কোভিড -১৯ রোগীর চিকিৎসা:

করোনা নিয়ে সবাই আতঙ্কগ্রস্থ বিশেষত: যেখানে অক্সিজেন, হাসপাতাল বেডসহ ভেন্টিলেটরের অপ্রতুল্যতা রয়েছে। রোগীর আত্মীয়-পরিজন যেখানে Remedisivir আর Tocilizumab injection – এর পিছনে দৌড়াচ্ছেন সেখানে বিশ্বব্যাপী বহু রোগী অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হচ্ছেন। আজ কোভিড-১৯ এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উপর আলোকপাত করতে চাই।

প্রথমেই বলা প্রয়োজন যে influenza সদৃশ রোগে হোমিওপ্যাথিক নিরাময়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বর্তমানেও কনভেনশনাল মেডিসিনের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বহু হোমিওপ্যাথ সফলভাবে এর রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে নি:সন্দেহে সে সকল হোমিওপ্যাথ সুপ্রশিক্ষিত।

রোগীর কেসঃ রোগীর বয়স ২৫ বছর। RT-PCR করে জানা যায় তার করোনা পজিটিভ। এছাড়া রোগীর অক্সিজেন লেভেল ছিল ৯৫%।

রোগীর লক্ষণাবলী (Patient’s symptoms):

১০১.৬ ডিগ্রী জ্বরই ছিল প্রথম ২/১ দিনের লক্ষণ। সাথে তার সর্দি ও শরীর ব্যথা ছিল। ২য় দিন হতে রোগীর ডায়রিয়া দেখা দেয় এবং ৫/৬ বার পাতলা মলত্যাগ হয়। মলত্যাগের পর রোগী দুর্বলতা অনুভব করতে থাকেন।

রোগীকে তার সার্বিক লক্ষণ অনুযায়ী প্রথম দিনেই ৪ বার Gelsemium ২০০ প্রয়োগ করা হয়। লক্ষণের তীব্রতা হ্রাস পাওয়ায় পরের দিনে মাত্র ২ বার ওষুধ প্রয়োগ করে তা বন্ধ করে দেয়া হয়।  যে কারণে Gelsemium প্রয়োগ করা হয় তা হলো: রোগীর পেশীর দুর্বলতা (muscular weakness), ইনফ্লুয়েঞ্জা (influenza), মাথাব্যথা সহ ঘাড় ও বাহুর পেশীতে ব্যথা (pain in different parts of body), সর্দি (coryza), টনসিল ফুলে যাওয়া  (swelling of tonsil), গলায় যন্ত্রণা (burning throat), মাথাঘোরা (dizziness) সহ মাঝে মধ্যে শরীর কেপে উঠা (trembling)। এছাড়া রোগীর চোখের পাতা ভারিবোধসহ ব্যথা (pain with heaviness in eyelids) ছিল। রোগীর নার্ভাস ডায়রিয়াও (nervous diarrhoea) একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

চতুর্থ দিনের মধ্যেই রোগীর তাপমাত্রা স্বাভাবিকে নেমে আসে। অক্সিজেন লেভেল বৃদ্ধি পেয়ে ৯৮% হয়।

পঞ্চম দিনে রোগীর শারীরিক দুর্বলতা, কাশির কথা জানান। কিছুক্ষণ পর পর শুষ্ক কাশি (intermittent dry cough), গলায় একটানা  খুশ খুশ করে (constant tickling in throat), কথা বলার সময় বা বলতে চেষ্টা করামাত্রই কাশি (cough during talking), কাশি গরমে বৃদ্ধি (cough aggravated in warmth)। তিনি জানান কাশির সময় বুকে হাত দিতে হয় (hold chest while coughing)। এসব লক্ষণে তাকে Drosera 200 প্রয়োগ করা হয়। Drosera প্রয়োগের ২ দিনের মধ্যে রোগীর কাশি সম্পূর্ণ নিরাময় হয়। রোগী এর পর আবার টেস্ট করেন এবং তার টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ দেখায়।

সর্বশেষ সাক্ষাতে রোগীর কিছুটা খাদ্যে অনীহা ও দুর্বলাতার জন্য তাকে Avena Sativa ৩০ প্রয়োগ করা হয়। 

Learning Points (শিক্ষণীয়)

এই কেসটি হতে আমরা যেসব বিষয় লক্ষ্য করি তার অন্যতম হলো করোনার মত একিউট একটি রোগেও আমরা ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অর্থাৎ এক সময়ে একটি মাত্র ওষুধ প্রয়োগ করেছি যার ফল অত্যন্ত দ্রুত ও চমৎকার। রোগীর প্যাথলজির বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ঘন ঘন ওষুধ পুন: প্রয়োগ করেছি। একিউট লক্ষণ ও তার পরিবর্তনশীলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ৩/৪ টি ভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়েছে। একিউট রোগীর ক্ষেত্রেও রোগীর সার্বিক লক্ষণ সংগ্রহ করেই চিকিৎসা দিয়েছি।  ক্রণিক রোগীর ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই কেস ম্যানেজমেন্ট ভিন্ন উপায়ে করা হয়। আমরা ক্রণিক রোগীর ফলোআপ ৪-৬ সপ্তাহ অন্তর করে থাকি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.