#Short Description (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা): ৬০ বছর বয়সী এক মহিলা রোগী। ৬ মাস আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ তার রোগকে হার্পিস জোস্টার ডায়গনসিস করেছেন । এটি তার বাম স্তনের নীচে প্রকাশিত হয়ে পিঠের দিকে ছড়িয়ে গেছে। প্রথমদিকে আগুনের মত লালাভ ছিল। অনেক ফুঁসকুড়ির মত ছিল। কয়েকবার স্টেরয়েড ব্যবহারে এখন কিছুটা শুকিয়ে যাওয়ার অবস্থা। যদিও খুব চুলকায় না তবে দিনরাত মারাত্মকভাবে সূঁচফোটার মত ব্যথা ও জ্বালা অনুভূত হয়। ব্যথাটি আক্রান্ত পাশে শুয়ে থাকলে, গরমে, সিনথেটিক পোষাক পরলে ও গোসলে বৃদ্ধি পায়। ডাক্তার স্টেরয়েড ব্যবহার করে কোন ফল পাননি।

#Concomitant Symptoms (আনুষংগিক লক্ষণ): রোগীনি ১৪ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন। তারপর হতে ৫ সন্তানকে নিয়ে অনেক সংগ্রাম করে টিকে আছেন। সময়টা তার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ও কষ্টের ছিল। স্বামীকে হারানো তার অনেক মনোকষ্টের কারণ হলেও তিনি তা কাটিয়ে উঠেছেন। এখন তিনি স্বামীর কথা তেমন ভাবেন না বা স্বপ্নেও দেখেন না। তিনি অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী। রোগীর ঠান্ডা লাগার বা ঘন ঘন একিউট রোগ হওয়ার প্রবণতা নাই। সূর্যের তাপ একদম সহ্য করতে পারেন না। ব্যথার কারণে তার রাতে ৪/৫ বার ঘুম ভেংগে যায়। যে কারণে পরে দুর্বলতা বোধ করেন। সম্প্রতি ভোরবেলা তার কপালে ব্যথা অনুভুত হয় যা কয়েক ঘন্টা পর চলে যায়। চোখ দিয়ে ভোরবেলায় আঠালো পদার্থ নির্গত হয় যাতে চোখের পাতা আটকে থাকে। তিনি রোজ ১০/১১ গ্লাস পানি পান করেন। পায়খানা নিয়মিত হয়। ৫০ বছর বয়সে তার মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। মেনোপজকালীন যেসকল সমস্যা অনেকের হয়ে থাকে তার ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি।

#Prognosis (আরোগ্য সম্ভাবনা): হার্পিস জোস্টার একটা শারীরিক সমস্যা যা নার্ভাস সিস্টেমের গোলযোগজনিত কারণে দেখা দেয়। যদিও এর প্রকাশস্থল চর্ম কারণ, এটা প্রকৃত অর্থে কোন চর্মপীড়া না। অতএব, নার্ভাস সিস্টেমে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই চিকিৎসার মুল লক্ষ্য। এ্যালোপ্যাথিতে এর কোন চিকিৎসা না থাকলেও সেই চিকিৎসায় লক্ষণসমূহ বার বার দমন করা না হলে হোমিও চিকিৎসায় দ্রুত আরোগ্য হয়ে থাকে। রোগীনির বর্তমানে অন্য কোন শারীরিক-মানসিক-আবেগিক লক্ষণ না থাকায় তার স্বাস্থ্য সার্বিকভাবে ভালই ছিল বলতে হবে। তার রোগের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন লক্ষণ বংশগতভাবে এসেছে বলে প্রমাণিত হয়নি। তার ঘন ঘন একিউট রোগের প্রবণতা নাই যা তাকে স্বাস্থ্যের ১২ টি লেভেলের শীর্ষে অর্থাঃ ১-২ নং লেভেলে স্থান দিয়েছে। প্রধান উপসর্গটির হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যাওয়ায় তার রোগ ততোটা জটিলতাপ্রাপ্ত নয় এবং দ্রুত আরোগ্যযোগ্য।  

#Comparative study of medicines (ওষুধের তুলনামূলক আলোচনা): রেপার্টরাইজেন করে প্রাপ্ত প্রধান কয়েকটি ওষুধের তুলনামূলক আলোচনায় দেখা যায় যে-

সালফারের চর্মরোগ আছে যা ঠান্ডায় উপশম হয়। এর লক্ষণ গরমে বিশেষত: সুর্যের তাপে, সিনথেটিক পোশাকে, গোসলে বৃদ্ধি পায়। এতে জ্বালাকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর লক্ষণসমূহ বামপার্শ্বে প্রকাশিত হয়। চোখে আঠালো পদার্থ বের হওয়ার লক্ষণও আছে। অধিকন্তু, সালফার বিরোধী কোন লক্ষণ রোগীতে পাওয়া যায়নি।

নাক্স, ক্যাল্কেরিয়া কার্ব, হিপার সাল্ফ ও মার্ক সলের কোন মুল লক্ষণ (Keynote symptoms) রোগীতে পাওয়া যায়নি। লক্ষণের ঠান্ডায় উপশম এর কোনটিতেই নেই বরং ঠান্ডায় এদের লক্ষণ বৃদ্ধি পায়।

পালসেটিলায় কীনোট হচ্ছে গরমে বৃদ্ধি, ঠান্ডায় উপশম ও চোখে কনজাংটিভাইটিসের মত লক্ষণ পাওয়া যায়। এতেও রোগীর লক্ষণের বিরুদ্ধ লক্ষণ নেই।

বেলাডোনাতেও কোন কীনোট লক্ষণ এই রোগীতে নাই।

রাসটক্সে হার্পিস জোস্টার সহ ফুঁসকুড়িযুক্ত চর্মরোগ আছে। রাসটক্সের রোগী সর্বদা চলাফেরা তথা এ্যাকটিভ থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু ঠান্ডায় উপশম এর বিরুদ্ধ লক্ষণ।

ব্রায়োনিয়ার লক্ষণ গরমে বৃদ্ধি ও ঠান্ডা হ্রাস পায়। বিরুদ্ধ কোন লক্ষণ নেই।

#Case Analysis (বিশ্লেষণ): বিশ্লেষণ করে দেখা যায় সালফারের অবস্থান সবার শীর্ষে। রোগীর মানসিক-আবেগিক অবস্থা ভারসাম্যপূর্ণ বলে এসব বিষয় বিবেচনায় আনা হয়নি। খাদ্যে আকর্ষণ-বিতৃষ্ণা-বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়েও তেমন কিছু পাওয়া যায়না। সুতরাং সার্বিক লক্ষণ, কীনোট, প্যাথলজি সকল বিবেচনা সালফারের পক্ষে থাকায় তাকে সালফার প্রয়োগ করা হয়। সালফার প্রয়োগের পর রোগীর চোখের লক্ষণটি ২/১ দিনের জন্য বৃদ্ধি পায়। মুল লক্ষণ অর্থাৎ হার্পিস জোস্টারের লক্ষণ ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে এবং ৩ সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ আরোগ্য হয়। পরবর্তী কয়েকটি ফলোআপে দেখা যায় রোগীর কোন লক্ষণ ফিরে আসেনি বা নতুন লক্ষণও প্রকাশিত হয়নি।

#Overall comments (সার্বিক মন্তব্য): রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্য খুব ভাল ছিল যা লেভেল অব হেলথের ১-২ এর মধ্যে পড়ে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওষুধের ক্রিয়াও তাই প্রমাণ করে। তার কোন মানসিক-আবেগিক লক্ষণ ছিলনা যাতে কেসটি জটিলতা প্রাপ্ত হয়। রোগীর লক্ষণসমূহ শারীরিক স্তরের সবচেয়ে কম গুরুত্বপূ্র্ণ অংশ চর্মে প্রকাশিত ছিল। রোগীর অর্গানিজম খুবই ভারসাম্যপূর্ণ হলেই কেবল লক্ষণ কেবল দৈহিক এবং কম গুরুত্বপূর্ণ অংগে সীমাবদ্ধ থাকে। কোন ভাইটাল অর্গান যেমন- হৃদপিন্ড, কিডনী, যকৃত, ফুসফুস বা মস্তিষ্ক আক্রান্ত ছিলনা। কেসটি খুবই সহজ বিধায় মাত্র ১ ডোজ ওষুধেই সাময়িক বৃদ্ধি পেয়ে দ্রুত আরোগ্য হয়। এর পর দীর্ঘ সময় তার লক্ষণ ফিরে আসেনি। অনেকের ধারণা সকল রোগীরই কিছু না কিছু মানসিক লক্ষণ থাকে। এ ধারণা এখানে প্রমানিত হয়নি। যদিও হোমিও চিকিৎসায় মানসিক-আবেগিক লক্ষণ অমুল্য বলে বিবেচিত। রোগীর লক্ষণের বংশগত কোন উৎস না থাকায় খুব সহজেই রোগীর চিকিৎসা সফল হয়।

বিঃদ্রঃ কেসটি সংক্ষেপে উপস্থাপিত। এসব কেস নিতে রোগীর সাথে বিস্তারিত আলোচনাই যথেষ্ট যেখানে তথ্যসমূহ রোগীর পর্যবেক্ষণ হতেই আসে। টেস্ট রিপোর্টের কোন দরকার নাই। কেবল ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে রোগীর কেস নিতে হবে এবং তা স্টাডি করে চিকিৎসা দিতে হবে।

Dr. Benojir, 01733797252, For more info Please CLICK

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.