আমরা এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাস করছি যেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল ও সুচিকিৎসা পাওয়াটা অনেক কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। রোগের জটিলতা এবং নতুন নতুন রোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। সেই তুলনায় আরোগ্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। একটি রোগ নিরাময় করতে গিয়ে আমরা আরো অনেক রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। এককথায় বলতে গেলে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অনেকটাই ভেংগে পড়েছে। গড় আয়ুকেই আমরা কেবল স্বাস্থ্যের অন্যতম নির্দেশক মনে করতে শিখছি। জীবনের গুণগত মান নিয়ে ভাববার আমাদের সময় কই? একবারও ভাবছি না যে সুস্থ কোন মানুষ যে কোন প্রকার অন্যায়, সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়াতে পারেনা। কোথায় আজ আমাদের নীতি-নৈতিকতা বোধ?

আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমনভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠছে যে চলমান চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মেনে নিতেই আমরা যেন বাধ্য হচ্ছি। কখনও ভাবছি না এই চিকিৎসা আমাকে সত্যিকারভাবে আরোগ্য করছে নাকি আমার অবস্থা আরও অধিক জটিল করে তুলছে। একবারও ভাবছি না প্রাকৃতিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কোনই বিকল্প নেই। হোমিওপ্যাথিতে সকল একিউট ও ক্রণিক রোগীর নিরাময় সম্ভব। তবে রোগ নয়; রুগ্ন মানুষটিকে নিয়ে ভাবতে হবে। তার সার্বিক শারীরিক-আবেগিক-মানসিক-আধ্যাত্মিক লক্ষণাবলী বিশ্লেষণ করেই চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। জীবনযাত্রায় পরিবর্তনও অত্যাবশ্যক।

বাহ্যিক কারণ যেমন – দুর্ঘটনাজনিত কারণে কেউ ভুগলে, যেখানে কারণটিই বাহ্যিক চিকিৎসা সেবা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক যেমন সার্জনের সাহায্য নিতে পারি। কিন্তু দুর্ঘটনাজনিত রোগও অনেক সময় রোগীর মধ্যে নানান শারীরিক-মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে। মানুষ হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। তখন ভিন্ন নামে রোগ শরীরে-মনে বাসা বাধে। তখনও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় চমৎকার ফল পাওয়া যায়।

বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন বলেছিলেন, প্রতিরোধের ১ আউন্স প্রতিকারের ১ পাউন্ড। নিশ্চয়ই রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিকারের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর। আমরা এই বস্তুগত বিশ্বে অনেক ব্যস্ত বিশেষত: পেশাগত তথা আর্থিক কারণে, বলতে গেলে অনেকটা বিরতিহীন। ভোরে ঘুম হতে ওঠার পর হতে রাতে ঘুমাতে যাওয়া অবধি আমাদের দায়িত্ব আমাদের কোন ছাড় দেয়না। এমনকি অনেকেই অস্থির নিদ্রা কিংবা অনিদ্রায় ভোগেন। আমরা সময় পাইনা একটু শরীর চর্চা করার। পুষ্টিকর খাবার নিয়ে ভাবার সময় কোথায়? সৃষ্টিকর্তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করাতো আরো অধিক কঠিন। রুগ্ন হবার জন্য এহেন জীবনযাত্রা কি যথেষ্ট দায়ী নয়?

আসুন আমরা সকলেই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হই। সুস্থ জীবন গড়ার জন্য প্রচেষ্টা চালাই।

পৃথিবীর সকল রগ্ন মানুষ সেরে উঠুন; সুস্থ থাকুন এই কামনা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.