টনসিলাইটটিস এর উপর আগের লেখার ধারাবাহিকতা আজকের লেখা। অনেকে আগের লেখা পড়ে এমন মন্তব্য করেছেন যে ”তার লক্ষণ হুবহু লেখাতে উপস্থাপিত রোগীর কেসের সাথে মিলে যায়।” প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি রোগীর লক্ষণের মধ্যে স্বাতন্ত্র্য আছে। রোগের নাম একই হলেও প্রকৃতপক্ষে একজন রোগী কেবল অন্য রোগী হতে পৃথকই নন বরং অনন্য (unique)। রোগীর সার্বিক লক্ষণ বিশ্লেষণ করেই রোগীর এই অনন্য সত্ত্বার সন্ধান পাওয়া যায়। রোগীর স্বাতন্ত্রীকরণ (individualization) ই চিকিৎসায় সাফল্যলাভের মুল কথা। যে কোন রোগের ক্ষেত্রেই এটা প্রযোজ্য।

যে সকল লক্ষণ/অবস্থার ভিত্তিতে আমরা টনসিলাইটিসের চিকিৎসা দেই তা নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

#Medicines_of_Tonsillitis(টনসিলাইটিসের ওষুধ): টনসিলাইটিসের জন্য কেন্ট রেপার্টরীতে মোট ৩৮টি ওষুধের তালিকা আছে। এটা কেবল একিউট টনসিলাইটিসের জন্য। এদের মধ্যে Bar-c, Bell, Calc, Lach, Merc, Nit-ac, Phyt, Puls, Sil, Sulph উল্লেখযোগ্য বা সচরাচর ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। তবে রোগটি ক্রণিক আকার ধারণ করলে তাতে এই তালিকার বাইরে যে কোন ওষুধ নির্বাচিত হতে পারে যা রোগীর সার্বিক শারীরিক-মানসিক অবস্থার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়ে থাকে। যেমন – যদি দেখা যায় টনসিলটি পুঁজযুক্ত যার জন্য পৃথকভাবে ৩৭টি ওষুধের কথা বলা আছে। আবার টনসিলের বৃদ্ধির (enlargement) ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ৩৫টি ওষুধের কথা বলা হয়েছে। অথচ রোগীর জন্য আমরা একটিমাত্র ওষুধ ব্যবহার করি। ক্রণিক হলে পর্যায়ক্রমে একাধিক ওষুধের চিত্র আসতে পারে এবং রোগীকে সারাতে অধিক সময় লাগতে পারে।

#Aetiology_Manifestation_Type(কারণ, বিস্তার ও প্রকার): ঠান্ডা লেগে বা ঠান্ডার সংস্পর্শে এসে টনসিলের প্রদাহ হতে পারে। ঠান্ডা খাবার খেয়ে বা ঠান্ডা পানি পান করে অনেকের লক্ষণ দেখা দেয়া। কারো বা রোগের আক্রমণ বা সূত্রপাত হঠাৎ করে, কারো বা ধীরে ধীরে। পুঁজযুক্ত (suppurative) ও পুঁজহীন উভয় ধরণের টনসিল দেখা যায়। টসসিলাইটিসের সমস্যা একিউট ও ক্রণিক হতে পারে।

#Location(আক্রান্ত স্থান): বার বার আক্রমনের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রতিবারে এক পার্শ্ব করে আক্রান্ত হয় (alternating sides) অর্থাৎ কেবল বাম পার্শ্ব বা কেবল ডান পার্শ্ব। অনেক সময় রোগীর উভয় পার্শ্ব আক্রান্ত হয়। বহু ক্ষেত্রে প্রথম বামদিক আক্রান্ত হয়ে পরে ডানদিকে রোগের সৃষ্টি হয় বা ঠিক এর উল্টোটা দেখা যায় অর্থাৎ প্রথমে ডানদিক আক্রান্ত হয়ে পরে বাম দিকে যায়।

#Appearance(আকার): টনসিলাইটিসের রোগী পরীক্ষার সময় আশপাশের এলাকা যেমন আলজিহ্বা, গলা ও ঘাড়ের গ্রন্থি, মুখ ইত্যাদির কিছু লক্ষণও পাওয়া যায় যা নিম্নরূপ:

Tonsils(টনসিল): টনসিল দেখতে হালকা বা ঘন লাল, বেগুনি এবং কঠিন বা শক্ত (induration)। এতে ফোলা বা স্ফীত ভাব (swelling) থাকে। বৃদ্ধিটি বিশেষত: ডান বা বামদিকে যা পুঁজসহ বা পুঁজহীন ক্ষত (ulceration) রূপে প্রকাশিত হয়।

Uvula(আলজিহ্বা): লাল, ঘন লাল, বৃহদাকার (enlarged)।

Tongue(জিহ্বা): রোগীর জিহ্বা স্ফীত বা ফোলাভাব থাকতে পারে। জিহ্বা আকাঁবাঁকা রেখা (indented), জিহ্বাতে সাদা বা অন্য রংয়ের প্রলেপ থাকতে পারে।

Glands(গ্রন্থি): ডান বা বাম দিকের গলার বা ঘাড়ের গ্লান্ড ফোঁলা দেখতে পাওয়া যায় অনেক ক্ষেত্রে। সাবম্যাক্সিলারি গ্লান্ড ফোঁলা অথচ শক্ত। এ ফোঁলা ব্যথাযুক্ত বা ব্যথাহীন হতে পারে।

Face(মুখ): রোগীর মুখ গরম ও লালাভ অথচ তার পা ঠান্ডা থাকতে পারে।

#Modalities(হ্রাস-বৃদ্ধি): রোগীর লক্ষণ ও তার কষ্টের হ্রাস-বৃদ্ধি ওষুধ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কোন্ ধরণের খাবার ও পানীয়ে তার কষ্ট হ্রাস-বৃদ্ধি হয় তা জানা অত্যাবশ্যক। 

Drinking(পানীয়): কারো বা গরম পানি পানে বৃদ্ধি বা হ্রাস আবার অনেকের ঠান্ডা পানি পানে বৃদ্ধি বা হ্রাস দেখা যায়।

Swallowing(গলাধকরণ): কোন রোগীর তরল খাবার গলাধকরণে কষ্ট বৃদ্ধি কারো বা সলিড খাবার গ্রহণের সময় বৃদ্ধি। অনেক রোগী তরলের চেয়ে কঠিন খাবার সহজে বা কম কস্টে গ্রহণ করতে পারে। কিছু রোগীর যে কোন কিছু গলাধকরণে রোগের বৃদ্ধি বা উপশম হয়। কারো কোন কিছু ক্রমাগত গলাধকরণের ইচ্ছা অর্থাৎ টনসিল এলাকায় চাপ প্রয়োগে কষ্টের উপশম হয়। কারো বা কোন খাবার বা পানীয় নয়, বরং এমনি ঢোক গিলতে সমস্যা।

আরো যে সব কারণে লক্ষণ হ্রাস-বৃদ্ধি পায়: ঠান্ডা বাতাসে বৃদ্ধি। ঠান্ডা লেগে বৃদ্ধি, গলা আবৃত রাখলে উপশম, গলায় কোন কিছু দ্বারা আবৃত করলেই বৃদ্ধি। গলাস্পর্শেই বৃদ্ধি। মাথা একপার্শ্বে ঘুরালে বৃদ্ধি।

#Pain_Sensation(ব্যথার অনুভূতি): জ্বালাকর ব্যথা। ব্যথাটি এমন যেন গলার ভেতর একটা গরম মার্বেল রয়েছে। ব্যথাসহ গলায় সংকুচিত ভাব। খাবার বা পানি খেতে সমস্যা হয় এমনি সংকুচিত ভাব। গলায় সুঁচফোটানোর মত ব্যথা। মনে হয় গলায় কিছু ঝুঁলে বা আটকে আছে। জিহ্বার একদম গোড়ার দিকে ব্যথা। ব্যথা অনেক সময় ঘাড়ের গ্লান্ড (cervical gland) অথবা কান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সুঁচবিদ্ধবৎ ব্যথা যা কান পর্যন্ত প্রসারিত হয়। খাবার গ্রহণের সময় কান পর্যন্ত ব্যথা। তবে ব্যথাহীন টনসিলও দেখা যায়। #Accompanying_symptoms(আনুষংগিক লক্ষণ): টনসিলাইটিসের রোগীর মুখে দুর্গন্ধ বা নিশ্বাসে দুর্গন্ধ থাকতে পারে। অনেকের ঘাড় ঘামে বিশেষত: ঘুমের সময়ে। কারো বা মুখে প্রচুর লালা থাকে বিশেষত: ঘুমের মধ্যে লালা নির্গত হয়। অনেকের গলা চুলকায়।

Dr. Benojir, 01733797252, For more info Click

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.