প্রক্রিয়া। এমন একটি খসড়া হিসেব আমরা দিয়ে থাকি যে প্রতি ১ বছরের রোগভোগের ইতিহাস থাকলে তা নিরাময়ে ১ মাস সময় লাগে। কিন্তু এর সাথে আরও অনেক বিষয় যুক্ত। আপনার কেসটি কতটা জটিল বা পরিষ্কার, কতটুকু ও কোন চিকিৎসায় কিভাবে রোগলক্ষণ চাঁপা দেয়া হয়েছে, বংশগত রোগপ্রবণতা কতটুকু এসবের উপর আরোগ্যের সময় নির্ভর করে। আপনার ধৈর্য ও সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা আপনাকে ধীরে ধীরে পূর্ণ আরোগ্যের পথে নিয়ে যাবো। মনে রাখবেন আপনার অধিকাংশ অসুস্থতা অন্য কোন পন্থায় অনারোগ্য। অটো ইমিউন রোগ নামে সংগায়িত ৮১ টি রোগ এ্যালোপ্যাথিক সিস্টেমে অন্যারোগ্য বলে ঘোষিত। ঐ সিস্টেমে রোগ লক্ষণ চাপা পড়ে বা সাময়িক উপশম হয়, যাকে মডার্ণ মেডিকেল ডক্টর কিউর নামে আখ্যায়িত করে থাকেন। হোমিও চিকিৎসায় আপনার আরোগ্য ধাপে ধাপে ঘটবে। তবে একিউট রোগীর ক্ষেত্রে মিরাকল কিউর সম্ভব। যাহোক, ইনশাল্লাহ আমরা সর্বদাই আপনার পাশে আছি, আপনাকে সহযোগিতার জন্য। 

ক্রণিক রোগীর ক্ষেত্রে আমরা ৩-৬ মাসের মধ্যে আপনার কেসটি বিশেষভাবে মুল্যায়ন করি কতটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা দেখার জন্য। যদি অগ্রগতি সন্তোষজনক মনে না হয় তবে আমরা আপনার কেসটি পুনঃমুল্যায়ন করবো বা সম্পূর্ণ নতুনভাবে আপনার কেসটি আবার গ্রহণ করবো। আমরা পুনরায় দেখবো পরবর্তী করণীয় কি সে বিষয়ে।

আমাদের ক্লিনিকে আমরা হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি আরও কিছু ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখি। কারণ ওষুধই সবকিছু করবে বা করতে পারে বলে আমরা মনে করিনা। ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি তাই আমরা রোগীর খাদ্যাভ্যাস, শরীর-চর্চা, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ইত্যাদির উপর নিয়মিত কাউন্সেলিং করি।

আরোগ্যের এ যাত্রায় আরও একবার আপনাকে আমরা স্বাগত জানাই। একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপই আপনাকে এই মহৎ যাত্রায় সামিল করবে। আর এটি হচ্ছে আপনার সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তটি হলো রোগাক্রান্ত হলে আপনি কি তথাকথিত আধুনিক চিকিৎসকের দারস্থ হবেন নাকি একজন দক্ষ ও কোয়ালিফাইড হোমিওপ্যাথের চিকিৎসা নেবেন?

আপনার সুন্দর জীবন ও সুস্বাস্থ্যে আনায়নে আপনি এখন সুন্দর চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ।

স্বাস্থ্য কি? Health is freedom from pain in the physical body, having attained a state of well-being; freedom from passion on the emotional level, having as a result a dynamic state of serenity and calm; and freedom from selfishness in the mental sphere, having as a result of total unification with truth.

হোমিওপ্যাথিতে আমরা মনে করি স্বাস্থ্য অর্থ শরীর, আবেগ, মন, আধ্যাত্মিকতা সকল ক্ষেত্রে এক ধরণের স্বাধীনতা বোধ যেখানে আপনি পরিপূর্ণভাবে এবং শর্তহীনভাবে আপনার ভেতর লুকিয়ে থাকা সকল সম্ভাবনাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারেন। আপনি আপনার কোন শারীরিক, মানসিক, আবেগিক অবস্থার নিকট বন্দী নন। এই স্বাধীনতা উপভোগ করার জন্য আপনি নিজেই একটি হাতিয়ার। আমি আপনাদের জন্য সেই স্বাস্থ্যই কামনা করি। আমার প্রত্যাশা আপনার ক্ষেত্রে তেমন আরোগ্যই সাধিত হোক। আল্লাহর ইচ্ছায় ও আপনার সহযোগিতায় আমরা আপনাকে এমন স্বাস্থ্যে ফিরিয়ে আনতে চাই। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।

ডা. বেনজীর একজন ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথ। বিশ্বখ্যাত হোমিওপ্যাথ প্রফেসর ভিথোলকাসের নিকট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। যোগাযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.