Male Infertility: Symptoms, Causes & Treatment!!

বিশ্বব্যাপী সন্তান জন্মদানে অক্ষম বা বন্ধ্যা দম্পতির সংখ্যা ১৫% এর অধিক। এক বৎসর বা তার অধিককাল নিয়মিত অরক্ষিত সহবাসের পরও সন্তানদি না হলে সে দম্পতির কোন একজন বন্ধ্যা। পুরুষের বন্ধ্যাত্ব নারীর প্রায় অর্ধেক অথচ বন্ধ্যাত্বের দায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নারীর উপরই বর্তায় যা নারীর জন্য বেদনাদায়ক। পুরুষের বন্ধাত্বের প্রধান কারণ – কম শুক্রাণু উৎপাদন, অস্বাভাবিক শুক্রাণু, শুক্রণালীর কোথাও ব্লকেজ থাকায় শুক্রাণুর বেরিয়ে আসতে বাঁধাগ্রস্থ হওয়া ইত্যাদি। ক্রণিক স্বাস্থ্য সমস্যা, আঘাত-দুর্ঘটনা, বিশৃংখল জীবনযাপন, বংশগত রোগপ্রবণতা ইত্যাদিও পুরুষ বন্ধাত্বর ক্ষেত্রে দায়ী। বন্ধ্যাত্ব মানসিকভাবে খুবই পীড়াদায়ক। ফলপ্রসু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পুরুষ বন্ধ্যাত্বের নিরাময়ে যথেষ্ট কার্যকর।

পুরুষ বন্ধ্যাত্বের লক্ষণাবলী (symptoms of male infertility): অধিকাংশ পুরুষের তেমন কোন শারীরিক লক্ষণ থাকেনা যার জন্য তারা কোন চিকিৎসা নেন। তবুও কিছু লক্ষণ আছে যা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-

১. সহবাসের সমস্যা বিশেষত: সহবাসের ইচ্ছা হ্রাস পাওয়া, সহবাসের সময় যৌনাংগ যথেষ্ট উত্থিত না হওয়া বা কিছু সময়ের জন্য উত্থিত হলেও তা স্থায়ী না হওয়া (erectile dysfunction),

২. অন্ডকোষ বা আশপাশের এলাকায় ব্যথা, ফোলা বা পিন্ডাকার কিছুর অবস্থান,

৩. পুন:পুন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ,

৩. দাড়ি-গোঁপ কমে যাওয়া যা হরমোনাল অস্বাভাবিকতার লক্ষণ,

৪. স্বাভাবিকের তুলনায় কম শুক্রাণু থাকা (বীর্যে প্রতি মি.লি-তে ১৫ মিলিয়নের কম শুক্রাণু বা একবারের বীর্যপাতে মোট শুক্রাণুর সংখা ৩৯ মিলিয়নের কম থাকা)।

পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কারণ (causes of male infertility): পুরুষের বন্ধ্যাত্ব একটি জটিল প্রক্রিয়া। স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ হলেও তার গর্ভধারণের জন্য পুরুষের নিচের বিষয়গুলি থাকা আবশ্যক:

১. স্বাস্থ্যকর শুক্রাণু উৎপাদন যা প্রাথমিকভাবে বয়:সন্ধির সময় পুরুষ প্রজনন অংগগুলির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠনের সাথে সম্পুক্ত। অন্ডকোষ অবশ্যই সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, শরীরে সঠিক টেসটোসটেরন ও অন্যান্য হরমোন তৈরি করতে পারছে কিনা যা শুক্রাণুর উৎপাদন ও কার্যকারিতা সঠিক রাখে, তা নিশ্চিত করতে হবে,

২. শুক্রাণু কেবল সঠিকমাত্রায় থাকলেই হবেনা। বীর্যে শুক্রাণুর অবস্থান আছে না কোথাও বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে তা দেখতে হবে,

৩. বীর্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুক্রাণু থাকা,

৪. শুক্রাণু অবশ্যই কার্যকরী ও নড়াচড়া করতে সক্ষম হতে হবে।

পুরুষের বন্ধ্যাত্বের স্বাস্থ্যগত কারণ (medical causes male infertility): বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হতে পারে। যেমন:

১. ভেরিকোসিল (varicocele): এটা অন্ডকোষের স্বাভাবিক ঠান্ডা রোধ করতে পারে যার ফলে শ্রক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমে যায়,

২. সংক্রমণ (infection): ক্লামাইডিয়া (chlamydia), গণোরিয়া (gonorrhea), প্রষ্টেটের প্রদাহ (prostatitis), মাম্পস (mumps) ইত্যাদির কারণে শুক্রাণুর উৎপাদন ও কার্যকারিতা হ্রাস পায় বা শুক্রাণূকে ব্লক করে থাকে,

৩. বীর্যপাতের সমস্যা (ejaculation issue): ডায়বেটিস, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, মূত্রাশয়, প্রেষ্টেট বা মূত্রনালীর অস্ত্রোপচার ইত্যাদির কারণে বীর্যপাত বিপরীতমুখী (retrograde ejaculation) হয়ে থাকে। মেরুদন্ডের আঘাত বা নির্দিষ্ট রোগের কারণে শুক্রাণু তৈরী হলেও স্বাভাবিকভাবে পুরুষ বীর্যপাত করতে পারেনা,

৪. এন্টিবডি যা শুক্রাণুকে আক্রমণ করে (antibodies that attack sperm): এন্টি স্পার্ম এন্টিবডি হলো ইমিউন সিস্টেমের কোষ যা ভুলবশত শুক্রাণুকে ক্ষতিকারক আক্রমণকারী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তাদের নির্মূল করার চেষ্টা করে,

৫. টিউমার (tumor): ম্যালিগ্নান্ট টিউমার সরাসরি পুরুষ প্রজনন অংগকে প্রভাবিত করতে পারে বা পিটুইটারি গ্রন্থির মত প্রজনন সম্পর্কিত হরমোন নি:সরণকারী গ্রন্থিগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে,

৬. অন্ডকোষহীন অন্ডকোষ (undescended testicles): কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে তাদের ভ্রুণের বিকাশের সময় এক বা উভয় অন্ডকোষ (testicles) পেট থেকে থলিতে (scrotum) নামতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে অন্ডকোষে অন্ড থাকেনা,

৭. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (hormone imbalances): অন্ডকোষের ব্যাধি বা হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি, থাইরয়েড ও এ্যাড্রিনাল গ্রন্থি সহ অন্যান্য হরমোন সিস্টেমগুলিকে প্রভাবিত করে – এমন অস্বাভাবিকতার কারণে বন্ধ্যাত্ব হয়ে থাকে,

৮. শুক্রাণু নালীর ক্রটি (sperm duct defects): শুক্রাণু বহনকারী টিউব (sperm duct) কোন রোগ বা আঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। কিছু পুরুষ অন্ডকোষের যে অংশে শুক্রাণু সঞ্চয় করে (epididymis) বা অন্ডকোষ থেকে শুক্রাণু বের করে এমন এক বা উভয় টিউবের ব্লকেজ অনুভব করে। সিস্টিক ফাইব্রোসিস ও অন্যান্য উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত রোগে পুরুষেরা সম্পূর্ণরূপে শুক্রাণু নালী ছাড়াই জন্মগ্রহণ করতে পারে,

৯. ক্রোমোজোমের ক্রটি (chromosome defects): উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ব্যাধি যেমন- ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম (Klinefelter’s syndrome) – এ একজন পুরুষ ২টি X ক্রোমোজোম এবং ১টি Y ক্রোমোজোম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ অবস্থা পুরুষ প্রজনন অংগগুলির অস্বাভাবিক বিকাশ ঘটায়। স্বাভাবিকভাবে পুরুষের ১টি X ও ১টি Y ক্রোমোজোম থাকার কথা, 

১০. যৌনমিলনের সমস্যা (problems with intercourse): এর মধ্যে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (erectile dysfunction), অকাল বীর্যপাত (premature ejaculation), বেদনাদায়ক সহবাস (painful intercourse), শারীরবৃত্তীয় অস্বাভাবিকতা যেমন – লিংগের নিচে মূত্রথলি খোলা থাকা (hypospadias), মানসিক চাপ ও স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক সংক্রান্ত সমস্যা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে,

১১. সিলিয়াক রোগ (celiac diseases): গ্লুটেনের (gluten) প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে হজমে গন্ডগোল পুরুষ বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ,

১২. নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (side effects of certain medicine): টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি, দীর্ঘমেয়াদী এ্যানাবলীক স্টেরয়েড ব্যবহার, কেমোথেরাপি, এন্টিফাংগাল ওষুধ, আলাসারের ওষুধ ইত্যাদি শুক্রাণু উৎপাদন (sperm production) ও পুরুষের উর্বরতা (fertility) হ্রাস করে থাকে,

১৩. সার্জারি (surgery): কিছু অপারেশন যেমন – ভ্যাসেকটমি, ইংগুইনাল হার্ণিয়া, স্ক্রোটাল বা টেস্টিকুলার সার্জারি, প্রোষ্টেট সার্জারি এবং টেস্টিকুলার ও রেক্টাল ক্যান্সারের জন্য অপারেশন বীর্যপাতে বাঁধা সৃষ্টি করে।

পরিবেশগত কারণ (environmental causes of male infertility): কিছু পরিবেশগত উপাদান যেমন- তাপ, বিষাক্ত পদার্থ এবং রাসায়নিকের অতিরিক্ত এক্সপোজার শুক্রাণু উৎপাদন বা শুক্রাণুর কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ:

১. শিল্প রাসায়নিক (industrial chemicals): যেমন- বেনজিন, টলুইন, জাইলিন, কীটনাশক, ভেষজনাশক, জৈব দ্রাবক, পেইন্টিং উপকরণ এবং সীসার এক্সপোজারের ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা কম হতে পারে,

২ বিকিরণ বা এক্স-রে (radiation or X-rays): বিকিরণের সংস্পর্শে শুক্রাণু উৎপাদন হ্রাস করতে পারে। বিকিরণের উচ্চ মাত্রার সাথে, শুক্রাণু উৎপাদন স্থায়ীভাবে হ্রাস পেতে পারে,

৩. অণ্ডকোষের অতিরিক্ত গরম হওয়া (overheating of testicles): ঘন ঘন সনা বা গরম পানিযুক্ত বাথ টব ব্যবহারে শুক্রাণুর সংখ্যা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা, আঁটসাঁট পোশাক পরা বা ল্যাপটপ-ট্যাব-সেলফোনে-কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করাও অন্ডকোষের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং শুক্রাণু উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

সুস্থ জীবনধারা এবং অন্যান্য কারণ (healthy lifestyle & other causes): পুরুষ বন্ধ্যাত্বের অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:
১. অবৈধ ড্রাগ ব্যবহার (illegal drug use): পেশী শক্তি বৃদ্ধি ও উদ্দীপিত করার জন্য নেয়া এনাবলিক স্টেরয়েডের ব্যবহারে অণ্ডকোষ সঙ্কুচিত হতে পারে যা শুক্রাণু উৎপাদন হ্রাস করে। কোকেন বা মারিজুয়ানার ব্যবহার সাময়িকভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা এবং গুণমানও হ্রাস করে,
২. মদ্যপান (alcohole drinking): মদ্যপান করলে টেসটোসটেরনের মাত্রা কমতে পারে, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হতে পারে এবং শুক্রাণু উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে সৃষ্ট লিভারের রোগও প্রজনন সমস্যার কারণ হয়,
৩. পেশা (occupation): কম্পিউটার বা ভিডিও ডিসপ্লে মনিটরের বর্ধিত ব্যবহার, শিফটের কাজ বিশেষত রাত জেগে কাজ করা, এবং কাজের সাথে সম্পর্কিত চাপ সহ কিছু পেশা বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ায়,
৪. ধুমপান (tobacco smoking): যারা ধূমপান করেন তাদের শুক্রাণুর সংখ্যা যারা ধূমপান করেন না তাদের তুলনায় কম হতে পারে। এমনকি পরোক্ষ ধুমপানও পুরুষের বন্ধ্যাত্বকে প্রভাবিত করতে পারে,
৫. ওজন (weight): স্থূলতা হরমোনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে যা পুরুষের বন্ধ্যাত্বের কারণ,
৬. দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালানো (prolonged bicycling): দীর্ঘ সময় ধরে সাইকেল চালালে অণ্ডকোষ অতিরিক্ত গরম হবার কারণে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, অণ্ডকোষের পিছনের (পেরিনিয়াম)  অংশে সাইকেলের সিটের চাপ লিংগে অসাড়তা এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের কারণ হতে পারে।
পরীক্ষা এবং রোগ নির্ণয় (tests & diagnosis): 
পুরুষ বন্ধ্যাত্ব নির্ণয়ে নিম্নোক্ত বিষয়/পরীক্ষা সম্পৃক্ত: 
১. সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা এবং চিকিৎসা ইতিহাস (physical exam & medical history),
২. বীর্য বিশ্লেষণ (semen analysis),
৩. স্ক্রোটাল আল্ট্রাসাউন্ড (scrotal ultrasound),
৩. ট্রান্সরেক্টাল আল্ট্রাসাউন্ড (transrectal ultrasound),
৫. হরমোন পরীক্ষা (hormone testing),
৬. বীর্যপাতের পর প্রস্রাব বিশ্লেষণ (post ejaculation urinalysis),
৭. জেনেটিক পরীক্ষা (genetec tests),
৮. টেস্টিকুলার বায়োপসি (testicular biopsy),
৯. বিশেষায়িত শুক্রাণুর কার্যকারিতা পরীক্ষা (specialized sperm function tests)।
 
পুরুষ বন্ধ্যাত্বের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা (homeopathic treatment of male infertility): 
হোমিওপ্যাথ পুরুষ বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা দিতে নিম্নলিখিত তথ্য সংগ্রহ করবেন:
১. ঠিক কোন বয়সে রোগীর বয়:সন্ধিকাল (puberty) শুরু হয়?
২. স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বা কোন একজনের যৌনরোগ ছিল বা আছে কিনা?
৩. রোগীর উত্থানজনিত সমস্যা (erectile dysfunction), দ্রুত বীর্যপাত (premature ejaculation) বা বীর্যপাত একদম না হওয়ার (unable to ejaculate) সমস্যা আছে কিনা?
৪. রোগী পূর্বে কখনো সন্তানের পিতা হয়েছেন কিনা? 
৫. পূর্বে কখনো পেট, পেলভিক বা স্ক্রোটাল সার্জারির বা ভ্যাসেকটমি করেছেন কিনা? 
৬. রোগী কোন নেশাদার দ্রব্য যেমন - গাঁজা, কোকেন বা এ্যানাবলিক স্টেরয়েড সেবন করেছেন কিনা?
৭. রোগী নিয়মিতভাবে রাসায়নিক, কীটনাশক, বিকিরণ বা সীসার মতো বিষের সংস্পর্শে আসেন কিনা?
৮. বর্তমান খাদ্য তালিকা কেমন? 
৯. সম্পূরক খাদ্য (dietary supplements) সহ কোন ঔষধ গ্রহণ করেন কিনা?
১০. রোগী কি গরম স্নান বা স্টিম বাথ গ্রহণ করেন?
১১. রোগীর কখনো কোন দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে সার্জারি জাতীয় চিকিৎসা নিয়েছেন কিনা?
১২. অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ইতিহাস বা বিবাহ বহির্ভূত যৌনসম্পর্ক আছে কিনা?
উপরোক্ত বিষয়ের সাথে রোগীর আনুষংগিক শারীরিক-মানসিক-আবেগিক অবস্থা, জীবনযাত্রার মান ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে সফল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।
 
এলোপ্যাথিক চিকিৎসা (allopathic treatment):
এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে - 
১. সার্জারি (surgery): উদাহরণস্বরূপ ভেরিকোসিলের অনেক ক্ষেত্র সার্জারি দ্বারা সংশোধন করা যেতে পারে বা একটি বাঁধাযুক্ত ভ্যাস ডিফারেন্স (obstructed vas deferens or sperm duct) এর ক্রটি মেরামত করা যেতে পারে, 
২. সংক্রমণের চিকিৎসা (treating infections): এ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা প্রজনন ট্র্যাক্টের সংক্রমণ নিরাময় করতে পারে, তবে সর্বদা উর্বরতা (fertility) পুনরুদ্ধার করে না, 
৩. যৌন মিলনের সমস্যার জন্য চিকিৎসা (treatment for sexual intercourse problems): ওষুধ বা কাউন্সেলিং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা অকাল বীর্যপাতের মতো পরিস্থিতিতে উর্বরতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে ওষুধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যুক্ত, 
৪. হরমোন চিকিৎসা এবং ওষুধ (hormone treatment & medicaiton): চিকিৎসক এমন ক্ষেত্রে হরমোন প্রতিস্থাপন বা ওষুধের সুপারিশ করতে পারেন যেখানে নির্দিষ্ট হরমোনের উচ্চ বা নিম্ন স্তরের কারণে বন্ধ্যাত্ব হয়। এটিও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত নয়।
৫. সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি (assisted reproductive technology or ART): এই চিকিৎসা রোগীর নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এবং ইচ্ছার উপর নির্ভর করে স্বাভাবিক বীর্যপাত, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বা দাতা ব্যক্তিদের কাছ থেকে শুক্রাণু পাওয়া সম্পৃক্ত। তারপর শুক্রাণুটি স্ত্রীর যৌনাংগে প্রবেশ করানো হয় অথবা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (in vitro fertilization) বা ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশনের (intracytoplasmic sperm injection) জন্য ব্যবহার করা হয়।
 
লাইফস্টাইল পরিবর্তন (lifestyle modification): জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরুষ বন্ধ্যাত্বের কিছু সুপরিচিত কারণ এড়ানো যায়। যেমন – 
১.ধূমপান বর্জন করা, মদপান ও নেশাদায়ক দ্রব্য হতে দূরে থাকা,
২. স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা, 
৩.ভ্যাসেকটমি না করা, 
৪. অন্ডকোষ এলাকায় অধিক তাপ ও চাপ এড়িয়ে চলা, 
৫. কীটনাশক, ভারী ধাতু এবং অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, 
৬. স্ট্রেস-কমানোর কৌশল জানা ও অনুশীলন করা, 
৭. কাউন্সেলিং গ্রহণের বিষয় বিবেচনা করা, 
৮. প্রিয়জনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, 
৯. সকল ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করা।
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *