হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে রোগীর কেস নেবার সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর তথ্য কেবল ডাক্তার-রোগীর কথোপথন হতে পাওয়া যায় এমন নয়। ডাক্তারের পর্যবেক্ষণের অনেক কিছু আছে। তার মধ্যে রোগী কিভাবে ডাক্তারের প্রশ্নের উত্তরে সাঁড়া দেন সেটাও অত্যন্ত লক্ষণীয় বিষয়।

কিছু মানুষকে প্রশ্ন করলে শর্টকার্ট জবাব দেন। অনেকের জবাব শুনলে মনে হবে সেটা একটা আচমকা জবাব। কেউ বা সংক্ষিপ্ত, চাঁছাছোলা অনেকটা অভদ্রের মত জবাব দেন।

অনেকেরই উত্তরদানে অনিচ্ছা বা বিতৃষ্ণা থাকে, বিশেষত: সকাল বেলায়। কারো বা প্রশ্নের উত্তর দানে অনীহাটা এমন যে মনে হয় রোগী আসলে কথাবার্তাই কম বলেন অথচ এরা আবার অন্য সময়ে মারাত্মক বাকপটু। কিছু লোক গান গায়, কথা বলে কিন্তু প্রশ্ন করলে কখনও উত্তর দিতে চায়না। কি আজব!!

কিছু রোগী আছেন যারা প্রশ্নের উত্তরে এমন কিছু বলেন যা অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। বোঝা যায় যে তারা ভাবছেন একরকম কিন্তু প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন অন্যরকম। এদের কেউ কেউ প্রশ্নের কঠিন উত্তর দেন যা থেকে কিছু বোঝা যায়না, কেউ বা অসংলগ্ন জবাব দেন, কেউ বা মুর্খ বা বোকার মত জবাব দেন। কেউ এমন জবাব দেন যাতে বুদ্ধিমত্তার কোন ছাপই নেই।

কিছু রোগী প্রশ্নের উত্তরে এমন দ্রুত জবাব দেন যেন ঝড়ের গতিতে কথা বলছেন। কেউ বা অতি ধীরে ধীরে উত্তর দেন। কেউ বা কাল্পনিক এমন কোন জবাব দেন যার সাথে প্রশ্নের আদৌ সম্পর্ক থাকেনা। অনেকটা অপ্রাসংগিক, অবান্তর বা খাপছাড়া জবাব এসব। কিছু মানুষ ভুল, বেঠিক বা অসত্য জবাব দেন।

মজার কিছু রোগী আছেন যাদেরকে যে প্রশ্নই করা হোক না কেন একটিমাত্র শব্দে তার জবাব দেন। এদের সকল প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে –  ”হাঁ” বা ”না”। এদের বিষয়ে ডাক্তারকে কিছু কৌশল অবলম্বন করতেই হবে। নাহলে কখনও সঠিক তথ্য পাওয়া যাবেনা।

কেউ বা কোন উত্তরই দেননা বা উত্তরদানে এতই বিতৃষ্ণা থাকে যে প্রশ্ন করলেই বিরক্ত হন বা রেগে যান। এদেরকে জোর করা না হলে কখনও উত্তর পাওয়া যায়না। কিছু লোক উত্তরদানে সরাসরি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন।

কিছু মানুষকে কোন প্রশ্ন করা হলে সঠিক উত্তরটি দেয়ার আগে বিশাল ভূমিকা দেন। তারপর মুল প্রসংগে আসেন।

কিছু লোককে কোন প্রশ্ন করলে উত্তরদানের আগে যে প্রশ্ন তাকে করা হয়েছে সেই প্রশ্নটাই পুনরাবৃত্তি করেন। প্রশ্নটি নিজে পুনরাবৃত্তি না করলে তার নিকট আসলেই কি জানতে চাওয়া হয়েছে তা তিনি বুঝতে পারেন না। তাদের মস্তিষ্কে এক ধরণের মন্থরতা বা জড়তা কাজ করে। এরা কোন কিছুই সহজে চিন্তা করতে বা হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন না। এক্ষেত্রে প্রশ্নটি নিজে পুনরাবৃত্তি করার পরই তার কি জবাব হবে সে সম্পর্কে তার মনে একটা ধারণা আসে।

কিছু লোক আকস্মিকভাবে ও খিটখিটে মেজাজে এমনভাবে উত্তর দেন শুনে মনে হয় তিনি কতই না রাগান্বিত অবস্থায় আছেন। তার জবাব শুনে তাকে কর্কশ, ঠেঁটা, কটু স্বভাবের মনে হয়।

এমনও দেখা যায় রোগীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কার সাথে কথা বলছেন তাও তার খেয়াল থাকেনা। সিকুটা নামক ওষুধের একটি বিশেষ লক্ষণ এটি। কেউ কেউ আছেন প্রশ্ন করা হলে ঠিকঠাক জবাব দিতে শুরু করেন কিন্তু অবিলম্বে ঘুমিয়ে পড়েন অথবা মনে হয় তিনি হয়তো বা সাময়িকভাবে জ্ঞান হারিয়েছেন। এদের মস্তিকে এক ধরণের নিষ্ক্রিয়তা বা নিশ্চলতা কাজ করে। দেখে এক পর্যায়ে মনে হবে হয়তোবা প্রলাপ বকছেন বা হঠাৎ বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন – এমন আবোলতাবোল তাদের জবাবটি।

ভেবে দেখুন তো হোমিওপ্যাথকে কত বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়। রোগীর রোগ যাই হোক না কেন, কখনও কখনও উপরোক্ত লক্ষণগুলো হতে পারে অমূল্য রত্ন যার উপর ভিত্তি করে চমৎকার আরোগ্য সাধিত হতে পারে।

ডাঃ বেনজীর। হোমিওপ্যাথ। বিশ্বাখ্যাত হোমিওপ্যাথ প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস ও শীর্ষ ভারতীয় হোমিওপ্যাথ ফারুক জে মাস্টারের নিকট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এ্যাপায়েন্টমেন্ট গ্রহণ সহ যে কোন প্রয়োজনে ফোন দিনঃ ০১৭৩৩৭৯৭২৫২। আরো জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.