#Main complain (প্রধান লক্ষণ): টনসিলাইটিসের একটি রোগীর কেস শেয়ার করছি যা ৫ দিনের ভেতর পূর্ণ আরোগ্য লাভ করে। রোগীর উভয় টনসিল ফুলে উঠেছিল, তবে বাম টনসিল ডানের টি অপেক্ষা বড় দেখা গেছে। যদিও ব্যথা ছিল কেবল বাম দিকের টনসিলে। ব্যথার ধরণ কেটে ফেলার মত বিশেষ করে আহারের সময়। টনসিলের ব্যথাটি বাম কান পর্যন্ত সম্প্রসারিত হতো। ঠান্ডা পানি পানে রোগী আরাম বোধ করতেন। তার লালা ছিল আঠালো বা চটচটে। অন্য সময়ে ব্যথা কম থাকলেও কিছু খাওয়ার সময় তিনি অধিক ব্যথা অনুভব করতেন। রোগীর হাতের আংগুল ও পায়ের তলায় খুব ঠান্ডা থাকতো।

#Puculiarity of Symptoms(অদ্ভুত লক্ষণ): এই রোগীর কেসটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শুধু বাম টনসিলের প্রদাহ। যদিও এমন নয় যে সকল রোগীর কেবল বাম টনসিল আক্রান্ত হয়। এখান হতে ধারণা করা যায় যে, রোগীর জীবনীশক্তি তথা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন কোন বিশৃঙ্খলা ঘটেছিল তা কেবল একদিকে এবং বামদিকে টনসিল প্রদাহের সৃষ্টি করেছে এবং এই লক্ষণের মাধ্যমেই জীবনীশক্তি নিজেকে সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই লক্ষণটির কারণে রোগীর লক্ষণাবলী একটি স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় বহন করে। এ ধরণের উপসর্গগুলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ – তারা আমাদের চোখে আংগুল দিয়ে দেখায় যে, কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে কাজ করছে। এমন লক্ষণ পেলে রোগ একিউট বা ক্রণিক যাই হোক না কেন তা দ্রুত আরোগ্য হবে ইনশাল্লাহ্।

#Case Analysis (কেস বিশ্লেষণ): কেসটি বিশ্লেষণের সময় সবার আগে ল্যাকেসিস নামক ওষুধের কথা মনে আসে। ল্যাকেসিসের একটি লক্ষণ আমরা সচরাচর লক্ষ্য করি যে রোগীর ঘাড়ের এলাকা স্পর্শে খুবই সংবেদনশীল এবং ঠান্ডা পানি পানে উপশম বোধকরে। ল্যাকেসিসের রোগীর টনসিলের রং বেগুনী যা আমরা ফাইটোলক্কা নামক ওষুধেও দেখতে পাই। কিন্তু ফাইটোলক্কা ডানদিকের টনসিলে কার্যকর। উভয়ের ভেতর মিল হলো তারা ঠান্ডা পানি পানে উপশম বোধ করে। ফাইটোলক্কার ২টি লক্ষণ খুবই তাৎপর্যবহ। প্রথমত, গ্রন্থিসমূহ ব্যথাসহ প্রদাহিত হয় দ্বিতীয়ত, ব্যথার তীব্রতা এত অধিক যে রোগী ব্যথা সহ্য করতে না পেরে অনেক সময় চিৎকার করে।

পরবর্তীতে যে ২টি ওষুধে ঠান্ডা পানি পানে টনসিলের ব্যথার উপশম হয় তা হলো এপিস মেল ও ল্যাক ক্যানিনাম। এপিসের ব্যথা হুল ফুটানোর মত এবং রোগীর রোগলক্ষণ দ্রুত বিকাশ লাভ করে। এপিসের বৈশিষ্ট্যসূচক লক্ষণ হলো এর রোগীর এমনভাবে আলজিহ্বা ফুলে উঠে যেন পানি থলির মত দেখায়।

ল্যাক ক্যানিনামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হলো লক্ষণাবলীর দিক বা পার্শ্ব পরিবর্তন। টনসিলাইটিস এর প্রদাহ ডান না বাম কোন দিকে শুরু হলো তা ল্যাক ক্যানের নিকট মূল বিষয় না। বিষয় হলো লক্ষণ একদিক হতে অন্য দিকে যায় এবং পুনরায় প্রথম দিকে অর্থাৎ যে দিকে শুরু হয়েছিল সেদিকে ফিরে আসে। যেমন- ডান দিকে শুরু হয়ে বামদিকে যায়, আবার ডানে ফিরে আসে অথবা ঠিক এর উল্টোটা। ল্যাক ক্যানের স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্যসূচক বিষয় হলো এর পার্শ্ব পরিবর্তনশীলতা। রোগের নাম টনসিলাইটিস, মাস্টাইটিস, ওভারির নিউর‍্যালজিয়া বা মাইগ্রেন যাই হোক না কেন পার্শ্ব পরিবর্তনশীলতা দেখলে আমরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ল্যাক ক্যান প্রয়োগ করে থাকি।

 #Prescription (প্রেসক্রিপশন):যাইহোক, আলোচ্য রোগীর কেসটিতে আমরা ২ টি রোগলক্ষণের প্রাধান্য লক্ষ্য করি তাহলো- প্রথমত, রোগটি বাম পার্শ্বে বিকাশ লাভ করেছে এবং রোগীর মুখে চটচটে লালা। মার্ক সল নামক ওষুধটিতে আমরা এ রোগীর কিছু লক্ষণ দেখতে পাই যেমন – মুখের মেটালিক স্বাদ, রাতে ঘাম হওয়া, মুখে খুব লালা আসা ইত্যাদি। কিন্তু রোগীর কেসটি মার্ক সলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেখালেও ব্যথাটি যেহেতু কেবল বামদিকের টনসিল আক্রান্ত তাই এই রোগীর ওষুধ হবে মার্কুরিয়াস আয়োডেটাস রুবার। এই ওষুধ প্রদানেই রোগী ৫ দিনের ভেতর পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেন। এত দ্রুত আরোগ্য কোন চিকিৎসা পদ্ধতিতে আছে?

#Overall Comments (সার্বিক মন্তব্য): ভেবে দেখুন তো এমন একটি রোগীর এ্যালোপ্যাথিক একমাত্র চিকিৎসা কি হতো। নিশ্চয়ই অপারেশন। হয়তোবা প্রথমে কয়েকদিন ব্যথার ওষুধসহ এ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দমন করার চেষ্টা করা হতো। টনসিল অপারেশন পরবর্তী নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা আমরা জানি। টনসিল অপারেশন হলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এসব রোগী সারা বছর নানা প্রদাহ বিশেষত: ঠান্ডা-সর্দি-কাশি ভোগে। সার্বিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেংগে পড়ে। উচ্চ তাপমাত্রার জ্বরটি অচিরেই হারিয়ে যায় যা রোগীর প্রতিরোধ ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী তা নির্দেশ করে। ফলে রোগীর প্রায় সারা বছর স্বল্প তাপমাত্রার জ্বর লেগেই থাকে। রোগীর শ্বাসযন্ত্র তথা ফুসফুস আক্রান্ত হয় ফলে সামান্য কারণেই নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, নানারকম এ্যালার্জিক সমস্যা এমনকি যক্ষ্মার মত রোগ হতে দেখা যায়। হোমিওপ্যাথিক মতে টনসিল অপারেশনের কেস নয়। এটা সহজেই নিরাময়যোগ্য।

Dr. Benojir, 01733797252, For more info Please Click

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *