হোমিওপ্যাথিক কেস টেকিং এর সময় কিছু রোগীর নিকট জানতে চাওয়া হয় তার জীবনের সবচেয়ে দু:খের কাহিনী সম্পর্কে? কোন রোগী হয়তো বলবেন, ”বাবার মৃত্যু”, কেউবা বলবেন, ”সন্তান হারানোর বেদনার কথা”, কেউ বা বলবেন, ”প্রিয়জনের সাথে বিচ্ছেদ”, কেউবা বলবেন, ”চাকুরীচ্যুতির ঘটনা”, কেউবা বলবেন, ”সড়ক দুর্ঘটনায় অংগহানীর ঘটনা”। হোমিওপ্যাথ হিসেবে রোগীকে তার বলা কষ্টকর অনুভূতির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অনুরোধ করা আমাদের কর্তব্য। কারণ, এর মাঝেই হয়তোবা লুকিয়ে আছে তার রোগের মূল কারণ। অনেক রোগী আছেন যারা এই প্রথম তার কষ্টকর অনুভূতিটি কারো কাছে শেয়ার করছেন। এ অবস্থায় রোগীর প্রতি সহমর্মী হতে হবে। কোন প্রকার বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। এরপর তার কাছে আরও কিছু কষ্টকর অনুভূতির কথা জানতে চাওয়া যেতে পারে।

রোগীর কল্যাণকামী হলেই কেবল তিনি এসব শেয়ার করবেন। রোগীকে অবশ্যই গোপনীয়তা রক্ষার আশ্বাস দিতে হবে। রোগী যখন এটা নিশ্চিত হবেন যে, আমরা তাকে হেল্প করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি তখন তিনি নিশ্চয়ই সব শেয়ার করবেন। রোগী হয়তো পর্যায়ক্রমে অনেক কষ্টের কথাই বলবেন। তবে সচরাচর দেখা যায় তার ”প্রথম বলা কষ্টের অনুভূতির” কথাটাই আমাদের কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ, সেটা তার হৃদয়ের গভীরে ক্ষত সৃষ্টি করে আছে। তারপর হতে তার একটির পর একটি রোগলক্ষণ দেখা দিচ্ছে। যে কোন ক্রণিক রোগীর চিকিৎসায় এমন অনুভূতি অমুল্য রত্ন!!! তাই ল্যাব টেস্টের চেয়ে এদের গুরুত্ব সকল সময় অধিক। কারণ, ল্যাব টেস্টে রোগের শেষ অবস্থা বা ফল জানা যায়; কখনও কারণ জানা যায়না। রোগীর বলা কথার ভেতর কারণ লুকিয়ে আছে। চিকিৎসায় কারণটিকে সরাতে পারলে রোগ তথা রোগের ফল যাই বলিনা কেন তা দুর হবে ইনশাল্লাহ্। রোগের ফল নিয়ে মাতামাতি করলে সারাজীবনেও রোগ সারবে না। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এখানে ব্যর্থ। তাই তাদের রোগের চিকিৎসার শুরু আছে; শেষ নেই।

Dr. Benojir, drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *