হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে ভ্রান্ত অথচ জনপ্রিয় কিছু কথা কেন জানি প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়েছে। তার একটি হলোঃ ”হোমিওপ্যাথির কোন সাইডইফেক্ট নেই। আসলেই কি বিষয়টা তাই?

আবারো মনে করিয়ে দিই হোমিওপ্যাথি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা। হোমিওপ্যাথ রোগীর সার্বিক লক্ষণের সাথে সর্বাধিক সদৃশযুক্ত ওষুধটি নির্বাচন করবেন এবং উপযুক্ত শক্তি ও মাত্রায় তা প্রয়োগ করবেন। ”ওষুধটি” বললাম এজন্য যে রোগীকে কখনও একসাথে একাধিক ওষুধ প্রয়োগ করার নিয়ম হোমিওপ্যাথির নীতি ও দর্শনবিরুদ্ধ। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময়ে রোগীকে একটির অধিক ওষুধ দেবার নিয়ম নেই। রোগ/রোগলক্ষণের সংখ্যা ১০/২০/২৫ যাই হোকনা কেন। একসাথে একাধিক ওষুধ দেয়া বিজ্ঞান সম্মতও নয়। বিজ্ঞানসম্মত না হবার কারণ যখন হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রুভিং (সুস্থ রোগী দেহে পরীক্ষা) করা হয়েছে তখন কখনই একসাথে একাধিক ওষুধ পরীক্ষা করা হয়নি বা করা সম্ভবও নয়। কেন নয়? কারণ, একাধিক ওষুধ প্রয়োগ করা হলে কোন্ ওষুধে মানবদেহ-মনে কি কি লক্ষণ কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করছে তা বোঝার কোন বিজ্ঞান সম্মত উপায় নেই। অথচ হোমিও চিকিৎসার বৈজ্ঞানিক ভিত্তির অন্যতম বিষয় এই ”প্রুভিং”। সুস্থ শরীরে ওষুধ প্রুভিং কালে যে ওষুধ মানবদেহ-মনে যে জাতীয় লক্ষণ উৎপাদন করে, একই জাতীয় প্রাকৃতিক রোগলক্ষণ নিয়ে আসা মানুষের জন্য ঐ একই ওষুধ সেবন করিয়ে তাকে কিউর করা হবে। এটা চিরন্তন সত্য। প্রশ্ন আসতে পারে রোগীর ১০/১৫/২০ বা তার অধিক লক্ষণই কি একই ওষুধে সারাবে? সহজ উত্তর হলোঃ যতটুকু ওষুধের সদৃশ লক্ষণ সংশ্লিষ্ট রোগীতে পাওয়া যাবে ততটুকু ইনশাল্লাহ সারাবে। বাকী যেসব লক্ষণ থেকে যাবে তার জন্য পরবর্তী ফলোআপে বিস্তারিত জেনে পরবর্তী ওষুধ কি হবে তা নির্ধারণ করা হবে। কখনও একসাথে ১০/২০ টি ওষুধ প্রয়োগ সঠিক সমাধান হতে পারেনা। একিউট রোগীতে ১টি মাত্র ওষুধে রোগীর পূর্ণ আরোগ্য হলেও জটিল/ক্রণিক রোগীর ক্ষেত্রে অনেক সময় একটা মাত্র ওষুধে পূর্ণ রোগীর চিকিৎসা হয়না। একটি ওষুধ সেবনের পর রোগীর রোগের চিত্র পরিবর্তন হয়। সেক্ষেত্রে অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা; হতে পারে তা নতুন একটি ওষুধ।

সাইড ইফেক্টের প্রশ্ন সদৃশতর একটিমাত্র ওষুধ প্রয়োগে কখনও আসেনা। ওষুধকে যেভাবে অনবরত/বহুবার ডায়লিউশন ও সাক্কাশন (শক্ত ঝাঁকুনি) মাধ্যমে সুক্ষ্ম হতে সূক্ষ্মতরভাবে প্রস্তুত করা হয় তাতে তার টক্সিক ইফেক্ট (বিষক্রিয়া) আর থাকেনা। অধিকন্তু, যে সূক্ষ্ম মাত্রায় রোগীকে সেবন করানো হয় তাতে রোগীতে কোন ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনা। ওষুধ প্রয়োগ করার পর কখনও কখনও রোগীভেদে বিদ্যমান লক্ষণসমূহের সাময়িক বৃদ্ধি দেখা যায় যা অত্যন্ত ইতিবাচক। সঠিক ওষুধ যে নির্বাচিত হয়েছে এটা তারই প্রমাণ। অবশ্য ওভারডোজিং হবার জন্যও রোগীর মধ্যে বৃদ্ধি পাওয়া লক্ষণগুলি কিছু সময় থাকতে পারে যা ওষুধ বন্ধ করে দিলে খুব কম সময়ে চলে যায়। অনেক সময় দেখা যায় ওষুধ রোগ কিউর করে রোগীতে প্রুভিং শুরু করে দিয়েছে। এটা ক্ষতিকর কিছু নয়।

ক্ষতিকর তবে কি? যখনি একসাথে একাধিক ওষুধ প্রয়োগ করা হবে তখন (১) রোগীর ভেতর যে সকল লক্ষণাবলীর প্রাকৃতিক হ্রাস-বৃদ্ধির ধারা বিদ্যমান ছিল তা নষ্ট হয়ে যায়। (২) রোগীর অবস্থা জটিল হতে জটিলতর হতে থাকে। (৩) পরবর্তী ফলোআপে কোন ওষুধে রোগীর কি উপকার/ক্ষতি করলো তা বোঝার উপায় থাকেনা। (৪) রোগীর ভেতর দীর্ঘদিন বহু ওষুধের চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। (৫) রোগীর জন্য আরোগ্যকর ১টি মাত্র ওষুধ খুঁজে পাবার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। (৬) এ সকল রোগীর কেস পরবর্তীতে দীর্ঘসময় অস্পষ্ট থাকে বিধায় তাদের আরোগ্য করতে হোমিওপ্যাথকে বেগ পেতে হয়। অবশ্য দীর্ঘদিন চিকিৎসা বিরতি থাকলে এই ক্ষতিকর দিকগুলি চলে যায়।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *