প্রকৃতপক্ষে রোগী অর্থ একজন অসুস্থ মানুষ। বিষয়টি এমন নয় যে মানুষটি ডায়বেটিস, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট বা অন্য যে কোন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলেই তাকে রোগী বলছি। বরং উল্টোটাই সত্য। অর্থাৎ মানুষটি অসুস্থ বলেই তার শরীর-মন-আবেগের ক্ষেত্রসমূহে নানা নামে নানা রোগের উৎপত্তি হয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে, যাকে এ্যালোপ্যাথরা ডায়গনসিস করে রোগের একেক টি নাম দেন। ধরুণ একজন রোগী একাধারে ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদিতে আক্রান্ত। এ্যালোপ্যাথিক ডক্টর তাকে চিকিৎসা দিলে রোগীতে যতটি রোগের নাম পাওয়া যাবে তার প্রতিটির জন্য এক/একাধিক ওষুধ প্রয়োগ করবেন। অর্থাৎ রোগের নামের উপর প্রেসক্রিপশন দিবেন। রোগীর কথা মাথায়ও রাখবেন না। রোগের নাম প্রকৃত অর্থে রোগের ফল, রোগ নয়। আমরা দেখছি যে, ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীকে একাধারে সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন দেয়া হচ্ছে আবার ইনসুলিন যেন ভালভাবে কাজ করে তার জন্য অন্যান্য একাধিক ওষুধও দেয়া হচ্ছে। মুলত: চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য। ডায়বেটিস আরোগ্যের জন্য নয়। তারা ঘোষণা করেছেন ডায়বেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ অনারোগ্য। তাই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। দমন বা নিয়ন্ত্রণ করে আরোগ্য সম্ভব নয়। রোগীর পূর্ণাংগ চিকিৎসা না করেও আরোগ্য সম্ভব নয়।

হোমিওপ্যাথিতে যেহেতু রোগীই অসুস্থ মনে করা হয় তাই রোগীর প্রধান লক্ষণ সহ তার আনুষংগিক শারীরিক-মানসিক-আবেগিক ও অন্যান্য অবস্থা বিবেচনা করে ওষুধ সেবন করানো হয়। প্রতিটি প্রাকৃতিক রোগেরই প্রাকৃতিক হ্রাস-বৃদ্ধির প্যাটার্ণ থাকে। হ্রাসবৃদ্ধির এই প্যাটার্ণের মধ্যেই রোগের প্রকৃত কারণ লুকিয়ে থাকার কথা। এই প্যাটার্ণই প্রকৃতপক্ষে নির্দিষ্ট রোগীর রোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। যেমন ধরুন কারো ডায়বেটিস বা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে প্রচন্ড মানসিক চাপ বা স্ট্রেস, কারো বা ব্যবসায়ে লোকসান কারো বা বিশৃংখল জীবনযাত্রা। চিকিৎসা ও উপদেশ দিয়ে কারণগুলিকে দুর করা হলে রোগী সুস্থ হয়। রোগের নাম যাই হোক না কেন হ্রাস-বৃদ্ধির ধারাটি জানা গেলে রোগী আরোগ্য হবেন আর রোগনামক ফলটি থাকবে না। আর যদি রোগীর সার্বিক কষ্টকর লক্ষণাবলী এবং তার জীবনযাত্রার বিশৃ্ংখলাকে বিবেচনা না করে কেবল রোগের নাম অথাৎ ডায়বেটির, হৃদরোগের, উচ্চরক্ত চাপ ইত্যাদি নামক রোগের ফলকে বিবেচনা করে আজীবন চিকিৎসাও দেয়া হয় তবু কখনও তা আরোগ্য হবার নয়।

এ্যালোপ্যাথরা ডায়বেটিসে আক্রান্ত রোগীর ব্লাড সুগার স্বাভাবিক মাত্রায় রাখার জন্য টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া অন্য কোন কিছুই বিবেচনা করেন না। তাদের উদ্দেশ্য রোগ আরোগ্য নয়; দমন। এই কথা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সহ সকল প্রাকৃতিক রোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কখনই দুর্ঘটনাবশতঃ কোন রোগকে আমরা একই নিয়মে চিকিৎসা দিবনা। সেখানে জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা প্রয়োজন তাই করতে হবে। হোক তা সার্জারী বা এ্যান্টিবোয়োটিক বা অন্যকিছু। কিন্তু এটাও সত্য দুর্ঘটনাজনিত মানসিক ট্রমা, স্মৃতিশক্তির গোলযোগ এবং দুর্ঘটনা পরবর্তী জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রেও হোমিও চিকিৎসা সর্বশ্রেষ্ঠ।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *