চর্মরোগ-শ্বাসযন্ত্রের রোগ থেকে শুরু করে নানা ধরনের রোগে স্টেরয়েড বহুল ব্যবহৃত একটি ওষুধ। এটি ব্যবহারে রোগী প্রথমদিকে তাৎক্ষণিক কিছুটা উপশম পায়। কিন্তু দীর্ঘ দিন স্টেরয়েড ব্যবহারে দেখা দেয় ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও নতুন নতুন রোগ। তাছাড়া এক পর্যায়ে এ ওষুধে প্রাথমিক উপশম দিতেও ব্যর্থ হয়। বাজারে নানা ধরণের স্টেরয়েডে সয়লাব। গ্রামাঞ্চলে জ্বর থেকে শুরু করে শরীর ব্যথার জন্য শসার বিচির মতো দেখতে এক ধরনের সাদা বড়ি খুব বিক্রি হয়। অনেকেই জানেন না যে, এটাও এক ধরনের স্টেরয়েড। এ ছাড়া বাজারে প্রচলিত মোটা হওয়ার ওষুধ,ব্যথা কমানোর টোটকা ইত্যাদিতেও রয়েছে স্টেরয়েড। স্টেরয়েডের অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারের ফলে মারাত্মক এমনকি প্রাণঘাতী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়ে থাকে।

করটিসন, হাইড্রোকরটিসন, প্রেডনিসলন, ডেক্সামিথাসন ইত্যাদি নামে স্টেরয়েড ট্যাবলেট, ক্রিম, অয়েন্টমেন্ট, ইনজেকশন, স্প্রে,ইনহেলার বাজারে রয়েছে। দীর্ঘ দিন এই ওষুধ ব্যবহারের ফলে দেখা দেয় নানা ধরনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যেমন- অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, মুখ, গলা, ঘাড়, বুক, পেটে চর্বি জমা, পেশির দুর্বলতা, দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, অস্টিওপোরোসিস ইত্যাদি। এ ছাড়া বাহ্যিক ব্যবহারে ত্বক পাতলা হয়ে যায়, ব্রণ হয়, চুল পড়া বেড়ে যায়। মুখে বা শরীরে অবাঞ্চিত লোম বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিডনী, ফুসফুস, হৃদপিন্ড ইত্যাদিতে নানা জটিল রোগ হয়ে থাকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো,স্টেরয়েড ওষুধ সেবন করার কারণে দেহের স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক স্টেরয়েড হরমোন নিঃসরণের ছন্দপতন ঘটে।

এ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের গবেষণায় দেখা গেছে অধিকাংশ রোগীরই অতীতে কোন না কোন সময় স্টেরয়েড-কর্টিজন নামক ওষুধ ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। সুতরাং স্টেরয়েড-কর্টিজন বন্ধ করুন ও শ্বাসকষ্ট সহ অন্যান্য জটিল রোগ হতে বেচে থাকুন।

সে সকল কারণে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকেরা স্টেরয়েট, কর্টিজন বা কর্টিকোস্টেরয়েড টাইপের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সে সকল রোগ কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই দ্রুত নিরাময় যোগ্য।

ডা. বেনজীর, কনসাল্টেন্ট হোমিওপ্যাথ। https://drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *