[Dr. Benojir from United Kinddom]

রুগ্ন মানুষ তার কষ্ট-যন্ত্রণা লাঘবের জন্য ছুটে আসে ডাক্তারের কাছে। তারা আস্থা-বিশ্বাস-ভরষা রাখে চিকিৎসকের উপর। ডাক্তারি পেশা সৃষ্টির শুরু হতেই মানবতার কল্যাণের জন্য। আজও হিপোক্রেটিসের শপথবাক্য পাঠ করিয়ে ডাক্তাররা রোগী দেখা শুরু করেন। নীতিবাক্যে ভরপুর এ শপথনামা। দুনিয়াব্যাপী এ শপথ পাঠ করার পরও বাস্তবে কি ঘটছে তা নিয়েই আজকের লেখা। যদিও একটু বড় লেখা, আশাকরি পুরোটা পড়ার পর শেয়ার, কমেন্টে যা খুশী করবেন।

আমি হোমিওপ্যাথ। পক্ষপাতিত্ব না করে আমার হোমিওপ্যাথি দিয়েই শুরু করি। নাহলে আমাকে তোপের মুখে পড়তে হবে। অবশ্য জাতভাইয়েরা নামে-বেনাম আমার উপর মাঝে মধ্যে খুব চড়াও হন। কারণ, আমি অনেক গোমর ফাঁস করে দিই। তাতে কিছু যায় আসেনা। আত্মসমালোচনা করা উচিত। যাহোক, বাংলাদেশে সরকার স্বীকৃত হোমিওপ্যাথিক কলেজের সংখ্যা ৬২। বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও আছে যারা ৩-৬-৯ মাসের কোর্স পরিচালনা করেন। যেহেতু এসব কলেজে পড়তে ন্যুনতম এসএসসি/সমমান পাশ থাকলেই হয় তাই যে কোন বয়সের মানুষই এখানে ভর্তি হতে পারেন। অনেকে ভর্তি হন বাড়তি আয়ের জন্য। এরা অন্য পেশাতেও নিয়োজিত। অধিকাংশ ভিন্ন ক্যাটাগরির অর্থাৎ ”যার নাই কোন গতি, তার আছে হোমিওপ্যাথি বা ওকালতি”- এই ক্যাটাগরির। আর তাই বাস্তবে দেখা যায়- ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় অনেকেই ডাক্তারি শুরু করে দেন। কেউ কেউ রীতিমত চেম্বার দিয়ে, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে লোকাল টিভি চ্যানেল, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। অর্থাৎ হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে কোন জ্ঞান অর্জন না করেই এরা রোগী দেখা শুরু করে দেন। ক্যারিয়ারে শুরুতেই এরা অধিক উপার্জনের নানা ফন্দি ফিকির শিখে ফেলেন। কিভাবে রোগীকে সর্বশান্ত করা যায়, নানান প্যাকেজ/কোর্স ইত্যাদির নামে কেবলই ধান্দা।

সবচেয়ে মেধাবি এবং যার অনেক গতি ছিল তার এ পেশায় আসা উচিত ছিল। তাহলেই হোমিওপ্যাথির সাফল্য দেখে মানুষ অভিভূত হতো। ১ম/২য় বর্ষে পড়ুয়া এসব ছাত্রদের চেয়ে বরং গ্রামের ২/১ টি বই পড়ে যিনি হোমিওপ্যাথি করেন তার সাফল্য অনেক। কারণ, তিনি তার পঠিত বইয়ের বাইরে কিছুই করেন না। পড়তে পড়তে তা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হলেও অতি যত্নে তা পড়েন, সংরক্ষণ করেন আজীবন। মনগড়া কিছু অন্তত: করেন না।

