হোমিওপ্যাথির বদনাম!!!😂

পানির ফোটা! পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই!! খুব স্লো!!!

ঘটনা আসলে কি???

হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের এজাতীয় ধারণা। দুঃখজনক হলো – কিছু হোমিওপ্যাথও হোমিওপ্যাথিতে তাদের স্বল্প জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাসের অভাবে এই ধারণা পোষণ করেন। দেখা যাক আসলে বিষয়টা কি?

হোমিওপ্যাথি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা। রোগীর লক্ষণ সমষ্টির সাথে ওষুধের লক্ষণসমষ্টির যত অধিক সাদৃশ্য পাওয়া যাবে রোগের নাম যাই হোকনা কেন অত্যন্ত সুক্ষ্ম মাত্রায় এটা বিদ্যুতগতিতে কাজ করবে নিঃসন্দেহে।

আর যে ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নাই তার কোন ক্রিয়াও নাই। এটাই বিজ্ঞান সম্মত। হোমিও চিকিৎসায় ভুল করলেই এর কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। সঠিক ওষুধ প্রয়োগে ভয়ের কিছু নেই, কোন ক্ষতিও হবেনা। ভুল হলো রোগীর মধ্যে ওষুধের সাদৃশ্যযুক্ত লক্ষণ না পেয়েও রোগীকে একক বা একাধিক ওষুধ প্রয়োগ করা। এটা চিকিৎসকের ব্যর্থতা; হোমিওপ্যাথির নয়।

এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা মূলত রোগলক্ষণ দমন করে। এখানে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে রোগের ডায়গনসিস করা হয় এবং রোগের নাম ছাড়া ডাক্তার চিকিৎসা দিতে অপারগ। ডাক্তার রোগীদের কষ্টের কথা তাদের মুখে শুনতে অভ্যস্ত নন। হাজারে ২/৪ জন ডাক্তার রোগীর কষ্ট শুনলেও তাদের চিকিৎসা পদ্ধতিতে কিছুই করার নেই। যেমন কোন কোন আইবিএস রোগীর দুধপানে বা মিষ্টিতে রোগ বৃদ্ধি পায়। ডাক্তারের উপদেশ দুধপান ও মিষ্টি খাওয়া সারাজীবনের জন্য বন্ধ। তাদের চিকিৎসায় রোগলক্ষণ দমিত হয়ে নতুন একটির পর একটি জটিলতার সৃষ্টি হয়। হোমিওতে এ রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। দুধপান ও মিষ্টি খাবারও রোগী খেতে পারবেন। কোন সমস্যা হবেনা।

হোমিওপ্যাথি রোগটিকে কিউর করে রোগীকে পরিপূর্ণভাবে নিরাময় করে, রোগের মূল বা শিকড় উপড়ে ফেলে অর্থাৎ রোগের প্রকৃত কারণ সনাক্ত করে তা দূর করে।। আর তাই চিকিৎসা দিতে রোগীর সাথে কথা বলতে হয়। কারণ, রোগ রোগীর কষ্টকর অনুভূতি ব্যতীত আর কিছুই নয়। ল্যাবটেস্টে যা পাওয়া যায় তা কেবল রোগের ফলাফল, রোগ নয়; রোগের কারণতো নয়ই। ল্যাবটেস্টে পাওয়া রোগনামক রোগের ফলাফলের যে চিকিৎসা এ্যালোপ্যাথরা দেন তার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। আর অস্বাভাবিক কোন সেল গ্রোথ হলে নির্বিচারে অপারেশন করা হয়। এর ফলাফল মারাত্মক যা আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পারছি। আমরা এমনও দেখেছি ডায়বেটিস, উচ্চ/নিম্ন রক্তচাপ, এ্যাজমা, এরকম হাজারো রোগের চিকিৎসা নাই। রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, এ ধারণা দিয়ে এ্যালোপ্যাথরা আজীবন চিকিৎসা চালিয়ে যান। ফলত: সংশ্লিষ্ট রোগটি তো কিউর হয়ই না বরং ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় নতুন ও জটিল সকল উপসর্গ। রোগের কারণ জিইয়ে রেখে ফলাফল নিয়ে মাতামাতি করলে রোগ কখনও নিরাময় হবার নয়।

হোমিওপ্যাথির ক্ষেত্রে বিষয়টি ঠিক উল্টো। স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া গেলে রোগী কিউর হবেন ইনশাল্লাহ। কিন্তু স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়াটা অনেক সময় একটা চ্যালেঞ্জ। বিশেষতঃ যে রোগী দীর্ঘদিন ধরে এ্যালোপ্যাথিক দমনমূলক চিকিৎসা নিয়েছেন, লক্ষণসমূহ সেখানে প্রতিনিয়ত দমন করা হচ্ছে। অনেক রোগী শেষ চিকিৎসা হিসেবে হোমিওপ্যাথের কাছে আসেন। সব চিকিৎসা শেষ করেই হোমিওপ্যাথের শরণাপন্ন হন। যখন আসলে কিছুই করার থাকেনা।

রোগকে আমরা মূলত: একিউট ও ক্রণিক এ ২টি ভাগে ভাগ করি।

একিউট রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির চমক আছে কারণ রোগী তার প্রতিটি লক্ষণ স্পষ্ট হ্রাস-বৃদ্ধি সহ উল্লেখ করতে পারেন। ডাক্তারও তার রোগী পর্যবেক্ষণ এবং রোগীর আত্মীয়-পরিজন হতে রোগীর রোগ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় লক্ষণ পেয়ে থাকেন যা কখনও কোন টেস্ট রিপোর্ট আসেনা। উদাহরণ দিব মলদ্বার দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত আসে এমন পাইলস্ রোগীর যিনি দেশে বিদেশে বহু আধুনিক চিকিৎসা নিয়েছেন বছরের পর বছর। বহুবার এন্টিবায়োটিক সহ অন্যান্য ওষুধ সেবন করেছেন কিন্তু কোন কাজ হয়নি। মাত্র ২ দিন হোমিও চিকিৎসায় তার রক্তপাত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। এমন উদাহরণ অনেক আছে। কিন্তু চিকিৎসককে স্পষ্টভাবে সকল লক্ষণাবলী জানতে হবে, কেসটি যে প্রক্রিয়ায় নেয়া উচিত সেভাবে নিতে হবে। লক্ষণসকল গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। তারপর ওষুধের শক্তি-মাত্রা নির্বাচন করে প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই কাংখিত ফল পাওয়া যাবে। অনুমানভিত্তিক ওষুধ প্রয়োগে কোন ফল হবেনা। একসাথে একাধিক ওষুধ প্রয়োগেও হোমিওপ্যাথ বিফল হবেন। হোমিওপ্যাথি যে স্লো নয় তার প্রমাণ বহুক্ষেত্রে দেয়া যায়। সফল অনেক হোমিওপ্যাথ তার প্রমাণ প্রতিদিন দিচ্ছেন।

ক্রণিক রোগীর চিকিৎসা একটু ভিন্ন। রোগী এক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে রোগভোগের ফলে অনেক কিছু সঠিকভাবে ডাক্তারকে বলতে পারেন না। অধিকন্তু, দমনমূলক এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণের ফলে রোগের হ্রাস-বৃদ্ধির নির্দিষ্ট প্যাটার্ণটি হারিয়ে যায়। অধিকদিন দমনমূলক চিকিৎসা গ্রহণ করায় রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্যের স্তরটি অনেক নিচে নেমে যায়। রোগীর স্বতন্ত্র্য রোগ বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়। রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাটি ভেংগে পড়ে। এক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষণাদি পাওয়া যায়না। গভীর পর্যবেক্ষণ করলে এবং এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা বর্জন করতে পারলে রোগীর মধ্যে ধীরে ধীরে তার বৈশিষ্ট্যসূচক লক্ষণাদি ফিরে আসে। রোগীকে আমরা স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে ১২ টি লেভেলে ভাগ করি। ১ম লেভেলের ক্রণিক রোগীও ১-২ মাসের মধ্যেই কিউর হন। কিন্তু যেসকল রোগী অধিকদিন এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন তারা নীচের দিকের লেভেলে অবস্থান করেন বিধায় তাদের নিরাময় করতে একটু সময় লাগবেই। কিন্তু তারও কিউর আছে। এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের মত আমরা এজাতীয় রোগকে নিরাময় অযোগ্য বলবো না। ”রোগ আছে অথচ চিকিৎসা নেই” – এমন রোগ আল্লাহ সৃষ্টি করেননি। ডাক্তার একথা বলার কে? জটিল রোগীর লক্ষণাবলীও স্পষ্ট পাওয়া গেলে রোগী তাৎক্ষণিক ফল পাবেন চিকিৎসায়। কারণ, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সকল রোগীর ক্ষেত্রে এক রকম নয়। স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া না গেলে ধাপে ধাপে তার চিকিৎসায় অগ্রগতি হবে। এটাই নিয়ম। তবে একসাথে একাধিক ওষুধ প্রয়োগে এই ফলাফল আশা করা বৃথা।

আর হোমিওপ্যাথির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া?

সহজ কথায় বললে রোগীর জন্য প্রযোজ্য নয় অর্থাৎ তার লক্ষণসমষ্টির সাথে সাদৃশ্যযুক্ত নয় এমন ভুল ওষুধ দিলে তা রোগীর উপর কোন কাজ করবেনা, রোগও সারাবে না। কিন্তু সেই সকল ভুল ওষুধের লক্ষণাবলী কৃত্রিমভাবে রোগীতে প্রকাশিত হবে। যাকে আমরা প্রুভিং বলি। অনবরত এমন ভুল ওষুধ প্রয়োগ করা হলে ঐ রোগীর ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য, রোগের হ্রাস-বৃদ্ধির প্যাটার্ণটি নষ্ট হয়ে রোগীর লক্ষণাবলীকে অস্পষ্ট ও জটিল করে ফেলে। সঠিক ওষুধ প্রয়োগে কখনও কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হবেনা।

প্রয়োজনে ডাঃ বেনজীরকে ফোন করুন (০১৭৩৩৭৯৭২৫২) বা অধিক তথ্যের জন্য ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *