#পাইলস্: কারণ, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা!!

#What is piles?

পাইলস্ বা হেমোরয়েডস (haemorrhoids) অর্শ নামেই অধিক পরিচিত। এটি আসলে মলদ্বারের ফোলা আর ফাঁপা শিরা। সরল অর্থে এটি হলো মলদ্বারের শিরাস্ফিতি (varicose)। অর্শ মলদ্বারের (rectum) ভেতরের বা বাইরের (anus) চর্মের নীচে প্রকাশিত হয়। এটি মুলত: শৈষ্মিক ঝিল্লির (mucus membrane) নিচের শিরার ভেতর গুটি তৈরি করে। শিরাগুলি ফুলে-ফেঁপে গেলে লক্ষণ প্রকাশিত হয়। পাইলস্ ২ প্রকারের। অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক। বাহ্যিক পাইলসই কমন। সংশ্লিষ্ট শিরাগুলি মাধ্যাকর্ষণের কারণে অনবরত উপরের দিকে হৃদপিন্ডের চলে আসার চেষ্টা করে। 

#Symptoms:

১. মলত্যাগ করার সময় বা পরে রক্ত দেখা যায়। অনেকের মল বেশী শক্ত হলে এমনটি হতে পারে। তবে নরম মলের ক্ষেত্রে এমন দেখা যায়। প্রাথমিক অবস্থায় সবার রক্ত যায়না,

২. মলদ্বার থেকে শ্লেষ্মার নির্গমন,

৩. মলদ্বারের চারদিকে লাল হওয়া বা বেদনা অনুভূত হওয়া,

৪. মলত্যাগের পরও অন্ত্র ভর্তি বলে বোধ হওয়া, অন্ত্র খালি না হওয়া,

৫. মলত্যাগের বেগ হলে, মলত্যাগের সময় বা পরে ব্যথা, জ্বালা ও চুলকানি,

৬. স্থানচ্যুত অর্শের ক্ষেত্রে নরম আঙুরের মত এক বা একাধিক পিন্ড মলদ্বার হতে বেরিয়ে আসে,

৭. বাহ্যিক অর্শেও অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা, জ্বালা করে বিশেষত: দীর্ঘদিন ধরে উদরাময় ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে,

৮. বাহ্যিক অর্শে রক্ত জমাট বাধা হলে পিন্ডটি নীল বা রক্তবেগুনী রং ধারণ করে ফলে রক্তক্ষরণ হতে পারে,

৯. জটিলতাপ্রাপ্ত অর্শ হতে ভগন্দর (fistula), মলদ্বার ফেটে যাওয়া (fissure), এমনকি ক্যান্সার (colorectal cancer) হতে পারে,

১০. মলদ্বার বেরিয়ে আসতে পারে।

১১. অপ্রীতিকর ও অস্বস্তির কারণে পাইলস্ দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। অনেক ক্ষেত্রে রোগী স্বাভাবিকভাবে হাটা-চলা করতে ও বসতে পারেনা,

১২. সঠিক চিকিৎসা না পেলে রোগীর অবস্থা জটিলতা প্রাপ্ত হয়। রক্ত জমাট বাঁধে (thrombosis) এর সৃষ্টি হয়।

#Causes:

১. মলত্যাগের সময় অত্যধিক চাপ প্রয়োগ,

২. গর্ভাবস্থায় মলদ্বারের শিরার উপর জরায়ুর চাপ পড়ার কারণে পাইলস্ হতে পারে যা সন্তান প্রসবের পর চিকিৎসা ছাড়াই চলে যায়,

২. দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যে বা ডায়রিয়া অন্যতম কারণ,

৩. যারা দীর্ঘক্ষণ বসে যারা কাজ করেন এবং শারীরিক পরিশ্রম করেন না তাদের এ রোগ অধিক হয়,

৪. অতিরিক্ত শারীরিক ওজন,

৫. তৈলাক্ত খাদ্য, ফাস্টফুড ইত্যাদি অধিক পরিমাণে গ্রহণ।

#How to prevent?

১. জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন বিশেষত: প্রতিদিন অন্তত: ২/৩ বার প্রচুর পরিমাণে আঁশযুক্ত সবজি, ফলমূল ও গোটা খাবার (fibre/ whole food) অর্শ রোধে খুব সহায়ক,

২. পায়ুপথের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন,

৩. মাংস, কম আঁশ ও বেশী চর্বিযুক্ত খাবার, কড়া মশলা ও ফাস্টফুড বর্জনীয়,

৪. অধিক পানিপান করুন,

৫. মল কখনো আটকে না রেখে নিয়মিত মলত্যাগ করুন,

৬. ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন,

৭. সপ্তাহে অন্তত: ৫ দিন অন্তত: ৩০ মিনিট নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।

#Allopathic Treatment:

এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় স্কেলোথেরাপি (sclerotherapy), laser therapy, বা ইনজেকশন, কোয়াগুলেশান (ইনফ্রায়েড, লেজার বা বাইপোলার) এবং সর্বশেষ শল্য চিকিৎসা (hemorrhoidectomy)। আমাদের অভিজ্ঞতা হলো শল্য চিকিৎসা দিয়েও অনেকের পুন: পুন: লক্ষণ দেখা দেয়। সার্জারীতে পাইলস্ এর ফল দুর হলেও কারণগুলো কিন্তু রয়ে যায় যা পুন: পাইলস্ হওয়া থেকে রোগীকে বাঁচাতে পারেনা। যেমন- সার্জারী কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য রুখতে পারেনা। তাছাড়া যাদের শল্য চিকিৎসা দেয়া হয় তাদের অধিকাংশই পরবর্তী সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

#Homeopathic treatment:

সার্জিক্যাল চিকিৎসা ছাড়াই হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার  স্থায়ীভাবে পাইলস্ এর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। অন্যান্য যে কোন রোগের ন্যায় পাইলস্ -এর হোমিও চিকিৎসাও ব্যক্তির স্বাতন্ত্রীকরণ (individualization) জরুরী। এ চিকিৎসায় কেবল ব্যথা হ্রাস পায় বা রক্তপাত বন্ধ হয় তাই নয় বরং অন্যান্য ভোগান্তির অবসান হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণও দূরীভূত হয়। ভাল হোমিও চিকিৎসা হলে পাইলস্ – এর পুন: প্রকাশের ঘটনা বিরল। কেন্ট রেপার্টরী অনুযায়ী পাইলস্ এর জন্য ১৬৩ টি ওষুধ নির্দেশিত হতে পারে। মলদ্বারে রক্তক্ষরণের জন্য আরো ১২৪ টি ওষুধ ব্যবহৃত হয়। তবে রোগীর সার্বিক অবস্থা ও লক্ষণসমষ্টির বিশ্লেষণ ও স্বাতন্ত্রীকরণ করে ৩০০০+ ওষুধের ভান্ডার হতে পাইলস্ চিকিৎসায় যে কোনও ১টি ওষুধ ব্যবহৃত হতে পারে। তবে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়: Aesc, Agar, Aloe, Ars, Carb-an, Carbo Veg, Caust, Coll, Graph, Ham, Kali ars, Kali carb, Kali Sulph, Lach, Puls, Merc-i-r, Mur-ac, Nit-ac, Nux v, Paeon, Phos, Puls, Sep, Sulph, Thuja

#Case of Piles:

রোগীনির বয়স ৪২। অবিবাহিতা। পেশায় বেসরকারি চাকুরে। রোগী তার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু বেদনাদায়ক ঘটনা এখনও ভুলে উঠতে পারেন নি। তিনি এখনও মারাত্মক রকমের বিষাদে ভোগেন। তবে দু:খবোধ কখনও প্রকাশ করেন না। শতকষ্টে থেকেও কখনও কাঁদতে পারেন না। বন্ধুবান্ধব যথাসম্ভব এড়িয়ে চলেন। একা থাকতেই অধিক পছন্দ করেন। তার যে কোন কষ্টে কেউ স্বান্ত্বনা দিক তা তিনি চাননা। বরং স্বাত্বনায় তার রোগ বৃদ্ধি পায়। রোগীর চর্বিজাতীয় খাদ্যে অনীহা। তবে লবন ছাড়া তিনি কোন খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন না। সূর্যালোক তার একদম অসহ্য। সূর্যের তাপে তার মাথাব্যথা শুরু হয়। মলদ্বারে জ্বালাসহ খোঁচামারা বা সূঁচ ফুটানো ব্যথা। মনে হয় মলদ্বার সংকুচিত হয়ে গেছে। বহুদিনের পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য। গত ২/৩ বছর ধরে ২/১ দিন পর পর মলত্যাগ হয়। মল শক্ত হলেই মলত্যাগের সময় রক্তপাত হয়। তার সার্বিক শারীরিক-মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে তাকে ”নেট্রাম মিউর” এর কয়েকটি ভিন্ন শক্তি প্রয়োগ করে সফলভাবে আরোগ্যদান করা হয়।

#DrBenojir, #Homeopath, For more info CLICK

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.