হোমিওপ্যাথি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে সকল ধরণের এ্যালার্জিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে অত্যন্ত কার্যকর। এ চিকিৎসায় রোগীর এ্যালার্জিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তা থেকে রোগীকে মুক্ত করার চেষ্টা করা হয় যাতে করে বিভিন্ন উত্তেজক বিষয়ের প্রতি রোগীর সংবেদনশীলতা হ্রাস পায় বা বিলুপ্ত হয়।

এ্যালার্জি কোন কিছুর (এ্যালার্জেন) প্রতি একটি উচ্চ মাত্রার সংবেদনশীলতা। সবার একই কারণে এ্যালার্জিক রিএ্যাকশন ঘটেনা। এটি মূলত: অ্যান্টিবড়ি-অ্যান্টিজেন প্রতিক্রিয়া যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইমিউন সিস্টেমের) সুনির্দিষ্ট বিশৃংখলার ফলে ঘটে থাকে। কখনও বংশগত কারণেও বা পরবর্তীতে সংগঠিত নির্দিষ্ট কারণে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে যেখানে আমরা কোন এ্যান্টিবড়ির সন্ধান পাইনা।

এ্যালার্জিক অবস্থার কিছু উপসর্গ হলো একজিমা, এ্যালার্জিক রাইনাটিস বা সর্দি লাগার প্রবণতা, হে ফেভার, ব্রঙ্কিয়াল এ্যাজমা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, অশ্রুপাত, হাঁচি, কাশি, ত্বকে বিভিন্ন ধরণের চুলকানিযুক্ত র‍্যাশ বা উদ্ভেদ, পরিপাক নালীর নানা সমস্যা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীর শ্বাসযন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেণ, ত্বক, পরিপাক নালী, চোখ আক্রান্ত হয়।

সাধারণত: ৩ টি বৃহৎ কারণে এ্যালার্জিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

খাদ্যঃ গ্লুটেন (যা আটা-ময়দায় থাকে), দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, চকোলেট, তৈলাক্ত খাবার, সাইট্রাস ফল, সীফুড (শেলফিস), এ্যালকোহল, সয়াবীনজাত খাবার, ডিম, চিনাবাদাম এবং টমেটো, আলু, বেগুন জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি।

পরিবেশঃ পারিপার্শ্বিক অবস্থা যেমন- ধুলোবালি, পুষ্পরেণু (পলেন), কুকুর-বিড়াল-প্রাণীর পশম, ধুলোয় মিশে থাকা পরজীবি (ডাস্ট মাইট), সূর্যালোক, ঠান্ডা ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম বস্তুঃ ল্যাটেক্স (রবার গাছের আঠা), নিকেল, কীটনাশক, পেনিসিলিন-সালফা ড্রাগ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার ওষুধ, মশা-মাছি, বোলতা-ভীমরুল জাতীয় পোকার বিষ যা হুল ফোটানোর মাধ্যমে মানুষকে আক্রান্ত করে।

২০ শতকের সিন্ড্রোমঃ এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যারা পরিবেশের প্রায় প্রতিটি জিনিসের প্রতি এ্যালার্জিক রিএ্যাকশন প্রকাশ করে থাকেন। অনেকের ভিতর তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণেও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় যে বিশৃংখলা ঘটে থাকে সে জন্য এ সকল প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।

এ্যালার্জির প্রচলিত চিকিৎসাঃ এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় এ্যালার্জির কারণ হতে পারে এমন সকল খাদ্য-পানীয়-বস্তু-পরিবেশকে এড়িয়ে চলতে উপদেশ দেয়া হয় যাতে রোগীর স্বাভাবিক জীবনধারণ করাটা একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায়। এ্যালার্জিক লক্ষণ দমনের জন্য ২ প্রকার মেডিসিন আছে। প্রথমত: এ্যান্টিহিস্টামিন (antihistamines) যা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী না করে বরং তার এ্যালার্জিক রেসপন্স কে বাঁধাগ্রস্থ করে যেন রোগী এ্যালার্জিক খাদ্য/বস্তু/পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ না করে। দ্বিতীয়ত: কর্টিকোস্টেরয়েড (corticosteroids) যা অত্যন্ত ক্ষতিকর ও পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াযুক্ত এবং ইমিউন সিস্টমের মুলে আঘাত করে একে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে তোলে যার ফলে মানুষ নানা প্রকার জটিল ও ক্রণিক রোগে আক্রান্ত হয়।

আরও একটি ক্ষতিকর পদ্ধতিতে এ্যালার্জির চিকিৎসা দেয়া হয় যাকে immunotherapy বা allergy shots বলে যেখানে নিয়মিতভাবে বছরের পর বছর ধরে স্বল্প পরিমাণে ইঞ্জেকশন আকারে ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। ফলত: ধীরে ধীরে শরীরে এ্যালার্জিক সংবেদনশীলতার অভাব দেখা দেয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যক্তির স্বতন্ত্র ও সুনির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সহ কিসে তার এ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয় তা জানতে চাওয়া হয়। এ্যালার্জিক সংক্রমণের ভয়ে রোগী সবকিছু পরিহার করলে রোগের প্রকৃত কারণসমূহ কখনও জানা যায়না। স্বাস্থ্য হচ্ছে একপ্রকার স্বাধীনতা ভোগ করা যেখানে মানুষ প্রতিনিয়ত বাহ্যিক অনেক চ্যালেঞ্জ  মোকাবেলা করে টিকে থাকে। এ্যালার্জিক বস্তু/পরিবেশ/খাদ্য এড়িয়ে চলা ব্যক্তির স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় শারীরিক উপসর্গ জানার পাশাপাশি নিম্নোক্ত বিষয়ের প্রতি গভীর দৃষ্টি রাখা হয়ঃ

১. এ্যালার্জির লক্ষণসমূহ সূত্রপাতের সময় রোগীর জীবনযাত্রা ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা,

২. যে সকল অবস্থায় এ্যালার্জিক লক্ষণগুলির তীব্র হয় তার বিবরণ,

৩. কি করলে বা কোন অবস্থায় রোগী এ্যালার্জিক উপসর্গ হতে উপশম পায়,

৪. আক্রান্ত অবস্থায় রোগীর অনুভূতি ও নিজস্ব অভিজ্ঞতা,

৫. এ্যালার্জির উপসর্গ রোগীর স্বাভাবিক জীবনকে কিভাবে বাঁধাগ্রস্থ করে,

৬. রোগী আক্রান্ত অবস্থায় কি কি কাজ করতে বাঁধার সম্মুখীন হয় ইত্যাদি।

এ্যালার্জি স্বয়ং কোন রোগ নয়। এটা অভ্যন্তরীণ শারীরিক-মানসিক ভারসাম্যহীনতাকে প্রতিনিধিত্ব করে যা সমস্ত রোগের মূল। একজন রোগী ত্বক, জয়েন্ট, কিডনী, ফূসফুস, লিভার বা যে কোন অংগ প্রত্যঙ্গের যে সকল রোগে আক্রান্ত হয় তা অনেক ক্ষেত্রে অতীত দমনমূলক চিকিৎসার ফলেও হয়ে থাকে। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীকে বিশুদ্ধ খাবার-পানীয় গ্রহণ সহ বিশুদ্ধ বায়ু সেবনের পরামর্শ দেয়া হয়। রোগীকে গ্লুটেনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় প্রতিটি রোগীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, এভাবে অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্দিষ্ট বিশৃংখলাকে সনাক্ত করে তা দুর করার চেষ্টা করা হয়। সকল ব্যক্তির জন্য কখনও একই চিকিৎসা হতে পারেনা।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.