আমরা প্রায়শ:ই শুনি যে ”স্বাস্থ্যই সম্পদ”। কিন্তু এই কথার তাৎপর্য আমরা বুঝিনা। অর্থ আসে এবং যায়, স্বাস্থ্য এমন কিছু যা অত্যন্ত মূল্যবান এবং যার জন্য প্রকৃতপক্ষে জীবনব্যাপী একটি বিনিয়োগ প্রয়োজনএই আর্টিকেলটি আপনাকে দেখাবে কিভাবে অনেক দেরী হয়ে যাওয়ার আগে আপনি স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

 আমার মত আপনিও আপনার জীবনে অগণিত বার শুনেছেন ”স্বাস্থ্যই সম্পদ”কিন্তু আমি বিনয়ের সাথে ভিন্নমত পোষণ করছি।

 রাসুল (সাঃ) হতে আমরা জানি যে, ঈমানের পর সবচেয়ে মুল্যবান বিষয়টি হচ্ছে স্বাস্থ্য!

 অতএব ভেবে দেখা প্রয়োজন যেভাবে আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়া দরকার আপনি কি সেভাবে যত্ন নিচ্ছেন? আপনার স্বাস্থ্য কি আপনাকে একটি উৎপাদনশীল জীবন যাপন করতে সহায়তা করছে? আপনার স্বাস্থ্য কি আপনাকে একটি সুন্দর উত্তরাধিকার রেখে দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে সাহায্য করছে?

 আরও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার স্বাস্থ্য কেয়ামতের দিন নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য হতে পারে সবচেয়ে উপযুক্ত স্তম্ভ।

 ইবনে মা’সুদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেন, ”আদম সন্তানদের কেউ কেয়ামাতের দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট হতে রেহাই পাবেনা যতক্ষণ না তাকে ৫টি বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। ৫টি প্রশ্ন হলোঃ

 তার জীবন সম্পর্কে এবং সে কিভাবে জীবন কাটিয়েছে,

  1. তার যৌবন এবং কিভাবে তাকে ব্যবহার করেছে,
  2. তার সম্পদ এবং কিভাবে সে তা অর্জন করেছে
  3. কিভাবে অর্জিত সম্পদ ব্যয় করেছে,
  4. কি জ্ঞান অর্জন করেছে এবং অর্জিত জ্ঞান কি কাজে ব্যবহার করেছে(আত-তিরমিজি ২৪২২)

এই হাদীসটি সম্পর্কে এক মুহুর্ত চিন্তা করুন। কিভাবে আপনি আপন জীবনযাপন করছেন, আপনার যৌবন, সম্প্দ এবং জ্ঞান অর্জন করছেন ও কাজে লাগাচ্ছেন সবই আপনার সার্বিক স্বাস্থ্যের সাথে সম্পৃক্ত।

একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আমাদের পরিচিত একজন ব্যক্তি অত্যন্ত সম্পদশালী ছিলেন। কিন্তু তিনি কখনও তার স্বাস্থ্যের যত্ন নিতেন না। তিনি সর্বদা বলতেন, ”একদিন তো মারাই যাবো, সুতরাং যতদিন বেঁচে থাকি আমি সব খাবার-দাবার খেয়ে জীবনকে উপভোগ করে যাবো”।

যখন তিনি অসুস্থ হলেন, তখন তার পরিবার তার রোগ নিরাময়ের চেষ্টায় সকল অর্থ ব্যয় করলেন। যদিও সবকিছু বৃথা গেল এবং তিনি কপর্দকশুন্য অবস্থায় তার পরিবারকে রেখে মারা গেলেন। অবস্থা এমনই দাড়িয়েছিল যে, তার পরিবার হাসপাতালের বিল মেটানোর জন্য তার শেষ আশ্রয়স্থল বাড়ীটিকেও বিক্রয় করতে বাধ্য হন।

আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়ালা আমাদেরকে এ ধরণের পরীক্ষা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

সুতরাং আপনার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য আপনার জীবনের একটি আদর্শ সময়ের জন্য অপেক্ষা করবেন না। আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নেবার জন্য এখনই শ্রেষ্ঠ সময়, যেভাবে আপনি আপনার ঈমানকে রক্ষা করার জন্য যত্ন নিয়ে থাকেন।

আপনি যদি আপনার স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার না দেন; তাহলে অবশ্যম্ভাবীরূপে আপনাকে একসময় অসুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিয়েই জীবনটিকে শেষ করতে হবে। রুগ্নতাকে অগ্রাধিকার দেয়া নিশ্চিতভাবেই কোন মনোরম জিনিস নয়, তাই না?

রুগ্নতা হতে আরোগ্যের জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজন হওয়ার পূর্বে স্বাস্থ্যের জন্য বিনিয়োগ করুন। নি:সন্দেহে দ্বিতীয় অপশনের চেয়ে প্রথমটি আপনার জন্য উত্তম ও সহজলভ্য। অসুস্থ হওয়াটা ব্যয়বহুল অথচ প্রতিরোধযোগ্য।

স্বাস্থ্যের যত্ন নিন। অসুস্থ হয়ে থাকলে এখনই আপনার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করুন। আপনার স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে নিম্নোক্ত বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিনঃ

  1. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করুন,
  2. পুষ্টিকর ও পরিমিত খাবার গ্রহণ করুন,
  3. দু:শ্চিন্তা ও মানসিক চাপ পরিহার করে চলুন,
  4. পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন,
  5. অনলস ও উৎপাদনশীল জীবনযাপন করুন,
  6. সর্বোপরি, কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন যাপন করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.