ব্যাক্টেরিয়াজনিত জীবাণুর সংক্রমণ হতে রোগীকে বাঁচাতে এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। ক্ষেত্র বিশেষে আমরা এর ব্যবহারকে সাপোর্ট করি। কিন্তু আজকাল যেভাবে এ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে তা বড়ই আশংকাজনক। স্বল্পমাত্রার এ্যান্টিবায়োটিক এখন আর কাজ করছে না। আগে ডাক্তাররা ৫/৭ দিনের কোর্স দিয়ে এ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করতেন। এখন মাসের পর মাস ধরে চলে এ্যান্টিবায়োটিক। কি করে এটা সম্ভব? দেশের একটি খ্যাতনামা হাসপাতালে ডাক পেয়ে দেখলাম ইটালীর এক রোগীকে একাধারে ৩ টি করে এ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে কয়েকমাস ধরে। ভাবটা এমন- ”কোন না কোনটা তো কাজ করবে; যেটা কাজ করে”। ঐ রোগীর ক্ষেত্রে বাস্তবে কোন ওষুধই আর কাজ করছিল না। আমাকে ডাকা হয়েছিল এজন্যই যে – আমি যেন এমন ওষুধ দেই যাতে তাদের ওষুধ কাজ করে। আফসোস!!! সামান্য ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে ঐ ইটালিয়ান বৃদ্ধা গিয়েছিলেন ১ম সারির ঐ হাসপাতালে আউটডোর সেবা নিতে। তাকে সাথে সাথে আইসিইউতে ভর্তি করে নেয়া হয়। আমি যখন গেলাম তখন তার কিডনী, লিভার প্রায় যাবার পথে। তখন তিনি আড়াই মাস ধরে কমায় (অজ্ঞানাবস্থায়) ছিলেন।

এখন বলি ব্যাক্টেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণে হোমিওপ্যাথি কি করে কাজ করে। প্রথম কথা- ঐ ইনফ্লুয়েঞ্জার রোগীর চিকিৎসা অত্যন্ত সহজ একটি কাজ ছিল। কারণ, ঐটা একটা প্রাকৃতিক রোগ। প্রতিটি প্রাকৃতিক রোগের মত এখানেও স্পষ্ট হ্রাস-বৃদ্ধির ধারা বিদ্যমান ছিল। তা বিবেচনা করেই তাকে সহজে সফল চিকিৎসা দেয়া যেত যাতে তিনি ২/৪ দিনেই রোগমুক্ত হতেন। একইভাবে কলেরা/ডায়রিয়া, রক্ত আমাশয়, খাদ্যে বিষক্রিয়ার মত কেসগুলি এ্যালোপ্যাথিক মেডিসিনে যেখানে ৭/১৪/২১ দিনে কিউর (?) করে, হোমিওপ্যাথিতে সেটা ২/১ দিনেই কিউর করা সম্ভব। তবে সবার জন্য একই ওষুধ নয়। লক্ষণ বলে দেবে কার জন্য ওষুধ কি হবে। যেমন ধরুন, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে একজন রোগীর অতি ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, বমি, দ্রুত শক্তি ক্ষয় হয়ে কোলাপ্সের মত অবস্থা, অস্থিরতাসহ রোগীর মৃত্যুভয় ইত্যাদিলক্ষণসহরোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়লে আর্সেনিকাম এ্যালবাম নামক ওষুধের ২/১ মাত্রায় রোগী ২/১ দিনের মধ্যে কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ছাড়াই দ্রুত ও পূর্ণাংগ আরোগ্য লাভ করবে। এ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে এ চিকিৎসা হাজার গুণ শক্তিশালী ও দ্রুত।

এ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতিটা ব্যাপক ও দীর্ঘস্থায়ী। এটা মানবদেহে বিদ্যমান ভাল ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করে ফলতঃ রোগী আপাততঃ রোগমুক্ত হয়েছে ধারণা করা হলেও রোগীর সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে ঘন ঘন সে নানান রোগে আক্রান্ত হয়। এ্যান্টিবায়োটিক রেসিন্ট্যান্স আরেকটি বড় সমস্যা যেখানে আর এ্যান্টিবায়োটিক আগের মত কাজ করেনা। আমরা প্রতিনিয়ত শক্তিশালী এ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার দেখছি। ১ম, ২য় জেনারেশনের এ্যান্টিবায়োটিক বাজার হতে এখন বিলুপ্তপ্রায়। নবজাতক শিশুকেও এখন দেয়া হয় ৩য় জেনারেশনের শক্তিশালী এ্যান্টিবায়োটিক। ভয়াবহ অবস্থা!!

হোমিও চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক হলেও এটা রোগীতে বিদ্যমান ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করে, ভাল ব্যাক্টেরিয়াকে প্রমোট করে। সর্বোপরি, এ চিকিৎসা জীবনিশক্তিকে শক্তিশালী করে রোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে মানুষকে রোগাক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *