Migraine

Migraine (মাইগ্রেণ) এর চিকিৎসা!!

মাইগ্রেন এমন একটি মাথাব্যথা যা সাধারণত মাথার একপাশে প্রচন্ড কম্পন (throbbing pain) বা স্পন্দিত অনুভূতি (pulsing sensation) সহ আক্রমণ করে। এটি প্রায়শ:ই বমি বমি ভাব (nausea), বমি (vomiting) এবং আলো এবং শব্দের প্রতি চরম সংবেদনশীলতার (sensitivity to light and sound) সাথে দেখা যায়।

The cause of Migraines: এ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারদের মতে মাইগ্রেনের সঠিক কারণ অজনা। তবে সেগুলি মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যকলাপের ফলে অস্থায়ীভাবে স্নায়ু সংকেত, রাসায়নিক এবং মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলিকে প্রভাবিত করে বলে মনে করা হয়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিতে রোগীর প্রধান রোগলক্ষণ, আনুষংগিক শারীরিক-মানসিক অবস্থা বুঝে চিকিৎসা দেয়া হয়। ল্যাব টেস্টে রোগের নাম কি তা এখানে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, হোমিওপ্যাথি রোগ নয়; রোগীর চিকিৎসা করে।

মাইগ্রেন কতক্ষণ স্থায়ী হতে পারে?

মাথার যে অংশটি আক্রমনের শিকার হয় তা ৪ ঘন্টা হতে ৩ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। একটি সম্পূর্ণ মাইগ্রেনের আক্রমণ- প্রোড্রোম, আউরা, মাথাব্যথা এবঙ পোস্টড্রোম সহ – একদিনের ও বেশী সময় থেকে এক সপ্তাহের কিছু বেশী সময় পর্যন্ত দীর্ঘতম সময়ে স্থায়ী হতে পারে, যদিও তা সাধারণ নয়।

মাইগ্রেণ কি নিরাময়যোগ্য?

এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসামতে মাইগ্রেণের কোন নিরাময় নেই যদি ও তারা দাবী করেন উপসর্গগুলি কমাতে সাহায্য করার মত ওষুধ তাদের কাছে আছে। মাইগ্রেণে আক্রান্ত মানুষেরা ব্যথানাশক যেমন- প্যারাসিটামল, এ্যাসপিরিন (aspirin) ও ইবুপ্রোফেন (ibuprofen), naproxen ইত্যাদি সেবন করে তাদের উপসর্গ হ্রাস করতে চেষ্টা করেন।

মাইগ্রেণের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা:

মাইগ্রেণে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক বিধায় আক্রমণের তীব্রতা, ফ্রিকায়েন্সি, আনুষংগিক শারীরিক-মানসিক-আবেগিক লক্ষণ, রোগীর জীবনযাত্রার ধরণ ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে সদৃশতম ওষুধ প্রয়োগ করে মাইগ্রেণ দ্রুত নিরাময় সম্ভব।

হোমিওপ্যাথিতে মাথাব্যথার ৫০০ টির অধিক ওষুধ রয়েছে। রোগীর লক্ষণ, সেটা মাইগ্রেণ বা যে কোন ধরণের মাথাব্যথা হোকনা কেন সার্বিক লক্ষণ সাদৃশ্যে প্রতিটি রোগীকে সুনির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেয়া হয়।

এখানে একটি মাইগ্রণ কেস শেয়ার করা হলো:

২৬ বছর বয়সের একজন রোগীনি যিনি ১২ বছর বয়স হতে তীব্র মাইগ্রেণের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। তীব্র ব্যথার কারণে তিনি ক্রন্দন করতেন এবং অনবরত বমি করতেন। ব্যথানাশক সাময়িকভাবে ব্যথা হ্রাস করতো। অন্ধকার কক্ষে থাকলে, ঘুমালে, চোখ বন্ধ রাখলে তিনি কিছুটা উপশম পেতেন। মানসিক চাপ, রোদে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান, আলো, শব্দ এবং ল্যাপটপে দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে তার মাথাব্যথা বৃদ্ধি পেত।

প্রথম সাক্ষাতে তাকে খুব সংবেদনশীল মনে হয়। নিজের প্রতি তিনি খুব যত্নশীল। তিনি প্রশংসা পেতে পছন্দ করেন।

মাইগ্রেণ ব্যতীত তার মুখ ও শরীরের নানা অংশে ব্রণ ফুটেছিল। ২৪ বছর বয়স হতে তার পায়ে ব্রণ ও একটি অদ্ভুত ফুসকুড়ি হতো আবার চলে যেতো। এ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে এগুলোর চিকিৎসা করা হয়। কিন্তু সেগুলি সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যায়নি। যা তাকে বিরক্ত করছিল কারণ তিনি তার চেহারা সম্পর্কে খুব যত্নশীল। তিনি সর্বদা ব্যাগে ক্রিম রাখতেন এবং কোন চর্ম উদ্ভেদ দেখা মাত্র ক্রিম দিয়ে তা দমন করতেন।

রোগীর মাসিক ঋতুচক্র ৩৫-৪০ দিন পর পর আসতো, মাসিক খুব হালকা ছিল। রোগী যখন কিশোরী তখন তার খাওয়া-দাওয়ার বিশৃংখলা ছিল। এখন খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে যত্নশীল; কখন, কি, কতটুকু খাচ্ছেন খেয়াল রাখেন। তিনি ঠান্ডা খাবার পছন্দ করেন, দুধ পছন্দ করেন কিন্তু এতে তার গ্যাস জমে পেটে। রোগীনি পিপাপাহীন। কেবল খাদ্য গ্রহণের সময় পান করতেন। সান্ত্বনায় ভাল বোধ করতেন।

রেপার্টরি করে নিম্নোক্ত লক্ষণগুলি বিশ্লেষণ করা হয়।

  1. Mind – consolation – amel
  2. Mind – pleasing – desire to please others
  3. Mind – weeping, tearful mood, etc. – answering a question at
  4. Mind – weeping, tearful mood, etc. – headache with
  5. Mind – weeping, tearful mood, etc. – pain with
  6. Head – headache – maddening pains
  7. Head – headache – vomiting with
  8. Head – headache – pressing – band as if by
  9. Face – eruption – acne
  10. Stomach – thirstless
  11. Genitalia – female – menses – late
  12. Genitalia – female – scanty
  13. Extremities – eruption – blotches
  14. Skin – eruption – pimples
  15. Generalities – Food and Drinks – cold – food – desire

কেসটি বিশ্লেষণে দেখা যায় ওষুধসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ র‍্যাংক হলো – পালসেটিলার। যদি ও ফসফরাস, সালফার, ন্যাট্রাম মিউর, সিপিয়া ইত্যাদি নিকট সাদৃশ্যযুক্ত। এই রোগীর ক্ষেত্রে পালসেটিলা বেছে নেয়ার অন্যতম কারণ এটি রোগীর ব্যক্তিত্বের সাথে সবচেয়ে অধিক মানানসই ও সাদৃশ্যযুক্ত। রোগী কোমল স্বভাবের, অল্পতেই ক্রন্দন করেন, সাত্বনায় উপশম, পিপাসাহীনাতা, ঠান্ডা খাবার খেলে উপশম পান। পালসেটিলা সব ধরণের মাসিকের বিশৃংখলা নিরাময়ে ও অন্যতম প্রতিকার।

পালসেটিলা প্রয়োগে রোগীর মাথাব্যথা দ্রুত উপশম হয়। পরবর্বতী বেশ কয়েকটি ফলোআপের পর তার পরিবর্তিত লক্ষণসমষ্টি অনুযায়ী নেট্রাম মিউর প্রয়োগে তাকে সম্পূর্ণ নিরাময় করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Need Help?