শিক্ষিত, জ্ঞানী, সৎ হোমিওপ্যাথ নিশ্চয়ই আছেন যারা কখনও, কোন অবস্থায় রোগীর সু-চিকিৎসা দেয়ার ব্যাপারে আপোষ করেন না। সেবাদান তাদের মুখ্য বিষয়। আর যারা এভাবে সেবাদানকে জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছেন তাদের আল্লাহ অনাহারে রাখবেন, তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তায় বসবাস করবেন – এমন ভাবার কোন কারণই নাই। মানুষ তাদের খুঁজে বের করেন। তাদের কোন বিজ্ঞাপনের দরকার হয়না। এখাতে তাদের বিনিয়োগ শুন্য। তারা সারাজীবন তাদের সময়, শক্তি ও অর্থ বিনিয়োগ করেন কি করে আরও অধিক জ্ঞানার্জন করা যায়, অধিক গবেষণা-পড়াশুনা করা যায়, কিভাবে প্রতিটি রোগীর স্বতন্ত্র্য চ্যালেঞ্জ মোবাকিলা করা যায় তার উপর। প্রতিটি রোগী সত্যিই নতুন চ্যালেঞ্জ। কারণ, প্রতিটি নতুন রোগী তার কাছে আসে মানে তার কেস টেকিং রেজিষ্টারে বা নোটবুকে নতুন কিছুর সংযোজন। তিনি কখনও নিজেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলে দাবী করেন না। হোমিওতে বিশেষজ্ঞের স্থান নাই। হোমিওপ্যাথকে সবকিছু জানতে হয়। কোন হোমিওপ্যাথ যদি দাবী করেন যে তিনি ২০০ পাইলস্ রোগীর চিকিৎসা দিয়ে সবাইকে আরোগ্য করেছেন তবুও তার ২০১ তম রোগী আগের ২০০ রোগীর প্রতিটি হতে ভিন্ন হবে – এ ধারণা ও চ্যালেঞ্জ নিয়েই তিনি ২০১তম রোগীর কেস নেয়া শুরু করবেন। সৎ হোমিওপ্যাথের ২০০ রোগীর অভিজ্ঞতা কোন কাজে আসেনা। কারণ, তিনি পুর্ব সংষ্কার (Prejudice) হতে মুক্ত। কবে কোন্ ওষুধে কোন‌্ রোগ নিরাময় করেছেন তা তার মনে রাখার বা বিবেচনার কোন দরকার নেই। কারণ, দুনিয়ার ৮০০ কোটি মানুষের কারো ফিংগার প্রিন্টে যেমন মিল নেই, তেমনি এই হোমিওপ্যাথ মনে করেন – তার বর্তমান রোগীটি আগের দেখা সব রোগী হতে ব্যতিকম। যখনি তিনি এই ধারণা নিয়ে কেস নেয়া শুরু করেন, তখনি সাফল্য তার হাতেই ধরা দেয়। কারণ, রোগীর প্রদত্ত তথ্যই তিনি বিশ্লেষণ করেন, স্টাডি করেই ওষুধ দেন। এরা প্রতিবছর সাইনবোর্ড পরিবর্তন করে ৪০/৪১/৪২…৫০ বছরের অভিজ্ঞতা কথাটি লিখেন না। এদের কাছে প্রতিটি রোগীই নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন চ্যালেঞ্জ। এ জাতীয় ডাক্তাররা কখনও ব্যস্ত ডাক্তার হননা। তারা রোগীকে যথেষ্ট সময় দেন। এদের কারো পক্ষেই সারাদিন ৮/১০/১২ ঘন্টা প্রাকটিস করলেও ১৫-২০ জনের অধিক রোগী দেখা সম্ভব নয়। অথচ অনেক তথাকথিত হোমিওপ্যাথ রোজ ৪/৫ শত রোগীও দেখেন। ৪/৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উপার্জনও করেন। কিভাবে সম্ভব? এতো সবার সাথেই প্রতারণা!! এদের অনেকেরই ল্যাব আছে যেখান থেকেও অজস্র অর্থ উপার্জন করেন। রীতিমত গ্রুপ অব কোম্পানি খুলে বসেছেন!!

আমার মতে সরকার যদি এমন কিছু ব্যবস্থা করতেন যে, হোমিওপ্যাথ দিনে ২০-২৫ জন রোগী দেখবেন। তার যোগ্যতামাফিক তার নিজ ও পারিবারিক খরচ নির্বাহের জন্য সরকার একটা সম্মানজনক বেতনের ব্যবস্থা করে দিবেন। ওষুধও তারা প্রেসক্রাইব করতেন যা রোগী কিনে সেবন করবেন নিয়মমত। এমনটা হলেই ভালো হতো। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপক নৈরাজ্য বিরাজমান। কানে আসে কারো কারো ৫০/৬০ হাজার টাকার প্যাকেজভিত্তিক (কোর্স) চিকিৎসার কথা। যারা প্যাকেজ চিকিৎসা দেন তারা রোগীর সাথে অধিক কথাবার্তা একদম পছন্দ করেন না, ব্যস্ত ডাক্তার তো! তারা হাবিজাবি ২/৪/১০ টি বোতল, সিরাপ, ভিটামিন, প্যাটেন্ট ধরিয়ে দেন। হোমিওপ্যাথির জনক হ্যানিম্যান বলেছেন ”এসব ওষুধ হোমিওপ্যাথিক হলেও চিকিৎসাকে হোমিওপ্যাথিক বলা হবেনা”।

