সফটওয়্যার মানুষেরই তৈরী। এটা একধরণের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধ্য সাধন করা যায়। মানুষের জ্ঞানেরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দুনিয়ার সবকিছু মানুষ মুখস্ত করে রাখবে সেটা সম্ভব নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও তাই। প্রযুক্তির কল্যাণে রোগীর কেস বিশ্লেষণে তথা তার ওষুধ নির্বাচনে হোমিও সফটওয়্যার এনেছে যুগান্তকারী বিপ্লব।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগীর কেসটি পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারাটাই বড় এক চ্যালেঞ্জ। বলা হয়ে থাকে রোগীর পূর্ণাংগ কেস সফলভাবে গ্রহণ করতে পারার অর্থ রোগী আরোগ্যে ”৫০% সফলতা”। বাকী সফলতা নির্ভর করে (১) রোগীর পুরো কেসটি/রোগলক্ষণগুলি গভীর স্টাডি ও বিশ্লেষণ করা, (২) সঠিক ওষুধ, পরিমিত মাত্রা ও শক্তিতে সেবন করতে দেয়া, (৩) রোগীকে প্রয়োজনীয় উপদেশ দেয়া, (৪) নির্দিষ্ট সময় অন্তর সঠিকভাবে রোগীর কেসটি ফলোআপ করা ইত্যাদির উপর।

রোগীর কেস বিশ্লেষণ করতে, কাছাকাছি ওষুধের পারস্পারিক পার্থক্য নির্ণয় করতে, ওষুধের শক্তি ও মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পেতে সফটওয়্যার অত্যন্ত সহায়ক। যে কোন ব্যক্তি হোমিও যে কোন ওষুধ পড়লেই তার নিজস্ব অনেক লক্ষণাবলীর সন্ধান সে ওষুধে পাবেন। অথচ তার ওষুধ তো মাত্র ১টি। সফটওয়্যার সঠিক ওষুধটি খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

রোগীর কেস বিশ্লেষণে কি কি বিষয়ের প্রতি মূলত গুরুত্ব দেয়া হয় তা দেখা যাক। প্রথমেই আসে সাধারণ লক্ষণের বিষয়টি। সাধারণ লক্ষণ বলতে বুঝায় রোগের উৎপত্তি হতে শুরু করে রোগ ভোগের মেয়াদ তথা সময়, রোগাক্রমণ আকস্মিক নাকি ধীরে ধীরে, রোগের সুপ্ত কারণটির প্রভাবশালী কারণে রূপান্তরিত হওয়ার বিষয়। যেমন ধরুণ- রোগীর প্রিয়জনের মৃত্যু, বা বিচ্ছেদ বা ব্যবসায়িক ক্ষতি ইত্যাদির মত আকস্মিক সাইকোলজিক্যাল কারণ রোগের মুল কারণ হতে পারে। আবার শারীরিক কারণ যেমন মারাত্মক ঠান্ডা বা গরমের সংস্পর্শে আসা বা পরিবেশগত যে কোন বিষয় রোগের কারণ হতে পারে। রোগীর বৈশিষ্ট্যসূচক লক্ষণ, ব্যথা বা যন্ত্রণার ধরণ যেমন: জ্বালাকর ব্যথা, কনকনে ব্যথা, ব্যথার স্থান যেমন- মাথার নির্দিষ্ট অংশে ব্যথা, হৃদপিন্ড ব্যথা, হৃদপিন্ডের ব্যথা যা হাতে ছড়িয়ে পড়ে, কোমরে ব্যথা, অথবা অন্য কোন স্থানীয় অংগের তীব্র ব্যথা, ব্যথার ধরণ তীব্র বা হালকা হতে পারে। রোগাক্রামনের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর কারণ সুনির্দিষ্ট যে কোন সময়ে রোগের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটতে পারে। রোগীর আনুষংগিক লক্ষণাবলীর দিকেও দৃষ্টি রাখতে হয়। একই সাথে রোগীর অনুভূতি প্রকাশের ধরণটিও গুরুত্বপূর্ণ। যে সকল রোগী তাদের রোগের সুস্পষ্ট হ্রাস-বৃদ্ধি নিজ ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন তাদের জন্য আরোগ্যদায়ক ওষুধ নির্বাচন করা অত্যন্ত সহজ যা দ্রুত আরোগ্য করবে। তবে রোগীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হলো নানাবিধ চিকিৎসার ফলে রোগ দমন হলে রোগীর পক্ষে তখন আর সুনির্দিষ্ট হ্রাস-বৃদ্ধি ধরণটি উল্লেখ করা সম্ভব হয়না। সেক্ষেত্রে রোগ আরোগ্যে অধিক সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসায় রোগীর লক্ষণাবলী ধীরে ধীরে ও ধাপে ধাপে স্পষ্ট হতে থাকে। সেক্ষেত্রে একটির পর একটি সদৃশ ওষুধ প্রয়োগেই রোগীকে আরোগ্য করতে হয়।

হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরীতে লক্ষাধিক লক্ষণের সমাবেশ। কোন কোন সফটওয়্যারে হাজার হাজার বইয়ের সফটকপি থাকে। হোমিওপ্যাথের পক্ষে সকল লক্ষণ ও তার ওষুধ মনে রাখা অত্যন্ত কষ্টকর। কিন্তু প্রচলিত হোমিওপ্যাথিক সফটওয়্যারগুলি হোমিওপ্যাথের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। হোমিওপ্যাথকে সফটওয়্যার পরিচালনায় অবশ্যই প্রশিক্ষিত ও দক্ষ হতে হবে। কেস টেকিং এ ভুল করলে সফটওয়্যারের ব্যবহারই বৃথা। কারণ “Garbage in garbage out” বলেএকটা কথা আছে। সফটওয়্যারে আবর্জনা ঢুকালে ফলাফল কখনও প্রত্যাশিত হবে না। কেস টেকিং তাই এক বিশাল শৈল্পিক দক্ষতা।

বিঃদ্রঃ আমরা প্রতিটি রোগীর কেস বিশ্লেষণে বিশ্বখ্যাত হোমিওপ্যাথ প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস ও তার টীম কর্তৃক প্রস্তুতকৃত “Vithoulkas Compass” নামক অনলাইন সফটওয়্যার ব্যবহার করি। তিনি তার ৫৫ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এ সফটওয়্যার তৈরী করেছেন।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *