Obesity: Causes, risk factors & treatment

স্থূলতা (obesity) একটি জটিল ব্যাধি যাতে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে। এটি হৃদরোগ, ডায়বেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ এবং অন্যান্য ওজন সম্পর্কিত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, শারীরিক ক্রিয়াকলাপ এবং আচরণসহ জীবনযাত্রার পরিবর্তন সাধন ওজন কমাতে সাহায্য করে। আধুনিক চিকিৎসায়, প্রেসক্রিপশনের মেডিসিন ছাড়াও ওজন কমানোর সার্জারি অতিরিক্ত বিকল্প। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় চিকিৎসার পাশাপাশি লাইফস্টাইল পরিবর্তনে গুরুত্ব দেয়া হয়।

স্থুলতার পরিমাপ (measurement of obesity): কারো Body Mass Index (BMI) ৩০ বা তার বেশি হলে তাকে স্থুল (obese) ধরা হয়। । BMI হল একজন ব্যক্তির উচ্চতা এবং ওজন ব্যবহার করে স্থুলতা নির্ণয়ের একটি সাধারণ নির্দেশক। সূত্রটি হল BMI=kg/m2 যেখানে kg হল একজন ব্যক্তির কিলোগ্রামে ওজন এবং উচ্চতা মিটারে হিসাব করে স্কয়ার বা বর্গ করতে হবে। ২৫ বা তার বেশি BMI অর্থ অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০ এর বেশি স্থূল বা obese হিসেবে গণ্য করা হয়। BMI যখন স্বাস্থ্যকর পরিসীমা ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর ভেতর থাকে তখন তাকে স্বাভাবিক ধরা হয়। উদাহরণ- কারো ওজন ৬৪ কেজি এবং উচ্চতা ১.৭ মিটার হলে BMI=64/(1.7X1.7)= ২২.১৪ যা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে পড়ে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে BMI শরীরের চর্বির একটি যুক্তিসঙ্গত ধারণা প্রদান করে। তবে এটি সরাসরি শরীরের চর্বি পরিমাপ করে না। পেশীবহুল ক্রীড়াবিদদের মতো কিছু লোকের জন্য, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি না থাকা সত্ত্বেও স্থূল বিভাগে BMI থাকতে পারে যাতে তাদের তেমন কোন সমস্যা হয়না বা স্বাস্থ্য ঝুঁকিও থাকেনা।

 
কারণসমূহ (Causes of Obesity): শরীরের ওজনের উপর জিনগত (genetic predisposition), আচরণগত (behavioral) এবং হরমোনের (hormonal) প্রভাব রয়েছে। স্থূলতা দেখা দেয় যখন কেউ শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রম করেনা অথচ স্বাভাবিক দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে ক্যালোরী খরচ বা বার্ণ করার চেয়ে অধিক ক্যালোরি গ্রহণ করে। শরীর এই অতিরিক্ত ক্যালরি চর্বি হিসাবে জমা করে। সাধারণভাবে, স্থূলতার প্রধান কারণগুলি হল:
 
1.    নিষ্ক্রিয়তা (inactivity): এর অর্থ আপনি ততোটা সক্রিয় নন এবং অধিক ক্যালরি গ্রহণ করেন, অথচ বার্ণ করেন কম। শুয়ে বসে জীবনযাপন (sedentary lifestyle) -এর সাথে আপনি ব্যায়াম এবং স্বাভাবিক দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপ না করেও সহজেই প্রতিদিন বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করতে পারেন।
2.    অস্বাস্থ্যকর খাদ্য এবং খাদ্যাভ্যাস (unhealthy diet & food habit):  ওজন অনিবার্যভাবে বৃদ্ধি পাবে যদি আপনি নিয়মিতভাবে বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন। বেশিরভাগ আমেরিকানদের ডায়েট ক্যালোরিতে খুব বেশি এবং ফাস্ট ফুড এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত পানীয়ে পূর্ণ। আমরাও দ্রুত সেদিকে ধাবিত হচ্ছি।
ঝুঁকির কারণ (risk factors): স্থূলতা সাধারণত নিম্নলিখিত বিষয়গুলির সংমিশ্রণ ও অবদানের ফল: 
 