আর যারা সারা জীবন সততা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় সহকারে সারাদিনে হাতে গোনা ৫/১০/১৫ টা রোগী দেখেন তারা ৫০০-১০০০ টাকা ওষুধসহ খরচ ধরলে রোগীর মাথাগরম। কারণ, রোগী খরচের হিসেব কষে ২/৪ ফোটা ওষুধের দাম ধরে। কিন্তু ডাক্তার যে আধা ঘন্টা/ এক ঘন্টা সময় দিয়ে কেস নেন, স্টাডি করেন – এর মূল্য তো কেউ দেননা। বরং কেন স্টাডি করেন, কেন এরা প্রযুক্তির ব্যবহার করেন, এসব খোড়া অজুহাত খুঁজেন খরচ কম দেয়ার জন্য। মনে করেন ডাক্তার এখনও অধ্যয়নরত (ছাত্র!)। নাহলে পড়া কেন লাগবে? অথচ, হোমিওপ্যাথির জনক মহাত্মা হ্যানিম্যান ৮৯ বছর বয়সে রোগীর কেস নিয়ে সেটা তার নিজের লেখা বই অধ্যয়ন করেই চিকিৎসা দিতেন। এটাই হওয়া উচিত। এটাই কাম্য। ওষুধ এরা বিনামুল্যেই দিতে পারেন। কিন্তু তার প্রাপ্য সম্মানী কি রোগী দিবেন না? এ জাতীয় ডাক্তার যদি অভাব অনাটনের ভেতর দিয়ে চলেন তাহলে রোগী দেখায় মনোসংযোগ করবেন কিভাবে? এতে তো রোগীরই ক্ষতি। নয়কি? সৎ হোমিওপ্যাথকে কেন জীবিকার কথা ভাবতে হবে?

এবার আসি হারবাল বা গাছ-গাছন্ত বিষয়ক চিকিৎসা সম্পর্কে। এদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও সরকার স্বীকৃত। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একেবারে না নিয়েও রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এমন অনেকেই আছেন। তাদের হেকিম/কবিরাজেরা কোন ফি নেননা বটে কিন্তু ২/৪/৫ টা বোতল ধরিয়ে দিতে পারলেই তাদের কেল্লা ফতেহ! রোগীর সাথে কথাবার্তা তারাও তেমন বলেন না। আর রোগী ২/১ টা কারণেই তাদের দারস্থ হন। যেমন ধরুন- যৌন সমস্যা, বা আমাশয়। তাদের সুবিধা হলো – বোতলের গায়ে রোগের নাম লেখা থাকে। ডোজও নির্দিষ্ট মোটামুটি। কিন্তু সমস্যা হলো একই জাতীয় রোগে সবার জন্য একই চিকিৎসা। এর কোন ব্যতিক্রম নেই। হামদর্দের মত প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীতেও যারা বসেন তারা ফি নেন না। কারণ, হেকিমদের ওষুধ বিক্রয়ের টার্গেট দেয়া থাকে। টার্গেট পূরণ করতে পারলে তারা নির্দিষ্ট বেতন/বোনাস পেয়ে থাকেন।

একটা কথা তথাকথিত হোমিওপ্যাথের চেয়ে এদের চিকিৎসায় ক্ষতি কম হয়। কারণ, ভেষজ সাধারণত ১০/১৫/২০ টি প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরী। তাই এদের দ্বারা ততোটা ক্ষতি হয়না যতোটা ক্ষতি হয় হোমিওপ্যাথের ভুল চিকিৎসায়। যদিও হোমিওপ্যাথেরা ”কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নাই” এ বলে দেদার চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশ্ন হলো যার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই তার প্রতিক্রিয়া বা ক্রিয়াও আছে কি? বিজ্ঞান অন্তত: তা বলেনা। হোমিওপ্যাথি নিঃসন্দেহে বিশুদ্ধ বিজ্ঞান। ভুল করলে তার খেসারত রোগীকে দিতেই হবে। রোগী ভুগবে, ডাক্তার পাবেনা কোন কুল কিনারা। এ ক্ষতির কারণ মূলত: রোগীর কেস ঠিকমত না নেয়া, তা স্টাডি না করা এবং একাধিক ওষুধ একসাথে প্রয়োগ। অধিকাংশ কোয়ালিফাইড হোমিওপ্যাথ প্রথম বার ভাল ওষুধ নির্বাচন করলেও তার ধারণা নেই ফলোআপ সাক্ষাত কিভাবে নিতে হয়, কিভাবে সেখানে ওষুধ নির্বাচন করতে হয়। একেবারে হযবরল অবস্থা!! একটা কথা না বললেই নয়। তাহলো হারবাল কোন ওষুধই রোগীদেহে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রমাণিত নয়। সবই ট্র্যাডিশন ভিত্তিক। ”মা-খালা-নানীরা ব্যবহার করতেন তাই আমরাও করি – এমন ভাব”। আর পরীক্ষা যদি করেও থাকেন তো বিজ্ঞান বলে –”একসাথে একাধিক ভেষজের পরীক্ষা কখনও সম্ভব নয়”। তা হোক হার্বাল-হোমিওপ্যাথি বা এ্যালোপ্যাথিক ওষুধ। এতে কখনও রোগ সারে না। দমন হয় মাত্র। রোগ বা রোগলক্ষণ দমন ও আরোগ্য কখনও এক হতে পারেনা।

এবার আধুনিক চিকিৎসা তথা এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার কথা বলা যাক। ”আধুনিক চিকিৎসা” তারাই বলেন। আমরা হোমিওপ্যাথরা বলি কনভেনশনাল বা অর্থোডক্স মেডিসিন। হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার কে তারা ডাক্তার বলতেও নারাজ। সরকার কিন্তু ডাক্তার হিসেবেই হোমিওপ্যাথদের রেজিষ্ট্রেশন দেন। এ্যালোপ্যাথিক কে আধুনিক বলার কোনই কারণ নেই। তার প্রধান কারণ, এখনও ইঁদুর, বিড়াল, বানর, গিনিপিগের উপর ওষুধ পরীক্ষা করে সেই ওষুধ রুগ্ন মানবের শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে। কি করে মানুষ আর জন্তু, জানোয়ার-প্রাণীর রোগ এক হয়? মানুষের বহু শারীরিক রোগের কারণ মানসিক ও আবেগিক কারণ হতে। কি করে তাহলে প্রাণীর উপর পরীক্ষা চালিয়ে যে ওষুধ তৈরী করা হলো তা মানুষের চিকিৎসায় কাজে লাগিয়ে তাকে আধুনিক দাবী করা হয়? ফলত: যা হয় তা হলো তারা রোগের নামে চিকিৎসা দেন। ল্যাবটেস্ট নির্ভর ডায়গনসিস ও চিকিৎসা। রোগীর সাথে কথাবার্তার দরকার নাই। আমরা বহু রোগী দেখি যাদের রিপোর্ট ১০০% নরমাল অথচ রোগী বলে সে মারাত্মক অসুস্থ। বস্তুত এ্যালোপ্যাথিতে রোগীর চিকিৎসা নয়; রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়। আর রোগের চিকিৎসা মানেই আজ যার চর্ম রোগের চিকিৎসা করা হলো, কাল ক্রমান্বয়ে তাকে মাংশপেশী-হাড়-কিডনী-লিভার-ফুসফুস-হৃদরোগের চিকিৎসা দিতে হয়। কারণ, তাদের চিকিৎসায় চর্মরোগী একদিন অন্য রোগীতে রূপান্তরিত হবেই এটা স্বাভাবিক। আর হেকিমদের সাথে এদের পার্থক্য এদের বহু বিশেষঞ্জ ডাক্তার আছেন। এমনি বিশেষজ্ঞ যে, নাক-কান-গলার ডাক্তার হৃদপিন্ড বুঝেনা, চর্ম-যৌন বিশেষজ্ঞ শ্বাসকষ্ট বুঝেনা, চোখের ডাক্তার নাকের চিকিৎসা বুঝেনা। পৃথিবীতে ৪৫০+ প্রকার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মিলেও রোগীকে সুস্থ করার পরিবর্তে একের পর এক নতুন জটিল ও ক্রণিক রোগীর সৃষ্টি করে চলেছেন প্রতিদিন। একজন ব্যর্থ হয়ে অন্য বিশেষজ্ঞের নিকট রেফার করছেন। আর তাদের ফিস? বাংলাদেশের পেক্ষাপটে ৫০০ হতে ১৫০০ বা ২০০০। কিন্তু অবাক কান্ড হলো এটা ডাক্তারের আয়ের এক অতি ক্ষুদ্র অংশ। অনেকের ক্ষেত্রে মাত্র ১-৫%। কারণ ল্যাবটেস্টে জন্য রেফার করে তারা যে টেস্ট খরচের ৪০-৫০% পর্যন্ত কমিশন নেন এবং ওষুধ কোম্পানীর সাথে তার প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিক্রয়ের উপর যে কোটি কোটি টাকা কমিশন ও ফ্রি স্যাম্পল পান তার তুলনায় তাদের ফি প্রকৃতই অতি নগন্য । অসুখ যদি সারাতে পারতেন তো একটা কথা ছিল। অটোইমিউন ডিজিজ নামে একটি ক্যাটাগরীতে ১৩২/১৩৩ টি রোগ আছে। পাশ্চাত্যের প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল ইউনিভার্সিটি/স্কুলের গবেষণা বলছে এদের মধ্য ৮২ টি অনারোগ্য ঘোষিত হয়েছে ইতিমধ্যে। সবগুলির উপর গবেষণা এখন শেষ হয়নি। এ চিকিৎসার শুরু আছে শেষ নাই। আমরণ ওষুধ সেবনকে কি করে চিকিৎসা বলা যায় মাথায় আসেনা। ফি এর বাইরে কমিশন নেয়া যে ১০০% হারাম সেকথা আর নাইবা বললাম। ডাক্তার প্রয়োজনে টেস্ট করাবে। তার বিনিময়ে কমিশন কেন? সবার কাছে প্রশ্ন রাখলাম!!

