অধিকাংশ রোগীর জিজ্ঞাসা – ”রোগ আরোগ্যে কত সময় লাগবে”? প্রকৃত কথা হলো হোমিওপ্যাথি রোগ নয়; রোগীর আরোগ্য করে। কারণ, মানুষের জীবনীশক্তিই সবার আগে আক্রান্ত হয়। এরপর রোগ দেহমনে নানা নামে আত্মপ্রকাশ করে। আক্রান্ত জীবনী শক্তির সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর আরোগ্যের সময় নির্ভর করে। তবে যারা রোগী আরোগ্য না করে রোগের চিকিৎসা করেন মাত্র; তাদের কাছে আরোগ্যের ধরাবাঁধা সময় থাকা তো দুরের কথা – বরং চিকিৎসা চলবে আজীবন। ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এ্যাজমা কোন্ রোগের কথা বলবেন? তাদের বিবেচনায় সব অনারোগ্য – অতএব চিকিৎসা চলবে আজীবন। দুঃখ পাই এজাতীয় রোগী অনেক ব্যয়বহুল চিকিৎসা সারাজীবন ধৈর্য ধরে নিতে অভ্যস্ত হলেও, হোমিও চিকিৎসা নিতে এসে হোমিওপ্যাথকে ব্যতিব্যস্ত রাখেন, বার বার তাগাদা দেন, জানতে চান কবে সারবে তার রোগ।

হোমিওপ্যাথির বিষয়টা অন্যরকম। জীবনীশক্তি তথা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে, রোগ পুন:পুন: দমন করা না হলে, অঙ্গ প্রত্যঙ্গের গঠনগত অস্বাভাবিকতা দেখা না দিলে রোগীর মধ্যে সুস্পষ্ট প্রাকৃতিক লক্ষণ দেখা যাবে। অনেকে দাবী করেন রোগভোগের মেয়াদ ১২ মাস হলে তা নিরাময়ে ১ মাস লাগে। একথার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আসল কথা লক্ষণের ষ্পষ্টতা। রোগী ”লেভেল অব হেলথ” (প্রফেসর ভিথোলকাসের ধারণাজাত) -এর কোন স্তরে আছেন তার উপর আরোগ্য নির্ভর করে। লেভেল অব হেলথ্ অনুযায়ী রোগীর অবস্থান ১ – ১২ নং লেভেলের যে কোন একটিতে পড়বে। ১ নং স্তরে অবস্থান করা একজন রোগীর লক্ষণাবলী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পাওয়া সম্ভব। তার রোগ আরোগ্যেও ২/১ দিন হতে বড়জোর ২/১ মাস লাগতে পারে। দুঃখের বিষয় বিশ্বব্যাপী এমন মানুষের সংখ্যা নামতে নামতে এখন এলাকাভেদে ৩%-৫% এ দাড়িয়েছে। দমনমূলক চিকিৎসাই এ অবস্থার জন্য দায়ী। অধিকাংশ রোগীই আজ ক্রণিক রোগে আক্রান্ত। যাহোক, লেভেল যত নীচের দিকে যাবে রোগীর অবস্থা ততোই জটিল; সঠিক ওষুধের চিত্র খুঁজে পাওয়া ততোই কষ্টকর, সময়সাপেক্ষ। কারণ, লক্ষণসমষ্টি স্পষ্ট না পাওয়ায় বিচ্ছিন্নভাবে অনেক ওষুধের চিত্র পাওয়া যায় রোগীতে। ধাপে ধাপে এসব রোগীকে উপরের স্তরে তুলতে হয়। তবে এটাও ঠিক যে, রোগীর জীবনযাত্রার বিশৃংখলা দুর করলে, স্বাস্থ্যের নিয়মাবলী মেনে চললে এবং সর্বোপরি আল্লাহর হুকুম হলে যে কোন রোগী অতি দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। একিউট রোগী অতিদ্রুত নিরাময় সম্ভব। সেটা কয়েক ঘন্টা হতে ২/ ৪ দিন লাগতে পারে। কারণ, লক্ষণাবলী এখানে অত্যন্ত সুষ্পষ্ট থাকে। দুর্ঘটনাবশতঃ কোন রোগকেই এ পর্যায়ে ফেলা হয়না। তার জন্য সার্জারীসহ যে কোন চিকিৎসা অনতিবিলম্বে নিতে হবে। জীবন বাঁচানোই সেখানে বড় কথা।

এ্যালোপ্যাথিক ডাক্তাররা অনেক রোগকে অনারোগ্য ঘোষণা করেছেন। রোগের চিকিৎসা না করে; রোগীর চিকিৎসা করলে তারা এমনটি কখনও বলতেন না। দুঃখজনক তাদের সিস্টেমে এ ব্যবস্থা নেই। আল্লাহ এমন কোন রোগ দেননি (মৃত্যু ব্যতীত) যার কোন নিরাময় নেই।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *