Treatment of Migraine in Homeopathy

মাইগ্রেন (migraine) এক ধরণের মাথাব্যথা (headache)। এর ব্যথা নানান রকমের হত পারে যেমন- স্পন্দিত (pulsting), ফেঁটে যাওয়া মত (bursting), কম্পিত (throbbing) ইত্যাদি। মাইগ্রেনের ব্যথা মাথার একপাশে, উভয়পাশে বা পুরো মাথায় হতে পারে। এটিতে সাধারণত: বমি বমি ভাব (nausea), বমি (vomiting), আলো ও শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা (sensitive to light & noise) থাকে। ব্যথা কয়েক ঘন্টা হতে কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। তীব্র ব্যথার কারণে রোগীর দৈনন্দিন কাজ-কর্ম বিঘ্নিত হতে পারে। কারো কয়েক দিন, সপ্তাহ বা মাস অন্তর আবার কারো বা বছরে ২/১ বার ব্যথা দেখা দিতে পারে। মাইগ্রেন পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ২-৩ গুণ অধিকহারে দেখা যায়।

মাইগ্রেনের লক্ষণ নিস্তেজ ব্যথা (dull pain) দিয়ে শুরু হয় এবং এরপর কম্পন হয় (throbbing) মাথার ভেতরে। শারীরিক পরিশ্রমের (physical activity) সময় ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে। মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণত পর্যায়ক্রমিক হতে পারে (periodical)। মাথাব্যথা শুরুর পূর্বে অনেক সময় খিটখিটে মেজাজ, হাই তোলা, মনোযোগের ঘাটতি ও কিছু খাবারের প্রতি আকাঙ্খা পরিলক্ষিত হয়। এগুলি সতর্কীকরণ লক্ষণ। রোগী এ অবস্থায় বুঝতে পারে মাথাব্যথা শুরু হতে যাচ্ছে তখন কষ্ট কমাতে ব্যথা নাশক ওষুধ খেয়ে থাকে। এ পর্যায়ে ওষুধ সেবন করলে রোগীর মাথাব্যথা ততোটা তীব্র হয়না তবে ব্যথানাশক সাময়িক উপশম দেয় মাত্র। তারপরে আসে মাথাব্যথার তীব্রতার পর্যায়। এ মাথাব্যথা মাথার এক বা উভয়পাশে দেখা যায়। ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব, বমি এবং আলো ও শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যায় আসে চরম ক্লান্তি (fatigue)।

মাথাব্যথা ও তা বৃদ্ধির কারণ (causes & triggers): মাইগ্রেনের সঠিক কারণ এখনও অজ্ঞাত। তবে বংশগত রোগপ্রবণতা (genetic predisposition) ও পারিপার্শ্বিকতা প্রধান ভূমিকা পালন করে। বংশানুক্রমে অনেকের মধ্যে এ রোগ দেখা যায়। এছাড়া সম্ভাব্য কারণ হতে পারে হরমোনজনিত বিশৃংখলা, মানসিক-আবেগিক লক্ষণ, সুনির্দিষ্ট খাবার-পানীয় গ্রহণ বা অন্য কোন প্রকার শারীরিক কারণ। সম্ভাব্য পরিবেশগত কারণগুলি হল – চকচকে বস্তুর উজ্জ্বল আলো (bright light of glittering objects) যেমন- টেলিভিশন, কম্পিউটার বা মোবাইল স্ত্রীন, উচ্চ শব্দ (loud noises) বা তীব্র গন্ধ (strong smells)। হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তনের কারণে (due to hormonal changes) কিছু মহিলার মাসিক শুরুর ২-৩ দিন পূর্বেও মাইগ্রেনে আক্রান্ত হন। আবার কিছু মহিলার রজ:নিবৃত্তি কালীন (menopausal period) মাইগ্রেন দেখা দেয়।

মানসিক ভাবে সে সকল বিষয় মাইগ্রেনের কারণ হতে পারে বা  লক্ষণ বৃদ্ধি করতে পারে তা হল- চাপ (stress), উদ্বেগ (anxiety), অবসাদ (depression) ও অন্যান্য মানসিক-আবেগিক অবস্থা বা তার জটিলতা।

শারীরিক কারণগুলির মধ্যে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, খুব ভারি ব্যায়াম, ঘাড়ে ব্যথা, ক্লান্তি, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। সময়মত না খেলেও মাইগ্রেন হতে পারে। আবার কিছু খাবার যেমন- পনির, পেয়াজ, বাদামজাতীয় খাবার না খেলেও মাইগ্রেন হতে পারে।

মাইগ্রেনের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ (Homeo medicine for migraine): হোমিওপ্যাথিতে মাথা ব্যথার ৫০০ এর উপর ওষুধ রয়েছে। রোগীর সার্বিক লক্ষণাবলী বিশ্লেষণ করেই চিকিৎসা দিলে দ্রুত সুফল পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য কিছু ওষুধের সংক্ষিপ্ত লক্ষণ উল্লেখ করা হল:

বেলেডোনা (Belladonna): কম্পিত ধরণের মাথাব্যথা। ব্যথা ডানদিকে হয়, স্পর্শ, আলো, শব্দ, ঝাঁকুনি ও বিকেলে ব্যথা বৃদ্ধি পায়। আনুষংগিক লক্ষণ হিসেবে মুখের ত্বক গরম ও লালাভ অনুভুত হয়। অস্থির নিদ্রা, মুখ ও গলার শুষ্কতাও উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। রোগী শুয়ে থাকতে বাধ্য হয়।

ব্রায়োনিয়া (Bryonia): বাম পাশের মাথা ব্যথা। বাম চোখের উপরের পার্শ্ব হত মাথার পিছনের দিকে ব্যথা প্রসারিত হয়। ফেঁটে যাওয়া মত ব্যথা (bursting), ব্যথা মাথার বিভিন্ন অংশে হতে পারে। রোগী মনে করে মাথার ভেতর হাতুড়ির আঘাত (hammering)। মাথাব্যথা নড়াচড়ায় (motion) এমনকি চোখ ঘুরালে বৃদ্ধি হয়। সামনের দিকে ঝুঁকলেও (stopping) ব্যথা বাড়ে।

গ্লনয়িনাম (Glonoinum): ঋতুস্রাব বন্ধের পরবর্তী সময়ে (climacteric period) বা কোন কারণে ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে (menstrual suppression) মাথা ব্যথা। কারোবা মাসিক ঋতুস্রাবের পরিবর্তে মাথাব্যথা দেখা দেয়। রোদলাগার কারণে মাথাব্যথা। রোদ বাড়া-কমার সাথে মাথাব্যথাও বাড়ে-কমে। কৃত্রিম আলোও অসহ্য। মাথা ভারিভাব, মনে হয় মাথা ফেঁটে যাবে।

লাইকোপডিয়াম (Lycopodium): সময়মত না খেয়ে মাথাব্যথা। ব্যথা বৃদ্ধির সময় বিকেল ৪টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত। এর সাথে রোগীর গ্যাস্ট্রিক লক্ষণাবলী থাকে। মিষ্টিজাতীয় খাবারে তীব্র আকাংখা (craving) থাকে। গরম পানীয় পছন্দ করে।

নেট্রাম মিউর (Natrum muriaticum): কম্পিত মাথাব্যথা (throbbing headache)। মনে হয় হাজারো ছোট হাতুড়ির আঘাত চলছে মস্তিষ্কের ভেতর, বিশেষত: সকালে ঘুম হতে উঠলেই, ঋতুস্রাবের পর পরই এবং সুর্যোদয় হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত ব্যথা থাকে। ব্যথার সাথে বিবমিষা ও বমি থাকে। চোখের সুক্ষ কাজ করলে বা লেখাপড়া করলে বা চোখের অধিক ব্যবহারে ব্যথা বাড়ে। সকাল ১০টা হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ব্যথার বৃদ্ধিকাল।

নাক্স ভমিকা (Nux Vomica): রাত জেগে কাজ করার জন্য বা বিলম্বে ঘুমাতে যাবার জন্য সৃষ্ট নিদ্রাহীনতাজনিত মাথাব্যথা। রোগী অত্যন্ত খিটখিটে মেজাজের (irritable)। অল্পে রেগে যায়, অধৈর্য, সামান্য কারণে মনে কষ্ট পায়। রোগী বসে বসে জীবনযাপন করে (sedentary life)। রোগী প্রচুর মানসিক পরিশ্রমের কাজ করে। শব্দ, সংগীত, গন্ধ, আলোতে রোগী অতি সংবেদনশীল।

স্যাংগুনেরিয়া (Sanguinaria): মেনোপজের শেষ দিকে (climacteric period) মাথাব্যথা, বিশেষত: ৭ দিন অন্তর মাথাব্যথা। ডান দিকের মাথাব্যথা। মাথার পিছনের দিকে ব্যথা শুরু হয়ে ব্যথা ডান চোখের উপরের দিকে স্থায়ী হয়। বমি করলে, বায়ু নি:সরণ বা ঢেকুর তুললে মাথাব্যথার উপশম। মাথাব্যথার সময় যে কোন প্রকার আলোকভীতি (photophobia)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.