অনেক রোগী জিজ্ঞাসা করেন – “আপনি কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ?” তাদের জবাবে আজকের লেখা। প্রকৃতপক্ষে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের ধারণাটি অচল। জানি কিছু হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার নিজেকে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের মত চর্ম, যৌন, শিশু, স্ত্রীরোগ বা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ বলে দাবী করেন, প্রচার করেন। কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে বিশেষজ্ঞের ধারণাই ভ্রান্ত বা অচল। বিশেষজ্ঞ যদি দাবী করতেই হয় তবে ”হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ” বলা কিছুটা সংগত হলেও হতে পারে। কোন নির্দিষ্ট রোগের নামে বা রুগ্ন অংগ প্রত্যংগের খন্ডিত অংশের নামে বিশেষজ্ঞ দাবী কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তা সেই সকল হোমিওপ্যাথের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত যারা ”অর্গানন অব মেডিসিনে” এর নিয়ম মেনে রোগীর কেস নেন, ফলোআপ করে এবং যারা সারাটা জীবন এ বিষয়ের উপর অধ্যয়ন করেন এবং অর্জিত জ্ঞান সঠিকভাবে প্রয়োগ করেন। মনে রাখতে হবে সারা জীবন তিনি যে ধরণের শত সহস্র রোগীই দেখবেন, সবাই কোন না কোন ভাবে অন্য সবার থেকে আলাদা যদিও তাদের অনেকেই একই জাতীয় রোগ সারাতে তার কাছে আসেন বা আসবেন।

এ্যালোপ্যাথিতে আমার জানামতে ৪ শতাধিক বিশেষজ্ঞ আছেন। আমরা সার্জন ছাড়া আর কোনও বিশেষজ্ঞের কোন দরকার আছে বলে মনে করিনা। যদিও উন্নত দেশসমূহে এই সার্জনদের ভেতরই ৩০-৫০ ক্যাটাগরির বিশেষজ্ঞ আছেন। অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা যেমন নিজেকে রোগীর সুনির্দিষ্ট অংগ প্রত্যংগের খন্ডিত/ক্ষুদ্র কোন অংশের বিশেষজ্ঞ বলে দাবী করেন, সার্জনদের মধ্যেও তেমন বিভক্তি আছে অর্থাৎ যিনি হার্টের সার্জারী করেন তিনি আবার নাক-কান-গলার সার্জারী করেন না বা জানেন না। চোখের সার্জনও আলাদা এমনকি চোখ বা ত্বকের নির্দিষ্ট অংশের জন্যও পৃথক সার্জন আছেন। ভেবে দেখতে হবে এত শত বিশেষজ্ঞের যৌক্তিকতা কি। এদের কেউ কি রুগ্ন মানুষটিকে নিয়ে ভাবে?

হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে মনে করা হয় জীবনীশক্তির দুর্বলতাজনিত কারণে এক ধরণের রোগপ্রবণতা সৃষ্টি হয়। মানুষটির জীবনীশক্তি তথা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হলে মানুষের শরীর-মনে সুনির্দিষ্ট নামে নানা রোগ দেখা দেয়। চিকিৎসাতে তাই পুরো মানুষটিকে বিবেচনা করতে হয়। নাহলে রুগ্ন মানুষটিকে চিকিৎসা দিয়েও তাকে রোগমুক্তও করা যায়না। প্রশ্ন আসবে – একজন হোমিওপ্যাথ কি করে সকল রোগীর চিকিৎসা করবেন? হোমিওপ্যাথ কি সকল রোগের বিশেষজ্ঞ? উত্তর সহজ। প্রাকৃতিক রোগের প্রাকৃতিক ভাষা আছে। হোমিওপ্যাথকে প্রকৃতির ভাষা জানতে হয়। যা সে জেনেছে মেটিরিয়া মেডিকা নামক গ্রন্থ হতে – হোমিওপ্যাথির শত শত ওষুধ সম্পর্কে অধ্যয়ন করে। আর এ ওষুধের জ্ঞান হতে রোগের প্রাকৃতিক লক্ষণাবলী বিষয়ে জানা গেছে সরাসরি সুস্থ ব্যক্তির উপর ওষুধ প্রুভিং হতে। একটি ওষুধ সুস্থ মানবদেহে কৃত্রিমভাবে যে রোগ বা রোগলক্ষণসমূহ সৃষ্টি করে, প্রাকৃতিকভাবে অসুস্থ মানবদেহ-মনে সেই রকমই প্রাকৃতিক লক্ষণাবলী দেখা যায় যা কেস টেকিং এর মাধ্যমে হোমিওপ্যাথ অনুসন্ধান করেন। দুর্ঘটনাজনিত রোগ বরাবরই এর ব্যতিক্রম। একই জাতীয় রোগের চিকিৎসা এ্যালোপ্যাথিকে একই হলেও; একই জাতীয় রোগে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতিটি রোগীকে পৃথক ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয়। এ্যালোপ্যাথিতে যেখানে একই জাতীয় রোগের মিল দেখে একইজাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হয় হোমিওপ্যাথিতে সেখানে রোগীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য নির্ধারণ করেই পৃথক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এটাই একদিকে যেমন হোমিওপ্যাথের বিশেষত্ব তেমন হোমিওপ্যাথের জন্য চ্যালেঞ্জও বটে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কেস টেকিং এ হোমিওপ্যাথকে দক্ষতা অর্জন করতে হয়, মেডেরিয়া মেডিকা তথা ওষুধ সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান অর্জন করতে হয়, মানুষের প্রাকৃতিক রোগের ভাষা মানুষ যেভাবে ব্যক্ত করে তাকে রেপার্টরীর ভাষায় অনুবাদ করতে হয়, স্টাডি করতে হয়। তবেই চিকিৎসায় সফলতা অর্জন সম্ভব। হোমিওপ্যাথকে মানুষের এনাটমি, ফিজিওলজি, প্যাথলজি ইত্যাদির জ্ঞানসহ হোমিওপ্যাথিক ফিলসফি যা সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত সে সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান লাভ করতে হয়। হোমিওপ্যাথিই একমাত্র হলিস্টিক চিকিৎসা ব্যবস্থা যেখানে মানবের দেহ-মনের খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখতে হয়। মানবপ্রকৃতি বড়ই জটিল। ল্যাবটেস্ট এই জটিল প্রকৃতি নির্ণয়ে কোন ভুমিকাই রাখেনা। ভূমিকা রাখে রোগীর কষ্টকর অনুভূতি যা রোগী নিজেই ব্যক্ত করেন, তার আত্মীয়-পরিজন যারা তার সেবা যত্ন করেন তাদের কথা, হোমিওপ্যাথের নিগুঢ় পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি। মোটকথা, এ্যালোপ্যাথিক বিশেষজ্ঞের মত চোখ বুঝি নাক-কান-গলা বুঝিনা অথবা বিশেষজ্ঞ হওয়ার নামে মানুষের দেহ-মন কে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংগ প্রত্যংগে বিভক্ত করলে চিকিৎসায় সফলতা আসেনা। অনেক মানসিক বা আবেগিক বিষয়ের কারণেও মানুষের শারীরিক রোগ হয়। এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগী আরোগ্য হয়না; বড়জোর উপশম হয়। আর তা হয় লক্ষণ দমনের মাধ্যমে। উদাহরণস্বরূপ, একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগী। এ্যালোপ্যাথ যদি মনে করেন এই রোগীর একমাত্র সমস্যা উচ্চ রক্তচাপ, তবে কখনও তার উচ্চ রক্তচাপ সারাতে পারবেন না। এখানে রোগ নিয়ে ভাবা হচ্ছে কেবল, রোগীকে নিয়ে নয়। হোমিওপ্যাথ ভাববেন কেন, কি অবস্থায় এই রোগীর উচ্চ রক্তচাপ হলো। কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হয় হোমিওপ্যাথিতে। এটা জানতে সহজ উপায় রোগীর পুর্ণাংগ কেস নেয়া যেখানে রোগীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক রোগ বৃত্তান্ত ছাড়াও রোগীর শারীরিক-মানসিক-আবেগিক কোন অবস্থাকেই এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। হতে পারে বিশৃংখল জীবনযাত্রাই উচ্চ রক্তচাপের কারণ, হতে পারে কোন শারীরিক-মানসিক ট্রমা বা মানসিক চাপ রোগের কারণ। সেটা উদঘাটনে ল্যাবটেস্টের চেয়ে রোগীর কথাই গুরুত্বপূর্ণ। আর যেহেতু সবার সার্বিক পরিস্থিতি পৃথক, চিকিৎসাও তাই পৃথক হবে। একই জাতীয় রোগী হলে তাদের সাধারণীকরণ করে একই চিকিৎসা দেয়া কখনও ফলদায়ক হবেনা।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

4 Responses

  1. আমার বড় ছেলের বয়স ১০বছর প্লাস, সে হটাৎ কয়েক দিন যাবত পস্রাব করার সময় অল্প অল্প পস্রাব হয়। কোন ধরনের চাপ পায়নি। তার হোমীয় সমাধান কি? মোবাইল ০১৬০৯৩৬৮৮৯৯

    1. ধন্যবাদ। আপনি ফোনে কথা বলুন। চেম্বারে আসতে না পারলে সব জানিয়ে অনলাইন সেবা নিন। ডা: বেনজীর ০১৭৩৩৭৯৭২৫২

  2. pore giye ba aghat peye kew jodi rogakranto hoi ? she khtre ki vaba hobe ? jhetu ata ter aga kar kono rog noi..

    1. ধন্যবাদ। চিকিৎসা আছে তবে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা করানো উচিত। যত বিলম্ব হবে তত আরোগ্যে সময় লাগবে। আপনি এখানে না লিখে সরাসরি ফোন দিবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.