ডাক্তার বলেন আইবিএসের কোন চিকিৎসা নেই্। মজার সব খাবার নিষিদ্ধ। অথচ রোগীর পক্ষে এটা কত অবর্ণনীয় কষ্ট ও উদ্বেগের বিষয়।

নানারকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যখন সব রিপোর্টই নরমাল পাওয়া যায় তখন ডাক্তার একে আইবিএস বলে সনাক্ত করেন। কারণ, আইবিএস নির্ণয়ে কার্যকর কোন টেস্ট নেই। ডাক্তার বলেন- “All your tests are normal – it’s only IBS.” প্রকৃতপক্ষে, যিনি রোগী তার জন্য এটা অপ্রত্যাশিত দুর্দশার বার্তা।

আইবিএস এর প্রকৃতিঃ এটা একটা সাধারণ অবস্থা যা জনসংখ্যার ২০% লোকের ক্ষেত্রে দেখা যায়। পুরুষের চেয়ে নারীরা এ রোগে অধিক হারে ভোগেন। ২০ হতে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে অধিক হারে এ রোগ দেখা গেলেও সব বয়সেই এ রোগ কমবেশী দেখা যায়। প্যাথলজিক্যাল অবস্থা স্পষ্ট না হলেও মূলত এতে গুচ্ছকারে ভিন্ন জাতীয় লক্ষণাবলী থাকে। অন্ত্রের বিশৃংখল গতিশীলতা, এর অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা রোগের প্রকৃত কারণ হতে পারে। তাছাড়া, মানসিক চাপ, সুনির্দিষ্ট খাদ্যে অসহিষ্ণুতা, পেটের ভেতর কোন রোগজীবাণুর আক্রমনও রোগের কারণ হতে পারে। কখনও কখনও বা সামান্য কোষ্ঠকাঠিন্য বা খাদ্যাভ্যাসের সামান্য পরিবর্তনও আইবিএসের কারণ হতে পারে। অন্ত্রের উপর মানুষের মানসিক-আবেগিক অবস্থা অর্থাৎ রাগ বা উদ্বেগের নেতিবাচক প্রভাবের কারণেও এ রোগ হতে পারে। যে সকল মানুষ তাদের অনুভূতি অন্যের কাছে শেয়ার করতে পারেনা তাদের ক্ষেত্রে আইবিএসের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেক্ষেত্রে মানসিক যন্ত্রণার প্রকাশ শারীরিক উপসর্গের মাধ্যমে দেখা দেয়।

খাদ্যে সংবেদনশীলতা বা অসহিষ্ণুতাও আইবিএসের কারণ হতে পারে। এটা সকল সময় এ্যালার্জিক খাবার গ্রহণ না করলেও হতে পারে। কারণ, রোগীর জন্য নির্দিষ্ট এ্যালার্জিক খাবারের ন্যুনতম মাত্রা গ্রহণেও তাৎক্ষণিক ভাবে রোগীতে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় যেমনটা অনেকের চিংড়ীমাছ বা চিনাবাদাম বা দুধ খেলে হয়ে থাকে। এ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের পর কোলনের অস্বাভাবিক গাঁজন (fermentation) এর পরও আইবিএসের লক্ষণ দেখা দেয়।

বিভিন্ন ধরণের আইবিএসঃ কোন্ ধরণের লক্ষণগুলি প্রায়শঃ দেখা দেয় তার উপর ভিত্তি করে আইবিএস এর প্রকারভেদ নির্ণয় করা হয়। যেমনঃ

Spastic colon: কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটব্যথা দ্বারা এজাতীয় আইবিএস চিহ্নিত করা হয়। এর ব্যথা পেটের বাম দিকেই সর্বাধিক। মলত্যাগে ব্যথার উপশম হয়। এর সাথে মাঝে মধ্যে ডায়রিয়াও থাকে।

Functional diarrhoea: ঘন ঘন ডায়রিয়ার আক্রমণ ঘটে; যার বেশীরভাগ সকাল বেলায়। প্রথম পর্যায়ে মল কিছুটা শক্ত হলেও পরবর্তীতে সবেগে নরম বা পানির মত মলত্যাগ হয়। অনেক শব্দ করে মলত্যাগ হয় যা রোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে টয়লেটে থাকতে বাধ্য করে।

Foregut dysmotility: মূল বৈশিষ্ট্য পেট ফাঁপা, অস্বস্তি যা সচরাচর খাবার পরই দেখা দেয়। এতে পেট ফুলে-ফেঁপে অনেক বড় দেখা যায় এবং যে কোন ধরণের ব্যথা পেটের ডানপাশেই অধিক প্রতীয়মান হয়।

