আইবিএস রোগীর কেস!!

Patients Chief Complain

রোগী ৩৫ বছর বয়ষ্কা। চাকুরিজীবি। প্রধানত তার আইবিএস (Irritable Bowel Syndrome or IBS) এর চিকিৎসা নিতে আসেন। ১০ বছর ধরে রোগী এ রোগে ভুগছেন। তিনি তার পেটে মারাত্মক খিঁচুনি (cramps) অনুভব করতেন, পেট ফুলে থাকতো (bloating), পেটে ডাকাডাকি করতো (gurgling) এবং মল ত্যাগের (bowel movement) সময় ডায়রিয়া সহ তীব্র ব্যথা (sharp pain) অনুভব করতেন। এই লক্ষণগুলি লাল মাংস, রুটি, আপেল, পেঁয়াজ এবং ফাস্টফুড বা মসলাযুক্ত (rich & spicy food) খাদ্য খেলেই সৃষ্টি হতো বা এসব খাবারে রোগ বৃদ্ধি পেতো।

Mental & Emotional Symptoms

গভীরভাবে রোগীর লক্ষণাবলী সংগ্রহ করার সময় জানা যায় যে রোগী রোগের শুরুর আগে খুব কঠিন ও বেদনাদায়ক সময় পার করছিলেন। ঘটনা এরকম: রোগীর নিকটতম এক প্রতিবেশী তার উদারতার সুযোগ নিয়ে তার মাধ্যমে অনেক ফায়দা হাসিল করেন, তাকে অনেক কাজে লাগানোর মাধ্যমে। হঠাৎ একদিন সামান্য কারণে তার প্রতিবেশীর পরিবারে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার জন্য তাকে দোষারোপ করেন অথচ সে ঘটনায় তিনি আদৌ দায়ী ছিলেন না। এই বিষয়টি তিনি একদম প্রত্যাশা করেননি। প্রতিবেশীর এই আচরণের কারণে তখন থেকে তিনি ধীরে ধীরে অসুস্থতা বোধ করতে থাকেন। এর বেশ কিছুদিন পর তিনি একটি চাকুরিতে যোগ দেন। চাকুরির শুরুতেই তিনি এমন একজন বস পেলেন যিনি তাকে প্রায়শই ভৎর্সনা করতেন। বস তার আচরণে অনেক সময় সীমা লংঘন করতেন। রোগীর তার যাবতীয় আবেগ ও ক্ষোভ চেপে রাখা ছাড়া উপায় ছিলনা। সাহস করে প্রতিবাদ করতে পারেন নি আর না পেরেছেন চাকুরি ছেড়ে দিতে।  তাছাড়া রোগীর স্বামীর সাথে তার সম্পর্ক খুবই খারাপ যাচ্ছিল। ঠিক কবে থেকে রোগীর সাথে অন্য মানুষ তাদের আচরণে সীমালক্ষণ করছে জানতে তার ছোটবেলা সম্পর্কে অনুসন্ধান করে জানা যায় তার ছোটবেলা চমৎকার পারিবারিক পরিবেশে কেটেছে। যাহোক বৈবাহিক সম্পর্ক ও কর্মস্থলের অনৈতিক চাপ ও ব্যবহার রোগী যেন আর নিতে পারছিলেন না।  মুলত: এমন পরিস্থিতিতে তার আইবিএস এর লক্ষণাবলী দেখা দেয়।

Personality of the patient

তিনি স্বভাবতই একজন পরিপূর্ণতাবাদী (perfectionist) ছিলেন এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করতেন। তিনি নিজেকে “স্নায়ুর ব্যাগ” বলে স্বীকার করেছেন। তিনি সামান্যতেই আহত বোধ করতেন। তিনি খুব ভয় পেতে শুরু করেন বিশেষত অন্ধকার, ময়লা-আবর্জনা এবং নিজের বাড়িতে একাকি থাকতে ভয় পাচ্ছিলেন। তিনি প্রাশয়ই মৃত্যুর ভয় অনুভব করতেন।  তিনি ভাবতেন যে তিনি নিজে বা তার মা মারা যাবেন। এসব চিন্তায় তিনি  আতঙ্কিত (panicked) হয়ে পড়তেন। উল্ল্যেখ্য, রোগীর মা ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং তার বাবা ডায়বেটিসে ভুগে মারা গেছেন।

রোগী তার নিজের স্বীকারোক্তিতে জানান বহু দু:খবোধ থাকলেও তিনি বহু বছর ধরে কাঁদেননি, কাঁদতে পারেনি। এমনকি স্বামীর সাথে বিচ্ছেদ হওয়ার বেদনাও তিনি নিরবে সহ্য করেছেন । সর্বোপরি, তিনি বছরের পর বছর ধরে নিজেকে এবং তার চাহিদাগুলিকে দমন করে আসছিলেন (suppressing herself)। তিনি হতাশ (frustrated) এবং সবকিছু সম্পর্কে তিক্ত বোধ (bitter about everything) করছিলেন। 

Further investigation

আরো অনুসন্ধানে তিনি ১০/১২ বছর আগে তার একটি সড়ক দুর্ঘটনার কথা জানান যেখানে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন। তার নাকে ফ্রাকচার হয়ে যায়। রোগী কিছুদিন পর হতে মাথাব্যথা, মাথাঘোরা সহ কিছু স্মৃতি লোপের কথা বলেন।

Treatment

চিকিৎসাটি শুরু করা হয় নেট্রাম সালফ্ দিয়ে। কারণ, মাথায় আঘাত এবং তার পরবর্তী লক্ষণগুলি নেট্রাম সালফ্ দিয়ে সহজেই আরোগ্যযোগ্য। আইবিএসের ইমোশনাল রুট, তার নিজ প্রয়োজন দমন, উৎসর্গের মানসিকতায় কারো পাশে দাড়ানো তথা বিনা বিচারে অন্যকে সাহায্য করা এবং দোষারোপের দায় নিয়ে দু:খবোধ এবং তার উপর অন্যের আধিপত্য হতে রোগ (ailments from domination), ক্রোধ দমন (suppressed anger) এবং পারিবারিকভাবে ক্যান্সার ও ডায়বেটিসের কথা মাথায় রেখে তাকে Carcinosin প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার যকৃতের লক্ষণ মোতাবেক তাকে China প্রয়োগ করা হয়। বদহজমের মেডিসিনের মধ্যে অনেক ওষুধ থাকলেও রোগীর লক্ষণের সাথে China-র সর্বাধিক সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একটি  ফলোআপে রোগীকে তার লক্ষণানুযায়ী Phosphorus প্রয়োগ করা হয়।

রোগীকে সর্বমোট ৫/৬ টি ফলোআপ দেয়া হয়। রোগীর মেন্টাল ও ইমোশনাল প্যাথলজির (mental & emotional pathology) পর্যালোচনা করে তাকে ধাপে ধাপে এককভাবে বেশ কিছু ওষুধের প্রয়োগ অনিবার্য হয়ে পড়ে।

Overall Comments

রোগী দ্বিতীয় সাক্ষাতেই আঘাতজনিত মস্তিষ্কের গোলযোগের উন্নতির কথা জানান। ধীরে ধীরে অন্যান্য বিষয়েও তার উৎন্নতি পরিলক্ষিত হয়। তার আইবিএস এর লক্ষণের প্রবণতা ও তীব্রতা হ্রাস পেতে থাকে। তিনি এখন আর একা থাকতে ভয় পাননা। সবকিছুই ইতিবাচক ভাবেই দেখেন। তিনি মন্তব্য করেন, ”আমি এখন নিজেই আমার যত্ন নিতে শিখেছি”, ”আমি এখন আর সবাইকে খুশী রাখতে হবে”- এই ধারণা পোষণ করিনা। কারণ, ”আমি বুঝে গেছি সবাইকে খুশী রাখা আমার কাজ নয় বা সেটা সম্ভবও নয়”। রোগীর এসব উক্তি প্রমাণ করে তিনি মানসিকভাবে একটি বাস্তব ও শক্ত অবস্থানে এসেছেন। রোগীকে সর্বশেষ সাক্ষাতে আইবিএস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, ”আমার এখন আর আইবিএস নাই”। রোগীর আইবিএস বা অন্য কোন লক্ষণাবলী পুন:প্রকাশিত হয় কিনা তা জানাতে তাকে আরও কয়েকমাস ফলোআপ করা হয়। কিন্তু লক্ষণ আর প্রকাশিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.