সার্জারীর ডাক্তার তো তার কাছে রেফার করা সবকিছুকেই সার্জারীর কেস বলে মনে করেন। দাঁতের ডাক্তারদের কথা কি আর বলবো। আমার এক রোগী বিয়ের ৭ দিন আগে গিয়েছিলেন স্কেলিং করাতে। সুযোগ বুঝে ডাক্তার তার ভাল ৪/৫ টি দাঁতে গর্ত খুড়ে দেন। তারপর আজ টেম্পোর্যা্রি ফিলিং, কাল পার্মানেন্ট ফিলিং কত কি? বেচারার বিয়েটা শেষ পর্যন্ত ১ মাস পেছাতে হয়েছিল। রুট ক্যানেল করালে তারা সবচেয়ে অধিক লাভবান। আর যার আজ ২/১ টি দাঁতের রুট ক্যানেল শুরু হয় তার পর্যায়ক্রমে সব দাঁতের এ চিকিৎসা লাগে। আজব চিকিৎসা!!

বিজ্ঞাপনের এ যুগে মডার্ণ এ্যালোপ্যাথিক ডাক্তার ও তাদের দোসর ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানী ব্যাপক প্রচারে নেমেছেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার বিরুদ্ধে। কারণ, হোমিওপ্যাথির সাফল্যে তারা ঈর্ষণীয়। তবে হোমিওপ্যাথির সামনেও কঠিন চ্যালেঞ্জ। হোমিওপ্যাথকে তাই প্রস্তুত হতে হবে। অনেক হোমিওপ্যাথ একাধারে হোমিও-হার্বাল-এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেন। তাদের দিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবেনা। কারণ, তারা নিজেরাই হয় হোমিওপ্যাথি বুঝেন নাই বা বোঝার চেষ্টা করেন নাই। সরকার কিছু করে দেবেন সে আশাও বৃথা। যোগ্যতার স্বাক্ষর নিজেদেরই রাখতে হবে। আজ যদি পাবলিক মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা রাখে এমন হাজার খানেক মেধাবী ছাত্র হোমিওপ্যাথি পড়ার সুযোগ পেত তবে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারতাম। হোমিও চিকিৎসার মানও যদিও প্রশ্নবিদ্ধ আজ।

করোনা ভাইরাসে আজ দুনিয়া আক্রান্ত। আধুনিক মেডিসিনে কোন চিকিৎসাই নাই। অথচ হোমিওপ্যাথের কাছে চমৎকার ব্যবস্থা। কারণ, হোমিওপ্যাথ রোগের নাম ডেংগু, ইবোলা, বার্ড ফ্লু না করোনা তা দেখে না। তারা দেখে স্পষ্ট লক্ষণ। কারণ, লক্ষণ প্রদর্শন করেই রোগী চিকিৎসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিকিৎসা চান। তার সেই প্রাকৃতিক ভাষা যারা বুঝেন তাদের কাছে করোনা ভাইরাস কোন আতংক সৃষ্টি করেনা। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করোনার চিকিৎসায় ব্যাপক সফল।

আল্লাহ্ আমাদের মানব সেবার মানকে আরও বাড়িয়ে দিন। আমাদেরকে তার সৃষ্টির সেবার মাধ্যমে কবুল করে নিন। আমীন।

Dr. Benojir, ফোন (+444704865695)। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনঃ drbenojir.com/contact/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *