হোমিওপ্যাথিক ওষুধ গ্রহণ করার পর অবিলম্বে তা কাজ শুরু করে। সচরাচর দেখা যায়, প্রচন্ড মাথাব্যথার রোগীও ওষুধ সেবনের মিনিটের মধ্যে উপশম বোধ করেন। তবে অন্যান্য রোগের মত এখানেও সবার মাথাব্যথার চিকিৎসা কখনও এক নয়। রোগীর সার্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে সম্পূর্ণ নিরাময় পেতে কিছু সময় লাগতে পারে। জ্বর, সর্দি, কাশির মত একিউট রোগের ক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগী ২/১ দিনের মধ্যেই আরোগ্য লাভ করেন। ক্রণিক রোগের চিকিৎসায় রোগীরা কয়েকদিনের মধ্যে ভাল বোধ করতে শুরু করেন। ক্রণিক রোগ যেমন এ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়বেটিস যেহেতু দীর্ঘ সময় ধরে বিকাশ লাভ করে তাই আরোগ্য সাধন প্রক্রিয়াটি বিপরীত ক্রমে শুরু হয় যেখানে প্যাথলজিক্যাল পরিবর্তন বিপরীতক্রমে হয়। কেসের জটিলতা ভেদে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। আর্থ্রাইটিসের মত জটিল ক্ষেত্রেও অধিকাংশ রোগী ২ সপ্তাহের মধ্য ব্যাপক উন্নতি লাভ করেন।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক। হোমিওপ্যাথের কাজ রোগীর প্রাকৃতিক সকল লক্ষণাবলী সংগ্রহ করে তার সাথে মিলিয়ে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করা। এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথ রোগীর প্রধান কষ্ট/রোগ/ লক্ষণাবলীর সাথে অবশ্যই রোগীর সার্বিক শারীরিক-মানসিক অবস্থা জেনেই সদৃশতম ওষুধটি খুঁজবেন। চ্যালেঞ্জ হলো – যে সকল লক্ষণাবলীর উপর ভিত্তি করে হোমিওপ্যাথ ওষুধ নির্বাচন করবেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশেষতঃ ক্রণিক রোগীর ক্ষেত্রে নানান ভুল চিকিৎসার নামে সেই সকল লক্ষণাবলী দমন বা বিলুপ্ত করা হয়। এ অবস্থায় ল্যাবটেস্টভিত্তিক রোগের নাম ছাড়া তেমন কিছু অবশিষ্ট দেখতে পাওয়া যায়না। অথচ প্রাকৃতিক প্রতিটি রোগেরই প্রাকৃতিক হ্রাস-বৃদ্ধি থাকে যা সফল হোমিও চিকিৎসা দিতে অত্যন্ত জরুরী। কেবল এসকল রোগীর ক্ষেত্রে অধিক সময় প্রয়োজন। ধাপে ধাপে রোগী স্বাভাবিক অবস্থার দিকে যেতে থাকেন, লক্ষণ পরিবর্তন হয়, ওষুধের ও পরিবর্তন করতে হয়ে পরিবর্তিত লক্ষণ বুঝে। সময় এজন্যই দরকার যে তাদের ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থায় কোন ওষুধের  সম্পূর্ণ সদৃশ লক্ষণ পাওয়া যায়না। খন্ডিতভাবে / আংশিকভাবে বহু ওষুধের চিত্র পাওয়া যায়। তাই ২/১ টি ওষুধ দিয়ে এ রোগীকে দ্রুত কিউর করা সম্ভব নয়। বলাবাহুল্য, এ জাতীয় রোগীকে এক পর্যায়ে এ্যালোপ্যাথিক ডাক্তার অনারোগ্য ঘোষণা করেন অথবা সারাজীবন চিকিৎসা চালিয়ে সেই রোগ দমনের পরামর্শ দেন। দুঃখজনক হলো এজাতীয় রোগীরা উপায়ান্তর না দেখে শেষ ব্যবস্থা হিসেবে হোমিপ্যাথের নিকট আসেন। ঐ মুহুর্তে তাদের অবস্থা জটিলতর। এমনকি ক্রমাগত নানা দমনমূলক চিকিৎসা চলতে থাকায় পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ামূলক অনেক কৃত্রিম রোগের সৃষ্টি হয় যাতে রোগীর অবস্থা জটিল হতে জটিলতর হয়ে থাকে। কি করে এ অবস্থায় রোগের সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব? এটা হোমিওপ্যাথির দুর্বলতা নয়, হোমিওপ্যাথির সমস্যাও নয়। রোগীকে এক্ষেত্রে ধৈর্য্যের পরিচয় দিতেই হবে। কারণ, এটা মনে রাখা আবশ্যক যে, যে রোগের কোন চিকিৎসাই অন্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে নেই, সেটা সারাতে যদি কিছু সময় লাগেই তবে সেজন্য চেষ্টা করা উচিত। শেষ কথা, হোমিও চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আবশ্যক। নিয়মে প্রত্যাবর্তন করলে আরোগ্যও ত্বরান্বিত হবে ইনশাল্লাহ্। অধিকাংশ আধুনিক ক্রণিক রোগের মূল কারণ হচ্ছে বিশৃংখল জীবনযাপন। সারাজীবন দমনমূলক চিকিৎসা চালিয়ে নতুন নতুন জটিল রোগের আক্রান্ত হবেন; নাকি কিছু সময় লাগলেও হোমিও চিকিৎসা নিয়ে নির্মল আরোগ্য লাভ করবেন সেটা রোগীর একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.