Extra-bowel manifestations: আইবিএস আক্রান্ত রোগীদের অনেক সময় অন্যান্য উপসর্গ যেমন- নিদ্রাহীনতা বা অস্বাভাবিক নিদ্রালুতা, উদ্যমহীনতা, পেটব্যথা, কোমরব্যথা, মূত্রনালীর লক্ষণ যেমন – “irritable bladder” পেলভিক এলাকায় ব্যথা, মাইগ্রেন ইত্যাদিতে ভুগতে দেখা যায়।

আইবিএস রোগের লক্ষণঃ (১) মলত্যাগ সহ পেটব্যথা, (২) সপ্তাহে অন্তত: ২ দিন অনিয়মিত মলত্যাগ, (৩) ঘন ঘন অথচ পরিবর্তিত সময়ে মলত্যাগ, (৪) শক্ত, নরম বা পরিবর্তনশীল মলত্যাগ, (৫) পরিবর্তনশীল উপায়ে মলত্যাগ যেমন- মলত্যাগের সময় কোঁথ দেয়া, মলত্যাগের জন্য বেগ হলে এক মুহুর্তও অপেক্ষা না করতে পারা, অসম্পূর্ণভাবে মলত্যাগ, মলদ্বারে সবসময় মিউকাস বা শ্লেষ্মা জাতীয় পদার্থ থাকার অনুভূতি, (৬) পেট ফাঁপার অনুভূতি ইত্যাদি।

সতর্কতাঃ মলত্যাগের অভ্যাসে কোন পরিবর্তন হলে, মলত্যাগকালীন রক্তপাত হলে, ওজন দ্রুত হ্রাস পেলে, অনবরত পেট ব্যথা থাকলে দ্রুত অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথের শরণাপন্ন হতে হবে।

এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসাঃ এখানে কেবল ওষুধ সেবনকালীন রোগী সাময়িক উপশম বোধ করেন। ওষুধ ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যান রোগী। সচরাচর যে জাতীয় ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয় তা হলোঃ peppermint oil or mebeverine hydro­chloride। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেকে রোগীকে ইসবগুলির ভূষি খেতে পরামর্শ দেন। ডায়রিয়ার জন্য loperamide or codeine phosphate দেয়া হয়। রোগীকে ঢালাওভাবে ও অনুমানভিত্তিক অনেক খাবার হতে বিরত থাকতে উপদেশ দেয়া হয় যেমন- দুধ, শাক-সবজী, মিষ্টিজাতীয় খাদ্য। যখন যে লক্ষণ দেখা দেয় তখন সে জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়। তাতে সমস্যার কেবল সাময়িক উপশম লক্ষ্য করা যায়। এক পর্যায়ে আইবিএসকে অনারোগ্য ঘোষণা করেন ডাক্তার।

হোমিও চিকিৎসাঃ আইবিএস এর হোমিও চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর। এটা প্রকৃত অর্থে হলিস্টিক চিকিৎসা ব্যবস্থা। কারণ, এখানে রোগীর অন্ত্রের লক্ষণাবলী সহ তার আনুষংগিক শারীরিক-মানসিক অবস্থাও বিশ্লেষণ করা হয়। যে কারণে প্রতিটি রোগীর চিকিৎসায় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

নিম্নে ৪ জন ভিন্ন আইবিএসের রোগীর সফল চিকিৎসার বিবরণ দেয়া হলো। (সতর্কতাঃ কোন রোগী একে অবলম্বন করে নিজের চিকিৎসা নিজে করবেন না)।

৪০ বছর বয়স্ক প্রকৌশলী, বিবাহিত ও ১ কন্যার জনক। ঘন ঘন পেট ব্যথার আক্রমণে তার জীবন জর্জরিত। সাথে পেট ফেঁপে থাকা, বাতাস বের হওয়া ও কোষ্ঠ্যকাঠিন্য। তিনি এতটা গলা-বুকের যন্ত্রণায় (heartburn) ভুগতেন যার কারণে তার রাতে ঘুম ভেংগে যেতো। রোগীর ধারণা, তীব্র নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে কয়েক দফায় তাকে যে এ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয় তার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ায় তার এ লক্ষণসমূহ দেখা দিয়েছে। এখন তিনি রুটি খেতে পারেন না যা একসময় অনেক পছন্দ করতেন। তিনি আগের মত ফলমূল, তরিতরকারি এবং চর্বিযুক্ত খাদ্যও খেতে পারেন না। ডাক্তার তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আইবিএস ছাড়া সবকিছু স্বাভাবিক দেখতে পান। ডাক্তার তাকে anti­spasmodics and antacids ওষুধ দিয়ে প্রতিবারই সাময়িক উপশম দিতেন। কিন্তু এতে তিনি পু্ন: পুন: এ রোগের আক্রমণ হতে রেহাই পাননি। এ চিকিৎসায় তিনি হতাশ হয়ে হোমিও চিকিৎসা শুরু করেন। রোগীর কেস নেবার সময় তাকে যথেষ্ট ইমোশনাল দেখায়। তিনি কাঁদতে কাঁদতে তার বাবার মৃত্যুর কথা জানান। এ বিষয়টি বিবেচনা করে এবং তার খাদ্যে অসহিষ্ণুতা বিবেচনা করে তাকে Pulsatilla প্রেসক্রাইব করা হয়। রোগীর অবিশ্বাস্য রকমের উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। তার গলাবুক জ্বালাপোড়া একেবারেই থেমে যায়। কিন্তু এরপরও মাঝে মধ্যে তার পেটের বাম দিকে ব্যথা অনুভূত হতো যেখানে তিনি সামনে দিকে পেট চাপ দিয়ে থাকলে (bend double) উপশম বোধ করতেন। গরম পানির সেক দিলেও তিনি উপশম বোধ করতেন। এসব লক্ষণ দৃষ্টে তাকে Colocynth নামক ওষুধ দিয়ে পূর্ণরূপে আরোগ্য করা হয়।

৬০ বছর বয়ষ্ক এবং ১০ বছর ধরে আইবিএসে আক্রান্ত, মারাত্মক রকম ধুমপায়ী এক ব্যক্তি। তার আইবিএস দেখা দেয় যখন তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মৃত্যু অবধি তিনি স্ত্রীর সেবা করেছেন। তিনিও এ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারের চিকিৎসাধীন ছিলেন যদিও তার সকল পরীক্ষার-নিরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক ছিল। তার যখনি তলপেটে ব্যথা হতো তখনি তিনি মলত্যাগ করতে টয়লেটে ছুটতেন। কোন প্রকার বায়ু নি:সরণ না হলেও ডায়রিয়াজনিত প্রচুর মলত্যাগ হতো। এ রোগের কারণে সর্বদা তিনি উদ্বেগে থাকতেন। তিনি ছিলেন শীতকাতর, গরমে থাকাটা পছন্দ করতেন। তিনি মিষ্টি ও ক্রিম জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করতেন। যদিও চর্বিযুক্ত খাবার, সবজী ও মশলযুক্ত খাবারে তার অনীহা ছিল। ছোট খাটো বিষয়ে তিনি খুব উদ্বিগ্ন হতেন। তাকে সর্বদা অস্থির ও উদ্বিগ্ন দেখাতো। খুবই খুঁতখুঁতে স্বভাবের। সার্বিক লক্ষণসাদৃশ্যে তাকে Arsenicum সেবন করতে উপদেশ দেয়া হয়। অতি দ্রুত তিনি আরোগ্য লাভ করেন।

আরেকজন রোগী ডায়রিয়ার কারণে খুব দুর্দশাগ্রস্থ ছিলেন। এই ডায়রিয়ার কারণে তাকে রোজ ভোরে ঘুম থেকে উঠেই বাথরুমে দৌড়াতে হতো। তার বয়স ৩৭, পেশা শিক্ষকতা। ১৮ মাস পূর্বে হঠাৎ করে তার পেটটি আপসেট হয়। তারপর হতে আর স্বাভাবিক হয়নি। তার সর্বদা পেটফেঁপে থাকতো, পেটে ভাঁটভুট শব্দ হতো। এসব লক্ষণসহ তিনি ঘন ঘন মলত্যাগের প্রয়োজনীয়তা বোধ করতেন। তিনি নিজেকে গরমকাতর, ঘর্মবহুল হিসেবে মনে করতেন যদিও তিনি উষ্ণ আবহাওয়ায় থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি ক্রিম ও বাটার জাতীয় খাবার পছন্দ করতেন এবং লবণাক্ত খাবারে তার অনীহা ছিল। তিনি খেতে ভালবাসতে এবং দ্রুত খাওয়া শেষ করতেন। তার ব্যক্তিত্ব ছিল বহির্মুখী (extrovert) তিনি মানুষের সাথে মিশতে পছন্দ করতেন। তবে তিনি অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন বা নোংরা ছিলেন। কোন কিছু গুছিয়ে রাখতে অভ্যস্ত ছিলেন না। তাকে Sulphur প্রেসক্রাইব করা হয় এবং তার ডায়রিয়া এখন অতীত ইতিহাস।

আরেক ব্যক্তি বিমানে করে বিদেশে যাওয়ার সময় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। তার বয়স ৪০। সফল ব্যবসায়ী। কিন্তু এ সমস্যা তাকে খুব চিন্তায় ফেলে দেয়। বিশেষ করে ভ্রমণের সময় তার এ সমস্যা হতো। লম্বা মিটিং এ থাকতে হবে মনে করলেও একই সমস্যায় পড়তেন তিনি। রোগী ছিলেন প্রচন্ড রকমের উচ্চাভিলাষী। কিন্তু তার উদ্বিগ্নতা তাকে পিছনে টেনে ধরছিল। বিশেষ করে যখন কিছু মানুষের সামনে তাকে কোন বিষয়ে বক্তৃতা দেয়ার অনুরোধ করা হতো, তখন তার সমস্যা বৃদ্ধি পেতো। যে কোন মূল্যে তিনি তা করতেন এবং ভালই করতেন যদিও। তিনি চকোলেট খেতে খুব ভালবাসতেন। কিন্তু চকোলেট তার পেট সহ্য করতো না। তিনি খুব কম খেতেন কারণ, অল্পাহারে তার পাকস্থলী দ্রুত পূর্ণ হয়ে যেতো। তার পেটের ডান পাশে ব্যথা অনুভূত হতো। বায়ু নি:সরণ হলে এবং মলত্যাগ করলে ব্যথার উপশম হতো। বিকাল ৪টায় তার লক্ষণ সকল বৃদ্ধি পেতো। তার সার্বিক লক্ষণে Lycopodium প্রেসক্রাইব করা হয় যাতে অতি দ্রুত তিনি আরোগ্য লাভ করেন।

হোমিও চিকিৎসার মূলনীতিঃ কেবল আইবিএস নয়; যে কোন রোগের চিকিৎসায় স্থানীয় লক্ষণের চেয়ে রোগীর সার্বিক শারীরিক-মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা জরুরী। রোগীকে সময় দিয়ে তার কথা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করলে সহজেই তার জন্য সুনির্দিষ্ট ওষুধ নির্বাচন করা সম্ভব হয়। টিপিক্যাল লাইকোপডিয়াম রোগী যারা আইবিএসে ভোগেন তারা উচ্চাভিলাষী হন। তারা নিজের জন্য অনেক উচ্চ লক্ষ্য বা গন্তব্য নির্ধারণ করেন অথচ তারা মারাত্মক রকমের উদ্বিগ্নতায় ভোগেন কিন্তু সেটা কারো সামনে শেয়ার না করার বিষয়ে তারা বদ্ধপরিকর থাকেন। এ জাতীয় মানুষেরা যখনি মানসিক চাপে পড়েন তখন তাদের আইবিএসের লক্ষণ দেখা দেয়া। কিছু মানুষ সব সময় রাগান্বিত অথচ অনেক পরিশ্রমী যারা আইবিএসের লক্ষণ প্রদর্শন করেন। যাদের চিকিৎসায় অন্যান্য লক্ষণ সাদৃশ্যে নাক্স ভমিকা (Nux vomica) বা কলোসিন্থ (Colocynth) নির্দেশিত হতে পারে। যাদের ক্ষেত্রে দুঃখবোধ বা ডিপ্রেশনের পর আইবিএসের লক্ষণ দেখা যাবে তাদের সার্বিক অবস্থা দৃষ্টে নেট্রাম মিউর বা ইগনেশিয়া দিয়ে আরোগ্য করার দরকার হবে।

এভাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দ্বারা আইবিএসের মূলোৎপাটন করা সম্ভব। হোমিওপ্যাথি কখনও কাগজ দিয়ে ফাটল বন্ধ করতে অভ্যস্ত নয়।

Dr. Benojir is a Homeopath, trained by world’s best homeopath Prof. George Vithoulkas & Farokh J Master. Cell: 01733797252, For more info please visit: https://drbenojir.com/contact/

2 Responses

  1. sir ami 5 year ai koste vugsi.ami Jessore thaki. apni jodi kissu medicine er name bole diten tobe kub upokito hota.

    1. Sorry, this is not the way. Call me or visit my chamber physically. follow the link for details: drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *