করোনা আতংকে পৃথিবীব্যাপী মানুষের বেহাল অবস্থা। আশার কথা হলো এর চিকিৎসা আছে। কারণ, মহান আল্লাহ এমন কোন রোগ দেননি যার চিকিৎসা নেই (বার্ধক্য ব্যতীত)( Sunan al-Tirmidhī 2038)। রাসুল (সাঃ) আরও বলেন – “Allah did not send down any disease but that he also sent down the cure.”(Ṣaḥīḥ al-Bukhārī 5354). রাসুল (সাঃ) এর হাদীস সত্য।

করোনা আক্রান্ত রোগীর চমৎকার চিকিৎসা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। হোমিওপ্যাথি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা। করোনা আক্রান্ত রোগীর সার্বিক লক্ষণ পাওয়া যায় ৪ টি পৃথক স্তরে। গভীর স্টাডি করে দেখেছি ২২০+ বছর আগে লিখিত হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরীতে করোনার সকল লক্ষণ স্পষ্টভাবে লিখিত আছে। তবে চিকিৎসা দিতে গেলে রোগীর কেসটি সঠিকভাবে নিতে হবে যেভাবে যে কোন মহামারীতে কেস নিতে হয়। রোগীর স্বাতন্ত্রীকরণ অত্যাবশ্যক। হোমিও চিকিৎসার প্রাণ এই স্বাতন্ত্রীকরণ। Homeopathy is a highly scientific & individualized system of medicine. মনে রাখতে হবে মহামারীর ক্ষেত্রেও কখনও সবার লক্ষণ এক নয়; চিকিৎসাও পৃথক হবে। কারণ, সার্বিক শারীরিক-মানসিক লক্ষণাবলীর ভিত্তিতে রোগীর স্বাতন্ত্রীকরণই উপযুক্ত ওষুধ খুঁজে পেতে সহায়তা করে। নাহলে হয় ভুল বা নিকট সদৃশ ওষুধ নির্বাচিত হবে যাতে কোন ফল হয়না। সুবিধা হলো যে কোন মহামারীতে ১০/১৫ টি ওষুধের একটি গ্রুপের কোন না কোনটি নির্বাচিত হয়। কারণ, মহামারীর লক্ষণের মধ্যে ততো অধিক অমিল পরিলক্ষিত হয়না। সাধারণ সময়ে যে কোন রোগীর চিকিৎসায় ৩০০০+ ওষুধের যে কোনটি নির্বাচিত হতে পারে। অতীতের যে কোন মহামারী এবং বিশেষত: বিশ্বযুদ্ধকালীন সৃষ্ট মহামারীতে হোমিওপ্যাথি ব্যাপক সাফল্য প্রশংসিত হয়েছে।

করোনা মহামারীর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য ধনী রাষ্ট্রসমূহ উঠে পড়ে লেগেছে। অনত্যম বিশ্বসেরা ধনী বিল গেটস্ ও এ দৌড়ে সামিল হয়েছেন। কারণ, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসায়ের বাইরেও তার ওষুধ শিল্পখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ রয়েছে। ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যবসা বলে কথা! তবে দু:খের বিষয় – ভ্যাকসিন তৈরী করতে অন্তত: ১৮ মাস সময় লাগবে। যে কোন ভ্যাকসিনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আমরা কমবেশী সবাই জানি। ভেবে দেখুন হোমিওপ্যাথিতে এর সফল চিকিৎসা বহু আগে থেকেই বিদ্যমান। হোমিওপ্যাথি কতটাই না এগিয়ে। তবে কেবল সৎ, জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথই পারেন রোগীর চিকিৎসা করতে। অনেকে প্রতারণার ফাঁদ পেতে টুপাইস কামাতে ব্যস্ত। আমি ইতোমধ্যে করোনাক্রান্ত যে কোন রোগীর বিনামূল্যে সেবা দেয়ার ঘোষণা করেছি। আল্লাহ তাওফিক দিন।

#প্রতিষেধকঃ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা যেহেতু লক্ষণভিত্তিক তাই প্রতিষেধকের ধারণাই এখানে অচল। আক্রান্ত হলেই লক্ষণ বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা। বর্তমানে প্রতিরোধের জন্য যা যা করা হচ্ছে তার সাথে দ্বিমত নেই যতক্ষণ না তা সাধারণ পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে করা হয়। পরিচছন্নতা স্বাভাবিক সকল অবস্থায় জরুরী। রাসুল (সাঃ) বলেন “Cover the vessels and close the water skins, for there will be night out of the year in which in epidemic descends. It will not pass over an uncovered vessel or an untied water skin but that some of this contagion will fall into it.”(Ṣaḥīḥ Muslim 2014).

বর্তমান পদক্ষেপই কেবল আমাদের করোনার হাত হতে রক্ষা করবে এ ধারণার সাথে পুরোপুরি একমত নই। কারণ, রোগকে যতই আমরা সংক্রামক মনে করিনা কেন, রোগ প্রকৃতপক্ষে সংক্রামক নয়। রোগের কোন ক্ষমতা নেই কাউকে আক্রান্ত করার বা নতুন করে কাউকে সংক্রমিত করার। রোগ যদি সংক্রামক হয়ই তবে প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীকে আক্রান্ত করলো কে? অতএব স্বতঃসিদ্ধ সত্য হলো রোগ সংক্রিমত হয়না। মহামারী চলাকালীন আমাদের আক্রান্ত এলাকা ত্যাগ না করার বা নতুন এলাকায় না যাওয়ার কথা বলা হয়েছে হাদীসে। (al-Bukhārī 5396, Ṣaḥīḥ Muslim 2218) আমরা সেটাই করবো। 

#ওষুধের_ক্ষমতাঃ রোগের যেমন কোন ক্ষমতা নেই কাউকে আক্রান্ত করার; ওষুধের ও তেমনি ক্ষমতা নেই কাউকে নীরোগ করার। রোগ কেবল আল্লাহর হুকুমে দেখা দেয়, ওষুধও কেবল আল্লাহর হুকুমেই কাউকে নীরোগ করে। আমরা সবাই জানি মুসা (আঃ) সরাসরি আল্লাহর সাথে কথা বলতেন। তো রোগাক্রান্ত হয়ে মুসা (আঃ) আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করলে আল্লাহ্ তাকে একটি সুনির্দিষ্ট গাছের ছাল-পাতা খাওয়ার নির্দেশ দেন। মুসা (আঃ) সেটা খেয়ে সুস্থ হয়ে যান। কিন্তু কয়েকদিন পর তার আবারও সেই একই উপসর্গ দেখা দেয়। এবার তিনি সরাসরি আগের সেই গাছের ছাল-পাতা খান অথচ তাতে আরোগ্য হননি। তখন তিনি আল্লাহর নিকট জানতে চান – ”কেন এবার ঐ একই ভেষজে (ওষুধে) কাজ হলোনা?” আল্লাহর জবাব ছিল – ”আগেরবার তিনি চেয়েছেন ও আল্লাহ চেয়েছেন তাই নিরোগ হয়েছেন। এবার তিনি চেয়েছেন কিন্তু আল্লাহ চাননি বলে তিনি নিরোগ হননি।” যে কোন ওষুধই রোগীদেহে প্রবেশের পর সে কাজ করবে কিনা সে মর্মে আল্লাহর আদেশ প্রার্থনা করে। আল্লাহ যার ক্ষেত্রে আদেশ দেন সে আরোগ্য হয়, যার ক্ষেত্রে দেননা তার আরোগ্য নেই।  রাসুল (সাঃ) বলেন, “Every disease has a cure. If a cure is applied to the disease, it is relieved by the permission of Allah Almighty.” (Ṣaḥīḥ Muslim 2204)

আরোগ্য তাই কেবল আল্লাহর নিকট তার শেখানো ভাষাতেই চাইতে হবে। রাসুল (সাঃ) বলতেন, “O Allah, I seek refuge in you from leprosy, madness, degenerative diseases, and evil sicknesses.” (Sunan Abī Dāwūd 1554)

#রোগের কারণঃ কেবল রোগ নয়, মহামারী, যে কোন প্রাকৃতিক দুযোগ, অর্থাভাব, দারিদ্র পরীক্ষাস্বরুপ। আল্লাহ বলেছেন, ”…. এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের (২:১৫৫)। আল্লাহ দেখতে চান তার বান্দা দুঃখকষ্টে জর্জরিত হয়ে কি আচরণ করে। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে মহাপুষ্কার। তবে উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বশর্ত আছে। তাইতো আল্লাহ বলেন,. ”ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর সলাতের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব (২:৪৫)। এটাই একমাত্র রোগনাশক বা বিপদমুক্তির পথ। তবে রোগ হলে আল্লাহর সাহায্য কামনা করার পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে (Sunan al-Tirmidhī 2038)। এটাই সুন্নাহ্। রোগের বিশেষতঃ মহামারীর আরেকটি কারণ আল্লাহর নিয়ম লংঘন তথা নিজে ব্যক্তিগতভাবে বা সমষ্টিগতভাবে অন্যায়, জুলুম, পাপকার্য চালিয়ে যাওয়া। পৃথিবীর অধিকাংশ লোক এ দলে পড়ে। অধিকাংশ লোক সম্পর্কে আল-কোরআনে অনেক কিছুই বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি উক্তি এখানে তুলে ধরা হলোঃ

১.তোমাদের অধিকাংশই অপরাধী (নাফরমান) (৫:৪৯),

২.আমি এই কোরআনে মানুষকে বিভিন্ন উপকার দ্বারা সব রকম বিষয়বস্তু বুঝিয়েছি। কিন্তু অধিকাংশ লোক অস্বীকার করেছে (১৭:৮৯),

৩.অধিকাংশ মানুষ বুঝেনা (১৬:৭৫),

৪.অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না (৭:১৮৭),

৫…. নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না (১০:৯২),

৬. …. কিন্তু অনেক মানুষ তাদের পালনকর্তার সাক্ষাতে অবিশ্বাসী (৩০:৮),

৭…আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না (৩০:৩০),

৮. …. কিন্ত অধিকাংশ লোক অনুগ্রহ স্বীকার করে না (১২:৩৮),

৯…..কিন্তু অধিকাংশ লোক অকৃতজ্ঞ (২:২৪৩),

১০.আল্লাহ তা’আলা সাক্ষ্য দেন যে, ওরা নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী (৫৯:১১),

১১.আল্লাহর বার্তাকে অবহেলা করে, কোরআনে বার্তা রয়েছে যদিও অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করেনা (২৬:১০৩),

১২….তাদের অধিকাংশই শয়তানে বিশ্বাসী (৩৪:৪১),

১৩.যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দাও (৩১:৭),

১৪.শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশী অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ (২:২৬৮),

১৫.আমি জালিমদেরকে অবশ্যই ধ্বংস করে দেব (১৪:১৩),

১৬.আল্লাহ বলেন- ”হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশবানী (আল-কোরআন) এসেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলিমদের জন্য (১০:৫৭)।

রোগাক্রান্তের মুল কারণটা নিয়ে আমরা একদম কথা বলছি না। অতএব করোনার মত ভয়াবহ আরও অনেক কিছু মোকাবিলা করতে হবে আমাদের। সময় এসেছে কোরান-হাদীস পড়ার। কোরআন আমাদের চরিত্র নিশ্চয়ই সঠিকভাবে চিত্রায়ন করছে। উপরের উক্তগুলো সামান্য উপমাস্বরূপ পুরো কোরআন এমন হাজারো দৃষ্টান্তে ভরপুর। Indeed Al-Qur’an is a book of Do’s and Dont’s. আল্লাহর কথার চেয়ে কার কথা অধিক সত্য হতে পারে?

#হালাল খাবার সম্পর্কে আল্লাহ কি বলেছেন দেখুন, ”কোন কারণে তোমরা এমন জন্তু থেকে ভক্ষণ করবে না, যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়না, অথচ আল্লাহ ঐ সব জন্তুর বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যেগুলোকে তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন; কিন্তু সেগুলোও তোমাদের জন্যে হালাল, যখন তোমরা নিরুপায় হয়ে যাও। অনেক লোক স্বীয় ভ্রান্ত প্রবৃত্তি দ্বারা না জেনে বিপথগামী করতে থাকে। আপনার প্রতিপালক সীমাতিক্রম কারীদেরকে যথার্থই জানেন (৬:১১৯)”

#কোরানে শেফাঃ কোরআন প্রকৃতপক্ষে শেফা যদি তাকে সঠিকভাবে জেনে অনুসরণ করা হয়। আল্লাহ বলেন- ”হে মানবকুল, তোমাদের কাছে উপদেশবানী (আল-কোরআন) এসেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলিমদের জন্য” (১০:৫৭)। আল্লাহ বলেন – ”প্রকৃতপক্ষে কোরআন তাদেরই জন্য যারা ভাবনা চিন্তা করে। বস্তুত আল্লাহর নিকটই উত্তম আশ্রয় (৩:১৪)। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর (২২:৪০)। নিশ্চয় এতে (কোরআনে) চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে (৪৫:১৩)।” আসুন কোরআন মেনে আমরা সমস্বরে বলিঃ ”যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন। (২৬:৮০)। যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন। (২৬:৮১) আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি-বিচ্যুতি মাফ করবেন। (২৬:৮২), হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর (২৬:৮৩)”।

#শেষ_কথাঃ 

আমরা আজ লক ডাউনে আছি। কতভাবে অলস সময় কাটানোর টিপস দিয়ে যাচ্ছেন কত বুদ্ধিজীবি, মডেল বা চিত্রনায়িকারা।। কিন্তু কজন বলছেন – কোরানে আমাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কি লেখা আছে সেটা পড়তে, মানতে? কোরআন-হাদীস সর্বকালে সকল সমস্যার সমাধান। এটাই চমৎকার সুযোগ। আসুন কোরআন পড়ি, কোরআন বুঝি, কোরআন দিয়ে জীবন গড়ি এবং কোরানের বার্তা অন্যের কাছে পৌঁছে দি। অন্ততঃ অর্থসহ পুরো কোরআন একবার পড়ে ফেলি এই লক ডাউনের ভেতর। সেটা যারা পারেন না তারা সহজ একটি কোরআনের বাংলা অনুবাদ অন্ততঃ পড়ে ফেলুন। পড়েই দেখুন আপনার সম্পর্কে কোরআনে কি লেখা আছে। পরিত্রাণের উপায় পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ। আর যদি কেউ করোনাতে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারাও যান তো তিনি শহীদের মর্যাদাপ্রাপ্ত হবেন (সহীহ আল বুখারী ৫৪০)। প্লেগের মৃতের বিষয়ে এই হাদীসটি বর্ণিত হলেও করোনাসহ যে কোন মহামারীতে মৃতের বিষয়েও আলিমদের একই মত। শর্ত ঈমান নিয়ে মৃত্যুবরণ। আল্লাহ আমাদের পূর্ণ মুসলিম হয়ে মৃত্যুবরণের তাওফিক দিন। #আমীন।

Dr. Benojir, For more info please CLICH HERE

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.