রোগী ডাক্তারের কাছে আসেন চিকিৎসা নিতে। অনেক রোগী মনে করেন – তিনি এসেছেন ২/১ কি কষ্ট নিয়ে অথচ হোমিও ডাক্তার কেন কেস টেকিং-এর নামে তার ব্যক্তিগত-পারিবারিক-বংশগত বিষয় নিয়ে টানাটানি করেন? কারণ মুলত: একটাই। আর তা হলো রুগ্ন ব্যক্তি তথা তার জীবনীশক্তি বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কখন, কিভাবে, কতটুকু রোগাক্রান্ত বা বিশৃঙ্খলাযুক্ত হয়েছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া। এসব না পেলে কি করে পুরো মানুষটাকে হোমিওপ্যাথ আরোগ্য করবেন?  

উদাহরণস্বরূপ- ক্রণিক রোগ এ্যাজমা বা হাঁপানী রোগীর কথা ধরা যাক। এ্যাজমার ওষুধ অন্তত: ১৮২ টি। নির্দিষ্ট রোগীর জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ। ভুল ওষুধে কাজ করবেনা। কারো এ রোগের সূত্রপাত ছেলেবেলায় পুন: পুন: নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ও সেকারণে অনবরত এ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োগ হতে। কারো বা চর্মরোগ দমন হতে। কারো আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে। কারো রোগাক্রমণ শয়নকালে, কারো পেটে গ্যাস জমে, কখনও বা হিস্টিরিয়াগ্রস্থ কারো এ্যাজমা হতে পারে। রোগীর বাবা-মা বা আরো পূর্ববর্তী জেনারেশনে কেউ এ জাতীয় রোগে আক্রান্ত ছিল এমনও দেখা যায়। হতে পারে রোগী বা তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর-দূষিত পরিবেশে বসবাস করেছে যে কারণে তাদের ভেতর রোগের পরিপোষক বা মেইনটেইনিং কারণটি অথবা এক্সাইটিং কারণ বিদ্যমান। হতে পারে প্রেম-বিরহ-ডিভোর্স বা না পাওয়ার বেদনা রোগীর বর্তমান রোগের কারণ। এভাবেই রোগের নাম এ্যাজমা না হয়ে যে কোন কিছু হতে পারে। কি করে সম্ভব রোগের কারণ সনাক্ত না করে, তা দূর না করে রোগীকে সুচিকিৎসা দেয়া?

একিউট রোগ যে কোন কারণে হতে পারে। সেখানে জীবাণু সংক্রমণ ঘটার বিষয় থাকলেও সকল একিউট রোগের কারণ এক নয়। ধরুন রোগের নাম ডায়রিয়া। কারো ডায়রিয়া হতে পারে বাসি-পঁচা খাবার খেয়ে, কারো হতে পারে এসিডিটির কারণে, কারো মদপান করে, কারো রেগে গিয়ে বা অপমানিত হয়ে, কারো বা শশা খেয়ে, কারো বা নিয়মিত খাবারের সামান্য তারতম্যে, কারো ভয় পেয়ে, কারো ফল খেয়ে। ডায়রিয়ার ওষুধ ২৪০ টি। নির্দিষ্ট রোগীর জন্য নির্দিষ্ট ১টি মাত্র ওষুধ প্রদান করা হবে। তাতে জীবাণুর সংক্রমণ যে নামেই হোক তা কিউর করবে এবং তা এ্যান্টিবোয়োটিকের চেয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে।

ক্রণিক রোগের সূত্রপাত অনেক আগেই হতে পারে যার শিকড় অনেক গভীরে। কোন অবস্থাতেই ল্যাপটেস্ট এখানে ওষুধ নির্বাচনে হেল্প করবে না। ল্যাবটেস্ট করে আমরা শরীরের কোন কোষের অস্বাভিবক বৃদ্ধি যা টিউমার, সিস্ট, আঁচিল, ফাইব্রয়েড, লাইপোমা, নিউরোমা, সার্কোমা, কন্ডাইলোম্যাটা, ক্যান্সার সেল বা লিভার-হৃদযন্ত্র ইত্যাদির বৃদ্ধি তথা আকার-আকৃতি জানতে পারি মাত্র। কিন্তু ঐ জানা পর্যন্তই। চিকিৎসা কিন্তু তাদের কাছে একমাত্র সার্জারী। গতকালই একজন রোগীকে দেখলাম ব্রেন টিউমারের অপারেশন করেছিলেন ১ বছর আগে। আবার সেই টিউমারের পুন: প্রকাশের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ চিত্র আমরা সচরাচর দেখছি আমাদের প্র্যাকটিসে। হোমিওপ্যাথের কাছে এর কারণ অনুসন্ধান জরুরী। কারণ বা বংশগত রোগপ্রবণতা রোগীর সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয় এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হোমিওপ্যাথকে সহায়তা করে। প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে একদিকে রোগী সার্বিকভাবে সুস্থতা লাভ করেন, তার প্রধান রোগও সেরে যায় এবং রোগ পুন: প্রকাশের সম্ভাবনাও রহিত হয়। এজন্য রোগীর জীবন-ধারণ প্রক্রিয়া তথা লাইফস্টাইল, তার পছন্দ-অপছন্দ, রোগ বৃদ্ধি-উপশমের ধারা, ব্যক্তিত্বের নানান দিক হোমিওপ্যাথের নিকট গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখা জরুরী প্রতিটি মানুষ আলাদা। চিকিৎসাও তাই পৃথক হওয়া স্বাভাবিক।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.