বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization) সহ বিভিন্ন দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অথরিটি করোনাভাইরাসে (COVID-19) আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত লক্ষণে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে মর্মে রিপোর্ট করেছেঃ

জ্বর (98%), কাশি (77%), শ্বাসকষ্ট (63.5%), মায়ালজিয়া (11.5%), ম্যালাইস (35%), রাইনোরহিয়া (6%), আর্থ্রালজিয়া (2%), বুকে ব্যথা (2%), মাথা ব্যথা (6%), বমি (4%)।

মেডিকেল বিশ্ব অবাক দৃষ্টিতে করোনা আক্রান্তদের চুড়ান্ত পরিণতি দেখছে যেন তাদের কিছুই করার নেই। ইংল্যান্ডের ডাক্তাররা দায়িত্বপালনে অস্বীকৃতি জানানোয় সরকার এখন অবসরপ্রাপ্ত ডাক্তারদের কাজে লাগানোর উপায় খুঁজছে। মহামারির কি নির্মম পরিণতি!!

আমাদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করোনা ভাইরাসসহ যে কোন রোগের চিকিৎসায় কার্যকর। আলহামদুলিল্লাহ।

হোমিও চিকিৎসার মুলনীতি হলো, ”যে ওষুধ সুস্থ মানবদেহে যে জাতীয় লক্ষণসমষ্টি কৃত্রিমভাবে উৎপাদন করে, সেই একই ওষুধ রুগ্ন ব্যক্তির ঠিক সে জাতীয় লক্ষণাবলী আরোগ্য করে”। রোগের নাম যাই হোকনা কেন স্বতঃসিদ্ধ এই মুলনীতি বার বার প্রমাণিত।

যদিও করোনাভাইরাস কোন কোন দেশে মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে তবুও অন্য যে কোন রোগের মত এর সার্বিক লক্ষণও সমূহ সকল রোগীর ক্ষেত্রে এক নয়। বড়জোর অধিকাংশের লক্ষণ কাছাকাছি বলা যায়। হোমিও চিকিৎসা দিতে রোগীর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে বিচার বিশ্লেষণ করতেই হবে। তবে মহামারি আক্রান্ত রোগীর ন্যায় এ জাতীয় রোগীর কেস নিতে হবে।

সাধারণতঃ অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে সে সকল লক্ষণাবলী দেখা যায় তার ভিত্তিতে আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাই যে আমাদের সমৃদ্ধ মেটেরিয়া মেডিকার প্রায় কমবেশী দেড় ডজন ওষুধের যেকোন ওষুধই করোনা আক্রান্ত্রের জন্য নির্বাচিত হতে পারে। রোগীর সার্বিক লক্ষণই আসল ওষুধটি নির্বাচনে সহায়তা করবে।

আমরা রোগী বিশেষে রোগীর সার্বিক অবস্থা ফিল্টার করলে দেখতে পাই যে, প্রাথমিক অবস্থায় যখন রোগীর শুষ্ক কাশি থাকে তখন যে সকল ওষুধের কোন একটি নির্দেশিত হয় সেগুলো মোটামুটিভাবে হলোঃ এ্যাকোনাইট, ব্রায়োনিয়া, ইপিকাক, ক্যালি কার্ব, ফসফরাস, আর্সেনিক এ্যাল্ব, নাক্স ভমিকা, স্যাবাডিলা, লাইকোপডিয়াম, সালফার, কার্বো ভেজ, ল্যাকেসিস, পালসেটিলা ইত্যাদি।

করোনা মহামারির লক্ষণগুলি দ্রুতগতিতে পরিবর্তনশীল। এই দ্রুত গতিশীলতার উপর ভিত্তি করে যে সকল ওষুধ হতে লক্ষণসাদৃশ্যে এর কোন একটি নির্বাচিত হয় সেগুলো হলোঃ এ্যাকোনাইট, বেলেডোনা, নাক্স ভমিকা, আর্সেনিক এ্যাল্ব ইত্যাদি। উল্লেখ্য, যে সকল ওষুধে রোগের শুরুতেই নাকে সর্দি থাকে তাদের প্রতিও আমরা দৃষ্টিপাত করতে পারি।

বিশ্বব্যাপী হোমিও চিকিৎসক দের অভিজ্ঞতা হতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্রায়োনিয়া নির্দেশিত হতে দেখা যাচ্ছে। কারণ, যে আবহাওয়ায় রোগটি দেখা দিচ্ছে তা হলো রাতে ঠান্ডা কিন্তু দিনে গরম। শীতের শেষেই এমন আবহাওয়া বিরাজ করে। বর্তমানে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত এলাকায় এমন আবহাওয়াই বিদ্যমান।

আক্রান্ত রোগীর শেষ দিকের লক্ষণে সবচেয়ে সদৃশ ওষুধ লাইকোপডিয়াম যেখানে নিউমোনিয়ার অবস্থা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। লাইকোপডিয়াম প্রকৃত অর্থে ব্রায়োনিয়ার ও কম্লিমেন্টারি।

বিশ্বব্যাপী যারা হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা রোগীদের ৪ টি গ্রুপে দেখতে পাচ্ছেনঃ

গ্রুপ এঃ যাদের কোন শ্বাসযন্ত্রের লক্ষণ থাকেনা। এদের জন্য জেলসিমিয়াম, ইউপেটোরিয়াম, ব্রায়োনিয়ার মত ওষুধ নির্বাচিত হচ্ছে।

গ্রুপ বিঃ এদের শ্বাসযন্ত্রের লক্ষণের সাথে কাশি ও জ্বর থাকে। একটি বৈশিষ্ট্যমন্ডিত লক্ষণ হলো এদের জিহ্বা হালকা লালাভ। কারো কারো শুষ্ক কাশি, কারো বা হলুদ শ্লেষ্মা নির্গমণ হয়। গলা শুষ্কও থাকতে দেখা যায়। এ পর্যায়ে ব্রায়োনিয়া, এন্টিম টার্ট, আর্সেনিক এ্যাল্ব ও ফসফরাস নির্দেশিত হতে দেখা যাচ্ছে।

গ্রুপ সিঃ আরোও গভীর, জটিল অবস্থা। শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক সংক্রমণ হয় এ পর্যায়ে। বৈশিষ্ট্যসূচক লক্ষণ হলো এদের জিহ্বা লাল টকটকে অথবা হলুদাভ। রোগীর সামান্য চলাফেরাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ পর্যায়ে লাইকোপডিয়াম, পাইরোজেনিয়াম, ল্যাকেসিস, ব্রায়োনিয়া ও আর্সেনিক এ্যাল্ব নির্দেশিত হয়।

গ্রুপ ডিঃ এ পর্যায়ে মারাত্মক শ্বাসকষ্টসহ রোগীর মুখে বিবর্ণ (cyanosis) ভাব দেখা দেয়। এ স্তরে রোগীর জিহ্বা বেগুনিবর্ণ ধারণ করে। সামান্য নড়াচড়ায় লক্ষণ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া অংগপ্রত্যঙ্গ ঠান্ডা অথচ ঘামে। এ পর্যায়ে মার্ক সল, ল্যাকেসিস, আর্সেনিক, হাইড্রোসিয়ানিক এসিড, কার্বোভেজ নির্দেশিত হয়।

করণীয়ঃ আক্রান্ত রোগীরা আতংকিত না হয়ে কেবল কোয়ালিফাইড ও অভিজ্ঞ এবং যিনি হোমিওপ্যাথির নিয়মনীতি যথার্থ অনুসরণ করেন এমন হোমিওপ্যাথের শরণাপন্ন হোন। তিনিই রোগীর সার্বিক অবস্থা পুংখনাপুংখু বিশ্লেষণ করেই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন ইনশাল্লাহ।

বিঃদ্রঃ মহামারী বা যে নামই দিই না কেন করোনার সংক্রমণ নিঃসন্দেহে আল্লাহর গজব। আমরা সকলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই। তওবা করে পাপ হতে ফিরে আসি। তাঁর প্রদর্শিত পথে চলে। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুন। আমীন! আমীন!! আমীন!!!

Dr. Benojir, 01733797252, for more info Click here

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.