1. জেনেটিক্স (Genetics)

2. পারিবারিক জীবনধারা (Family lifestyle)

3. নিষ্ক্রিয়তা (Inactivity)

4. অস্বাস্থ্যকর খাদ্য (Unhealthy diet)
5. স্বাস্থ্য সমস্যা (Medical problems)
6. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (side effects of ccertain medicines)
7. সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যা (Social and economic issues)
8. বয়স (Age)
9. গর্ভাবস্থা (Pregnancy)
10. ধূমপান ত্যাগ করা (Quitting smoking)
11. ঘুমের অভাব (Lack of sleep)
12. ক্রমাগত চাপ (Continued stress)
জটিলতা (complications): স্থুল ব্যক্তিদের অনেকগুলি সম্ভাব্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন-
1. উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড (TG) এবং কম উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন (HDL) কোলেস্টেরল
2. টাইপ -2 ডায়াবেটিস
3. উচ্চ রক্তচাপ (hypertension)
4. মেটাবলিক সিনড্রোম (metabolic syndrome) - রক্তে উচ্চ শর্করা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কম এইচডিএল কোলেস্টেরলের সংমিশ্রণ
5. হৃদরোগ (heart diseases)
6. স্ট্রোক (stroke)
7. জরায়ু, সার্ভিক্স, এন্ডোমেট্রিয়াম, ডিম্বাশয়, স্তন, কোলন, মলদ্বার, খাদ্যনালী, যকৃত, গলব্লাডার, অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং প্রোস্টেটের ক্যান্সার সহ অন্যান্য ক্যান্সার
8. স্লিপ অ্যাপনিয়া (sleep apnea) সহ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যাধি, একটি সম্ভাব্য গুরুতর ঘুমের ব্যাধি যেখানে শ্বাস বারবার বন্ধ হয়ে যায় আর শুরু হয় 
9. গলব্লাডার রোগ (gall bladder diseases)
10. স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত সমস্যা (gynocological problems), যেমন - বন্ধ্যাত্ব এবং অনিয়মিত পিরিয়ড, ওভারি, জরায়ু, স্তনে সিস্ট, টিউমার ইত্যাদি
11. ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (erectile dysfunction) এবং যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা
12. নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের রোগ (nonalcoholic fatty liver disease) যা এমন একটি অবস্থা যেখানে লিভারে চর্বি জমা হয়ে প্রদাহ ও দাগের সৃষ্টি করে 
13. অস্টিওআর্থারাইটিস (austioarthritis)
জীবন মান (Quality of Life): আপনি যখন স্থূল হন তখন আপনার জীবনের সামগ্রিক মান হ্রাস পায়। আপনি যে কাজগুলো পূর্বে খুব সহজে ও আনন্দচিত্তে করতেন, তেমন করে এখন করতে পারেন না। আপনি পাবলিক প্লেস এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এমনকি  স্থূলতার কারণে বৈষম্যের সম্মুখীন হতে পারেন আপনি। আপনার জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করতে পারে এমন অন্যান্য ওজন-সম্পর্কিত সমস্যাগুলির মধ্যে রয়েছে:
 
1. বিষণ্নতা (Depression)
2. অক্ষমতা (Disability)
3. যৌন সমস্যা (Sexual problems)
4. লজ্জা এবং অপরাধবোধ (Shame & guilt)
5. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (Social isolation)
6. নিম্ন কাজের কৃতিত্ব (Low work achievement)
চিকিৎসা (Treatment): স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিতে আমরা নিম্নলিখিত তথ্য জানতে চাই:
1. বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন আপনার ওজন কত ছিল?
2. ওজন বৃদ্ধির সাথে জীবনের কোন্ কোন্ ঘটনা জড়িত থাকতে পারে?
3. একটি সাধারণ দিনে আপনি কী কী খাবার কতটা খান?
4. আপনার জীবনের কোন সময়ে আপনার ওজন বেড়েছে?
5. কোন্ কোন‌্ কারণগুলি আপনার ওজনকে প্রভাবিত করে?
6. আপনার দৈনন্দিন জীবন আপনার ওজন দ্বারা প্রভাবিত হয় কিভাবে?
7. আপনার ওজন কমানোর লক্ষ্য কি?
8. ওজন কমানোর জন্য আপনি কি আপনার জীবনধারা পরিবর্তন করতে প্রস্তুত?
9. আপনি কি মনে করেন ওজন কমাতে কি কি বিষয় আপনাকে বাধা দিতে পারে?
10. কোন খাবার বা কার্যকলাপের অভ্যাসগুলি সম্ভবত আপনার স্বাস্থ্য উদ্বেগ এবং ওজন বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে?
11. আপনার কি এমন কোন স্বাস্থ্য সমস্যা আছে যার কারণ স্থূলতা? 
12. আপনি কি আমাদের দ্বারা প্রস্তাবিত একটি ডায়েট প্লান গ্রহণ করতে প্রস্তুত?
13. প্রয়োজনে আপনি কি কাউন্সেলিং এর জন্য প্রস্তুত থাকবেন?
আমাদের সাথে পরামর্শ করার আগেই আপনি আপনার খাদ্যে স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন করা শুরু করতে পারেন এবং আপনার কায়িক পরিশ্রমের মাত্রা বাড়ানো শুরু করতে পারেন।
 
আমরা পরীক্ষার রিপোর্টের উপর খুব বেশি নির্ভর করি না। তবুও রোগ ও তার ঝুঁকি নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে আমরা নিম্নলিখিতগুলি করতে পারি:
 
1. আপনার স্বাস্থ্য/চিকিৎসা ইতিহাস গ্রহণ
2. একটি সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা
3. আপনার BMI গণনা করা
4. অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য রিপোর্ট পরীক্ষা করা
5. কোলেস্টেরল, লিভার ফাংশন, ফাস্টিং গ্লুকোজ, থাইরয়েড পরীক্ষা ইত্যাদি। 
 
উপরের তথ্য সংগ্রহ আপনার রোগ নির্ণয়ে, স্বাস্থ্যের অবস্থা বা ঝুঁকি কি, কতটা ওজন কতদিনে কিভাবে কমাতে হবে তার নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। 
উল্ল্যেখ্য, হোমিওপ্যাথিতে স্থুলতার জন্য ৭০ এর অধিক ওষুধ আছে। কিন্তু সার্বিক লক্ষণ ও জীবনযাপন প্রণালী বিশ্লেষণ করে এদের মধ্য হতে যে কোন ওষুধ নির্বাচিত হতে পারে যা রোগীকে নিরাময় করবে ইনশাল্লাহ্।
 
আমরা শুধুমাত্র আপনার ওজনের উপর ফোকাস না করে নিম্নলিখিতগুলি সুপারিশ করি:
 

1. খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তন (Dietary changes)

2. ব্যায়াম এবং শারীরিক কার্যকলাপ (Exercise and activity)

3. আচরণগত পরিবর্তন (Behavior changes)

4. স্ট্রেস ব্যবস্থাপনা (Stress management)

5. সমর্থন গ্রুপ সৃষ্টি (Create support groups)

6. কাউন্সেলিং (Counselling)

 
অত্যন্ত আশা করি যে আপনি:
1. প্রতি সপ্তাহে ১৫০-৩০০ মিনিট নিয়মিত ব্যায়াম করবেন 
2. একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিকল্পনা অনুসরণ করবেন
3. ক্ষতিকর খাবাররে ফাঁদ সম্পর্কে অবগত হয়ে তা এড়িয়ে চলবেন
4. আপনার ওজন ও শারীরিক-মানসিক পরিবর্তন নিরীক্ষণ করবেন
5. গৃহীত খাদ্য পরিকল্পনা, শারীরিক শ্রম/ব্যায়াম ও অন্যান্য অভ্যাস নিয়মিত চালিয়ে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *