এক গবেষণায় জানা যায় যে যখন আমরা কারো দিকে তাকাই তখন প্রথমেই তার চোখের দিকে তাকাই এবং তারপর সম্পূর্ণ চেহারার দিকে তাকাই। একজোড়া উজ্জ্বল দীপ্তিময় চোখ মানুষকে চমকিত করে, অপরদিকে নিস্তেজ ও বিষন্ন চোখ সুন্দর মুখকেও সাধারণ দেখায়। সুন্দর চোখ শুধু গ্লামারেরই প্রতীক না, সুস্বাস্থ্যের প্রতীক। এজন্যই চোখের যত্ন নেয়াটা জরুরী। অনেকেই শুধু মুখের যত্ন নিয়ে থাকেন, আলাদাভাবে চোখের যত্ন নেন না। আপনার কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন এবং কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে আপনার চোখকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন।  চোখ আল্লাহর দেয়া অত্যন্ত মূল্যবান নিয়ামত। এবার জেনে নেই চোখ সুস্থ রাখার সম্পর্কে।

১। পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন: চোখের সজীবতা ঘুমের মান ও ব্যাপ্তিকালের উপর নির্ভর করে। কম ঘুম হলে চোখ ক্লান্ত ও ফোলা দেখায় এবং চোখের নীচে কালি পড়ে। তাই উজ্জ্বল চকচকে চোখের জন্য ঘুমকে অবহেলা করবেন না।

২। আমাদের অন্তরের জানালা হচ্ছে চোখ। আমাদের আবেগ ও ভাবনা প্রতিফলিত হয় চোখে। এজন্য স্ট্রেসের লক্ষণও চোখেই প্রথম দেখা যায়। অনেক বেশী চাপের মধ্যে থাকলে চোখ ক্লান্ত দেখাবে এবং দ্রুত বয়স বৃদ্ধির লক্ষণ প্রকাশ পাবে। তাই স্ট্রেসের কারণ নির্ণয় করে সমাধানের চেষ্টা করুন এবং রিল্যাক্স থাকুন।

৩। সানগ্লাস ব্যবহার করা: প্রখর সূর্যালোক চোখের জন্য ক্ষতিকর। উজ্জ্বল সূর্যালোকে চোখের আশপাশের ত্বক কুঁচকে যায়। তাই বাইরে যাওয়ার সময় সানগ্লাস পরার অভ্যাস করুন।

৪। উজ্জ্বল আলোতে পড়ুন: সাধারণত অপর্যাপ্ত আলোতে পড়লে চোখ টনটন করে। পড়ালেখার সময় আলো যাতে বই বা পত্রিকার উপর পড়ে সেভাবে বসে পড়ুন।

৫। প্রচুর পানি পান করুন: আপনি যদি পর্যাপ্ত পানি পান না করেন তাহলে আপনার চোখ শুষ্ক দেখাবে। তাই প্রচুর পানি পান করুন ও চোখকে প্রাকৃতিক ভাবে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন।

৬। আইপ্যাক ব্যবহার করুন: প্রাকৃতিক কিছু উপাদানের মাধ্যমে চোখের নীচের কালো দাগ ও ফোলাভাব বা ক্লান্তভাব দূর করা যায় যেমন- শসায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে যা চোখের নীচের কালো দাগ দূর করে চোখকে উজ্জ্বল করতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাকে। ঠান্ডা শসা চাক চাক করে কেটে নিন। মাথা হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে দুই টুকরা শসা দুই চোখের উপর রাখুন ১০  মিনিট পর্যন্ত বা যতক্ষণ পর্যন্ত তা গরম হয়ে যায় ততক্ষণ। আরেকটি উপায় – টি ব্যাগ চোখের ফোলাভাব দূর করে চমৎকারভাবে। এজন্য ২টি টি ব্যাগ ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। ঠান্ডা টি ব্যাগ দুই চোখের উপর দিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট যাবত। এটি ব্যবহারে ফলে চোখের ফোলাভাব দূর হয়ে চোখকে সজীব করে তোলে। স্টবেরির স্লাইস ও চোখের ফোলা ভাব দূর করতে পারে।

৭। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন: আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল চোখের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া প্রয়োজন। ভিটামিন এ, সি ও ই আসলেই চোখের জন্য উপকারী। আম, আঙ্গুর, পেয়ারা, পেঁপে, কমলা, স্ট্রবেরি ও অ্যাভোকাডো ইত্যাদি ফল চোখের জন্য সবচেয়ে ভাল। গাজর, মিষ্টি, আলু, লাল ও সবুজ মরিচ, সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।

৮। পানির ঝাপটা দিন: সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং সারাদিনে কাজের ফাঁকে, চোখে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন। এতে কেবল চোখের ধুলা বালিই দূর হবেনা বরং চোখের সজীবতাও বৃদ্ধি পাবে। যারা নিয়মিত সালাত আদায় করেন এবং অজু করেন তাদের চোখ স্বাস্থ্যবান।

৯। চোখের ব্যায়াম করুন: চোখের শিথিলতার জন্য সহজ চোখের ব্যায়ম করুন। ঘুমানোর আগে চোখের ব্যায়াম করলে ভাল। একটি কলম নিয়ে আপনার চোখের সামনে উলম্বভাবে ও আনুভূমিক ভাবে নাড়ান। এই সময়ে আপনার দৃষ্টি কলমের ডগার দিকে ফোকাস করার চেষ্টা করুন।

১০। নিয়মিত কোরআন পড়লে চোখ সুস্থ ও সজীব থাকে। তাই প্রতিদিন রুটিন করে অন্তত: ২ বার সকালে ফজরের সালাতের পর ও রাতে ঘুমানোর আগে কোরআন পড়ুন।

১১। সর্বোপরি, চোখের ন্যায়সংগত ব্যবহার নিশ্চিত করুন। নিষিদ্ধ বিষয় হতে চোখকে রক্ষা করুন।

যোগাযোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *