Frequently Asked Questions

হোমিওচিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক স্যামুয়েলহ্যানিম্যান যে হোমিওপ্যাথির উদ্ভাবন করেছিলেন এবং যা আমাদের শিখিয়ে গেছেন সেটাই ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি। কিন্তু সেখানে আজ আমরা অনেক বিচ্যুতি দেখতে পাই।

ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির মূল কথা রোগীর মানসিক, আবেগিক ও শারীরিক লক্ষণাবলীর সাথে সদৃশতম (সিমিলিমাম) ১টি মাত্র ঔষধ প্রয়োগ করা। যেহেতু, বিজ্ঞানসম্মত ভাবে একটি সুস্থ মানবদেহে একটির অধিক ঔষধ একই সময়ে প্রয়োগ করে তা পরীক্ষা করা (প্রুভিং) সম্ভব নয় এবং প্রয়োগ করা হলেও কোন্ ঔষধ কি কি লক্ষণ উৎপাদন করে বা কিভাবে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখায় তা পৃথকভাবে জানা সম্পূর্ণই অসম্ভব তাই রোগীর শরীরেও রোগাক্রান্ত অবস্থায় একাধিক ঔষধ প্রয়োগ করা অসম্ভব। প্রকৃতপক্ষে, এ পদ্ধতি চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত শ্রমসাধ্য। রোগীর নানাবিধ লক্ষণ বিশ্লেষণ ও গবেষণা করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন যা আধুনিক হোমিওপ্যাথদের পক্ষে বিড়ম্বনা বলে বোধ হয়। কিন্তু ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির সাফল্য অত্যন্ত সন্তোষজনক। যদি সদৃশতম ঔষধটি খুঁজে পাওয়া না যায় তবে ফলাফল শুন্য বা বড়জোর রোগী কিছু সাময়িক উপশম লাভ করতে পারে। বিশ্বখ্যাত হোমিওপ্যাথেরা তাই ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির পক্ষে।

অপরদিকে অনেক হোমিওপ্যাথ আছেন যারা শ্রমবিমুখ এবং একাধারে বিশ্লেষণ ও গবেষণা বিমুখ। তারা রোগীর লক্ষণাবলী যথাযথ ভাবে বা আদৌ লিপিবদ্ধ করেননা, বুঝতে পারেন না ঠিক কি ঔষধ প্রয়োগ করবেন। মুলতঃ শ্রমবিমুখতা, সময়ের অভাব, চিকিৎসা পেশার প্রতি আন্তরিকতার অভাব এবং জনসেবায় অনীহা ও অনৈতিক মনোভাব হেতু এ সকল চিকিৎসক সোজা রাস্তা বেছে নিয়ে রোগীকে ইচ্ছামত ৪/৫ টি হতে ২৫/৩০টি ঔষধও প্রয়োগ করে থাকেন। তাদের ধারণা সদৃশতম ঔষধটি এদের মধ্যেই কোন না কোনটি হবে এবং তা কাজ করবে। তাদের এ ধারণা হোমিওপ্যাথিক মুলনীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এভাবেই তারা রোগীকে যথেষ্ট সময় না দিয়ে মূলতঃ ঔষধের ব্যবসা করে লাভবান হতে চান- যা রোগীর সাথে প্রতারণার সামিল। প্রকৃতপক্ষে এ চিকিৎসায় কোন কোন ক্ষেত্রে সাময়িক উপশম হলেও হতে পারে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো রোগীর অবস্থা এতে জটিল হতে জটিলতর হয়, রোগীর স্বাতন্ত্র্যসূচক লক্ষণাবলী বিলুপ্ত হয়, রোগীর হ্রাস-বৃদ্ধির লক্ষণসমূহ পরিবর্তিত হয় এবং রোগ আরোগ্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়ায়। ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির দ্বারা যা সম্ভব, এ জাতীয় তথাকথিত আধুনিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় তা কখনও সম্ভব নয়।

হোমিওপ্যাথি রোগ নয়; রোগীর চিকিৎসা করে। ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি সকল ধরণের একিউট রোগীর চিকিৎসা করা ছাড়াও নানা রকম ক্রণিক ডিজেনারেটিভ রোগের চিকিৎসা করে। যদি রোগের প্রথমাবস্থায় রোগী ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথের শরণাপন্ন হন, অধিক দিন যাবৎ এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দ্বারা যদি রোগলক্ষণ চাপা না দেয়া হয় এবং রোগী যদি রোগভোগের শেষ সীমায় না পৌঁছান তবে রোগীর যে কোন রোগ আরোগ্য হয় ইনশাল্লাহ্। অধিকন্তু আরোগ্যের সীমা অতিক্রম করেছে এমন রোগীর ক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসা এ্যালোপ্যাথিক বা অন্যান্য যেকোন চিকিৎসার চেয়ে অধিকতর উপশমদায়ক চিকিৎসা দিতে সক্ষম। অনেক ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দ্বারা এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় অনারোগ্য বিবেচিত অনেক রোগের সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে।

হোমিও ঔষধ তরল পানীয়, পাউডার, ট্যাবলেট বা পিল জাতীয় উপদান যার মুল উৎসপ্রাকৃতিক কোন না কোন উদ্ভিজ্জ, খনিজ বা প্রাণীজ উপাদান। ডাইলিউশন এবং পোটেনটাইজেশন এর মাধ্যমে ঔষধ কারখানায় এসব ঔষধ তৈরী করা হয়।

মূলতঃ রোগীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ডিফেন্স ম্যাকানিজমের উপর সরাসরি কাজ করে রোগীর জীবনী শক্তিকে অধিকতর শক্তিশালী করে যার ফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এভাবে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে আরোগ্য বা নিরাময় সাধন করে।

যেহেতু উচ্চমাত্রায় ডাইলিউশন করে ও সবলে ঝাঁকুনি দিয়ে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরী করা হয়, সেহেতু হোমিও ঔষধের ক্ষতিকর বিষক্রিয়া বিলুপ্ত হয়। এ সকল হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সদৃশ লক্ষণানুযায়ী রোগীকে প্রয়োগ করা হলে তাতে কখনও বিপদের আশংকা থাকেনা। তথাপি ভুল ঔষধ প্রয়োগ করা হলে সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে ঐ ওষুধের প্রুভিং লক্ষণাবলী দেখা দেয়।মোটকথা, সুক্ষ্মমাত্রায় ও লক্ষণানুযায়ীপ্রয়োগকরাহলেবিপদজনকনয়তবেভুলওষুধপ্রয়োগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে।

হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আদৌ কোন আসক্তি সৃষ্টি করেনা।

কথাটি পুরোপুরিভাবে অসত্য কেননা “কোনো জিনিসের ক্রিয়া থাকলে তার  পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও থাকবে”। নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী “ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া সমান এবং বিপরীত”। যদি কোনো ঔষধের প্রতিক্রিয়া থেকে থাকে, অবশ্যই এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে।

যদি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ দীর্ঘ সময় ভুলভাবে প্রয়োগ করা হয় বা ঔষধের সংমিশ্রণ এলোমেলো ভাবে দীর্ঘ সময়ের জন্য দেয়া হয় তবে ঔষধগুলির অবশ্যই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে।

ভুল ওষুধ প্রয়োগে রোগীর লক্ষণের হ্রাস-বৃদ্ধির ধরণ সমূহ পরিবর্তিত হয়ে থাকে। এটাই সবচেয়ে বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। ওষুধ সেবন বন্ধ করলে ধীরে ধীরে রোগী পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। যেমন – রোগীর যে মাথাব্যথা নিয়মিত ডানদিকে দেখা দিত তা ডান দিক হতে বাম দিকে স্থানান্তর হতে পারে। তাছাড়া ভুল ওষুধ প্রয়োগে কৃত্রিম রোগলক্ষণ বা প্রুভিং লক্ষণ দেখা দিতে পারে।তবে হোমিও নিয়মনীতি অনুযায়ী সদৃশতম ঔষধটি প্রয়োগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা নাই।

ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অধিকাংশ সময় বাস্তব ক্ষেত্রে রোগীর লক্ষণাবলীর সাময়িক বৃদ্ধি হয়ে থাকে। রোগীর প্যাথলজির গভীরতা যত বেশী প্রারম্ভিক এই বৃদ্ধিও ততটা অধিক। সৃদশ লক্ষণাবলী বিবেচনা করে যথাযথ শক্তি ও মাত্রায় ওষুধ সেবনের পর এই বৃদ্ধিই প্রমাণ করে ওষুধ কাজ করা শুরু করেছে এবং রোগশক্তি হতে ওষুধের শক্তি অধিক, যা আরোগ্যকর। তবে দৈহিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ফাংশনাল সমস্যার ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধি অতি নগণ্য বা অনেক সময় তা দৃষ্টিগোচর হয়না বা উপলব্ধি করা যায়না। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীর তাৎক্ষণিক উপশম আমাদেরকে ভুল চিকিৎসার অন্ততঃ ২২ (বাইশ) টি ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার অন্যতম ২ (দুটির) কথা মনে করিয়ে দেয়। যা হলো চিকিৎসার পর সাথে সাথেই উপশম হলে বুঝতে হবে – হয় রোগীর জীবণীশক্তি অত্যন্ত ক্ষীণ বা হীন যার কারণে রোগী আর আরোগ্যযোগ্য নয় অথবা যে ঔষধটি প্রয়োগ করা হয়েছে তা ভুল। যদিও কিছু ক্ষেত্রে রোগীর জীবনীশক্তি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও এমন বৃদ্ধি দেখা যায়না বা মৃদু বৃদ্ধি দেখা দিলেও রোগী তা উপলব্ধি করতে পারেনা। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হলো এমন স্বাস্থ্যবান রোগীর সংখ্যা অতি নগণ্য। বড়জোর শতকরা ২ হতে ৩ ভাগ।

সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করা হলে মাঝেমধ্যেই হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি ঘটে যা আরোগ্যদায়ক। অধিকাংশ একিউট রোগের চিকিৎসাকালীন রোগী এই বৃদ্ধি একদম উপলব্ধি করেনা। এই বৃদ্ধি মূলত: ওষুধ প্রয়োগের পর শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া। ক্রণিক রোগের ক্ষেত্রে এই মৃদু বৃদ্ধি রোগ আরোগ্যের শেষ প্রান্তে এসে দেখা দেয়। সাময়িক এই বৃদ্ধি মুলত: আরোগ্যের নিদর্শন।

একই সময়ে একাধিক ঔষধ প্রয়োগ অনুচিত। তবে রোগীর জীবন সংকটাপন্ন হলে এবং চিকিৎসক যদি নিকটতম সদৃশ ঔষধের মধ্যে কোন্ ঔষধটি প্রয়োগ করবেন সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারেন তবে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ১টির পর অন্য ১টির ব্যবহার বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা সফলতার সাথে এক্ষেত্রে ও ১টি ঔষধই প্রয়োগ করেন।

যেহেতু এ্যালোপ্যাথিকের মত একসাথে অনেক ওষুধ ব্যবহৃত হয়না তাই এটা অনেক সাশ্রয়ী।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার খরচ তুলনামূলক কম। কারণ, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীকে বার বার ব্যয়বহুল ল্যাব টেস্ট করাতে হয়না। ওষুধের খরচও তুলনামুলকভাবে অনেক কম।

মাহাত্মা গান্ধীর উক্তি – “যেকোনো চিকিৎসার তুলনায় হোমিওচিকিৎসায় রোগ নিরাময়ের হার অনেক বেশী। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার খরচে কম। এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত, পরিশোধিত ও সর্বাধুনিকচিকিৎসা পদ্ধতি।”

শুষ্ক স্থানে, যেখানে সূর্যরশ্মি সরাসরি পৌঁছায় না এবং কোন প্রকার উগ্র গন্ধ নেই এমন স্থানে রাখা প্রয়োজন। ফ্রিজে রাখার কোন দরকার নেই।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কতদিন ধরে চলবে তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। তবে গবেষণা লব্ধ তথ্য থেকে দেখা যায় প্রতি ১ (এক) বছর রোগভোগের জন্য ১ (এক) মাসের চিকিৎসা প্রয়োজন। রোগীর রোগের গভীরতা, প্যাথলজির জটিলতা, জীবণীশক্তির অবস্থা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে চিকিৎসাকাল কম-বেশী হয়। এ সকল বিষয়ের উপর ভিত্তি করে হোমিওপ্যাথ অনেক সময় একটি পূর্বাভাস দিতে পারেন যাকে ভাবীফল বা প্রগনসিস বলে। একিউট রোগ অতি দ্রুত আরোগ্যে সম্ভব। ক্রণিকরোগ আরোগ্য করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। তবে এমন নয় যে আজীবন ওষুধ সেবন করে যেতে হবে যেমনটি অধিকাংশ এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় দেখা যায়।

অবশ্যই না। রোগী সুস্থবোধ করা মাত্রই চিকিৎসা থামিয়ে দেবেন। রোগটি আবার ফিরে আসে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য হোমিওপ্যাথকে কিছু সময় দেয়া প্রয়োজন। তবে ক্রণিক রোগীর ক্ষেত্রে এটি একটু ব্যতিক্রম। যেখানে ডাঃ হেরিং এর আরোগ্যনীতি অনুযায়ী রোগী পুরোপুরি আরোগ্য হওয়ার আগে নিম্নোক্ত ধারা লক্ষ্য করা যায়:

(ক) একটি নির্দিষ্ট ক্রমে রোগীর পুরাতন রোগলক্ষণ ফিরে আসে। অর্থাৎ সর্বশেষ লক্ষণটি সবার আগে চলে যায়।  এরপর বিপরীতক্রমে পুরাতন লক্ষণাবলী সামান্য সময়ের জন্য ক্রমানুসারে ফিরে আসে ও বিলুপ্ত হয়।
(খ) অধিক গুরুত্বপূর্ণ অংগ হতে লক্ষণাবলী কম গুরুত্বপূর্ণ অংগে স্থানান্তরিত হয়। যেমন-  হৃদপিন্ডের লক্ষণবলী উপশম হয়ে তা ফুসফুস বা যকৃত বা কিডনীতে স্থানান্তরিত হয় (অবশ্যই ঐ অংগগুলি আগে রোগভোগ করে থাকলে)। ভেতরকার লক্ষণাবলী ক্রমশ বাইরের অংগে বা চর্মে প্রকাশিত হয়।
(গ) রোগ লক্ষণাবলী শরীরের উপরের অংশ হতে নিম্নাংশে প্রকাশিত হয় এবং এক সময় রোগটি বিলুপ্ত হয়।

এভাবেই পূর্ণ আরোগ্য সম্পন্ন হয়। উপরোক্ত অবস্থাগুলি পর্যবেক্ষণ করে হোমিওপ্যাথকে জানাতে হবে। যখন রোগী ভালো বোধ করতে শুরু করবেন তখন অবশ্যই রোগীকে কিছু সময় শারীরিক অবস্থা অনুধাবন করতে হবে এবং ঔষধ সেবন বন্ধ করতে হবে।

চিকিৎসা চলাকালীন যতটুকু সম্ভব নতুন রোগের ক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসা করা উচিত। সবার আগে হোমিওপ্যাথকে বিষয়টি রিপোর্ট করা উচিত। অনেক সময় হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি হতে পারে যা হোমিওপ্যাথের নির্দেশনা মত চললে এমনিতে চলে যায়। কোন কারণে রোগীর জীবনের আশংকা না দেখা পর্যন্ত ক্যামিক্যাল ড্রাগ বা এ্যালোপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। দুর্ঘটনাজনিত কারণে ডাক্তারের পরামর্শে দ্রুত যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ দুর্ঘটনার কারণটি বাহ্যিক কোন বিষয়, এটি অভ্যন্তরীণ রোগ নয়।

কোন কোন রোগী যেমন যারা ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, হাঁপানী ইত্যাদি রোগ আক্রান্ত। তাদের ক্ষেত্রে হোমিও ও এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা একসাথে চলতে পারে। যদিও একই সাথে দুই ধরণের বিপরীত চিকিৎসায় প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়না। ঐ সকল রোগের মুল কারণ, রোগীর রোগের গভীরতা ও জটিল প্যাথলজি বিবেচনায় রাখা উচিত। সকল ক্ষেত্রে বস্তুগত লক্ষণ অর্থাৎ ল্যাবটেস্ট রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেয়া হয়। হোমিওপ্যাথি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি বিধায় এক্ষেত্রে রোগীর মধ্যে মুল লক্ষণাবলী খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হয়। ঐ সকল রোগে রোগী টেস্ট রিপোর্ট ব্যতীত ব্যক্তিগত হ্রাস-বৃদ্ধি বা লক্ষণ উল্লেখ করতে পারেনা। ফলে চিকিৎসার গতি ধীর হয়। তবে এ অবস্থায় হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নিম্ন শক্তিতে ঘন ঘন প্রয়োগ করলে এবং ধীরে ধীরে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা প্রত্যাহার করলে কাংখিত ফল পাওয়া যায়। এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসায় যেখানে ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার, হাঁপানী ইত্যাদির রোগ সম্পূর্ণ অনারোগ্য সেখানে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হোমিও চিকিৎসার দ্বারা এ জাতীয় রোগী আরোগ্যের অনেক ইতিহাস রয়েছে। তবে কোন অবস্থাতেই ক্ল্যাসিক্যাল হোমিও চিকিৎসা ছাড়া আধুনিক হোমিও চিকিৎসায় এই আরোগ্য সম্ভব নয়।

ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথির সাহায্যে পুরোপুরি রোগমুক্ত হলে রোগটি আর ফিরে আসেনা। তবে ভুল চিকিৎসার ফলে রোগীর সাময়িক উপশম হয় এবং রোগী আগের অবস্থা ফিরে আসে। সকল ক্ষেত্রেই রোগীকে স্বাস্থ্যরক্ষার ন্যুনতম নিয়মাবলী যেমন- পুষ্টিকর খাদ্য-পানীয় গ্রহণ, নিয়মিত শরীর চর্চা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের বিষয়গুলি মেনে চলতে হবে। এসবের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন অপরিহার্য।সঠিক উপায়ে ও পরিপূর্ণ ভাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করা না হলে রোগটি আবারও দেখা দিতে পারে। বিশেষত: রোগীর মানসিক-আবেগিক ট্রমা বা আঘাতের কারণে কিছু রোগীর এমনটি দেখা দিতে পারে। তবে সঠিক ওষুধ সঠিক শক্তি-মাত্রায় প্রয়োগে রোগের পুন:আক্রমণের সম্ভাবনা থাকেনা।

এটি হোমিওপ্যাথির জন্য অনেক বড় এবং খারাপ অপবাদ। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া অনুযায়ী শতভাগ প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। এর প্রধানতম উৎসকোন না কোন উদ্ভিজ্জ, প্রানীজ বা খনিজ উপাদান। প্রকৃত হোমিওপ্যাথ বরং স্টেরয়েডের বিরুদ্ধে লড়াই করেন।

হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শিশু, গর্ভবতী নারী সহ সকল বয়সী রোগীর জন্য নিরাপদ। শর্ত হলো লক্ষণানুযায়ী সঠিক ওষুধ যথাযথ শক্তি ও মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

এটা পুরোপুরি ভ্রান্ত ধারণা। বরং হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত দ্রুত কাজ করে। তবে দীর্ঘদিন দমনমূলক চিকিৎসা চলার ফলে রোগীর লক্ষণসমষ্টি স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়না। তাছাড়া লক্ষণের সুনির্দিষ্ট হ্রাস-বৃদ্ধি রোগী জানাতেও অক্ষম হয় ফলত: সঠিক ওষুধ নির্ণয়ে হোমিওপ্যাথকে বেগ পেতে হয়। রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় ধাপে ধাপেরোগীর উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। ২০/২৫ বছর ধরে রোগেভোগ কারো রোগ নি:সন্দেহে রাতিরাতি আরোগ্য আশা করা উচিত নয়। তাছাড়া কিছুরোগী সকল চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে হোমিওপ্যাথের দ্বারস্থ হয়। তারপরও এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার ক্ষতি সবার উপর সমান নয়। হোমিও চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকালীন- রোগীকে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অতিত রোগ ভোগ ও তার চিকিৎসা সংক্রান্ত। রোগীর মানসিক-আবেগিক অবস্থা, শারীরিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন প্রণালী সম্পর্কে জানা কিছুটা সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। কিন্তু এসব লক্ষণ বিশ্লেষণ সঠিক ঔষধ নির্ধারণ করতে সহায়তা করে।তখনঅল্প সময়ের মধ্যে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা চমৎকার ফলাফল এনে দিতে পারে। মুল কথা লক্ষণ যত স্পষ্ট পাওয়া যাবে চিকিৎসায় সময় তত কম লাগবে। পুরো বিশ্বে অনেক মানুষেরই হোমিও চিকিৎসা নিয়ে চমৎকার ও মিরাকল আরোগ্যের অভিজ্ঞতা রয়েছে। 

World Health Organization (WHO) এর মতে, বিশ্বব্যাপী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দ্বিতীয় জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি। এলোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথি রোগ নির্ণয় পর্যন্ত একসাথে চলে। পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন।

হোমিওপ্যাথি একিউট এবং ক্রনিক রোগের চিকিৎসায়বিশুদ্ধ বিজ্ঞান মেনেচলে। এলোপ্যাথিতে একটি নির্দিষ্ট রোগের জন্য সকল রোগীকে একই চিকিৎসা দেয়া হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে একাধিক ওষুধ দেয়া হয়। অথচ হোমিওপ্যাথিতে একই রোগের জন্যও রোগীর সার্বিক শারীরিক-মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন রোগীকে বিভিন্ন একক ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। এখানে সাইকোথেরাপি, প্লাসিবোইফেক্ট বা ব্ল্যাকম্যাজিকের সাথে কোনো যোগসূত্র নেই।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার জন্য রোগীকে উদ্বুদ্ধ করা হয় কেননা, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাই একমাত্র হলিস্টিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে জটিল-ক্রণিকরোগীদের সার্বিক শারীরিক-মানসিক-আবেগিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে রোগীকেভেতর থেকে রোগ নিরাময় নিশ্চিত করা যায়।অন্য পদ্ধতিতে কেবল সাময়িক উপশম দেয়া হয়, যদিও তার জন্য বহু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যখন জটিল রোগের প্রসংগ আসে যেমন- এলার্জিজনিত রোগ, বারংবার হওয়াএকিউট রোগ, মানসিক রোগ, হরমোনজনিত রোগের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে রোগনিরাময়ের অনেক সুযোগ রয়েছে।পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে নতুন নতুনরোগের শিকার না হয়ে, শারীরিক জটিলতায় স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবার চেয়ে হোমিওপ্যাথিতে নিরাময় হয় এ জাতীয় রোগীদের স্থায়ী নিরাময়ের লক্ষ্যে হোমিও চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

হোমিও ঔষধ স্বাদে মিষ্টি হলেও রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করেনা। অসংখ্য ডায়াবেটিস মেলিটাসযুক্ত রোগী হোমিওপ্যাথিক ঔষধের চমৎকার ফলাফলের সাক্ষী।এলোপ্যাথিক ঔষধের ক্যাপসুল পদ্ধতির মতন হোমিওপ্যাথিক ঔষধের স্বাদ তেঁতো। এটি নিয়মিত এবং নিঁখুত ব্যবহারের জন্য মিষ্টি স্বাদযুক্ত পিলের মাধ্যমে দেয়া হয়ে থাকে। তবে পানিতে মিশিয়েও ওষুধ সেবন করা যায়।

হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে অতীতে প্রাপ্ত গৌরবময় অর্জনের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়- এটি পুরোপুরিভাবে ভুল ধারণা। হোমিওপ্যাথি অসংখ্য বিপদজনক এবং প্রাণঘাতী রোগ দ্রুত নিরাময়ে সক্ষম হয়েছে। হোমিওপ্যাথি একিউট এবং ক্রনিক উভয় রোগের ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত থেরাপি হিসেবে কাজ করে যদি রোগীর সার্বিক লক্ষণগুলো সঠিক ভাবে বিবেচনায় এনে রোগীকে সঠিক শক্তি ও মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। হাসপাতালে যেভাবে সার্বক্ষণিকরোগীর পরিচর্যা করা হয় সেটা হোমিওপ্যাথের পক্ষে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্ভব না বিধায় জরুরি অবস্থায় অন্য চিকিৎসাও গ্রহণ করতে উপদেশ দেয়া হয়। সর্বোপরি, একজন হোমিওপ্যাথের ব্যর্থতা কখনোই হোমিওপ্যাথিক বিজ্ঞানের ব্যর্থতা নয়।

হোমিওপ্যাথিক মূল পাঠ্যবই এবং বিশ্বব্যাপী অনুসন্ধান অনুসারে- যদি কোনো রোগী দিনে চার পাঁচবার কফি পান করেন তাহলে কফি পান হতে বিরত থাকতে হবে বা হ্রাস করতে হবে। এর কম কফি পানে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের প্রভাব ক্ষতি করেনা। কোন রকম ভীতি ছাড়াই রোগীরা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাকালীন পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি প্রায় সমস্ত কিছুই খেতে পারেন । তবে রোগীর জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় এনে সাময়িকভাবে কিছু খাবার-পানীয় বর্জন করতে উপদেশ দেয়া হয়। উদাহরণ স্বরুপ, ডায়বেটিসরোগীকে মিষ্টি খাবার, নিউমোনিয়া রোগীকে ঠান্ডা খাবার-পানীয় নিষেধ করা হয়।

হোমিওপ্যাথ রোগীর লক্ষণ ভেদে যে নিয়মে সুনির্দিষ্ট রোগীর জন্য ওষুধের মাত্রা, শক্তি নির্ধারণ করে দেন এবং যেভাবে গ্রহণ করতে উপদেশ দেন সেভাবেই ওষুধ সেবন করা উচিত। সকল রোগীর জন্য একই ব্যবস্থা কখনও নয়।

ঔষধ দেয়ার ক্ষেত্রে এলোপ্যাথি যেমন ‘ক্যাপসুল’ ব্যবহার করে হোমিওপ্যাথির জন্য ‘মিস্টি বড়ি’ দেয়া হয়ে থাকে। বড়িগুলি ওষুধ নয় যতক্ষণ পর্যন্ত তাতে ওষুধ মেশানো হয়। হোমিওপ্যাথিক ঔষধ স্বাদে খুব তিক্ত তাই বড়িগুলির ভেতর ঔষধ দেয়া হয় যা ঔষধ শুষে নেয় পরবর্তীতে যা ক্যাপসুল হিসেবে কাজ করে।বড়িগুলি মূলত: বাহকের কাজকরে। বাহক হিসেবে বড়ির পরিবর্তে পানিও ব্যবহার করা যায়।

হোমিও ঔষধ নির্দিষ্ট রোগীর জন্য তৈরী করা হয়ে থাকে।হাত পরিষ্কার থাকলে রোগী অবশ্যই তার হাতে নিয়ে ঔষধ খেতে পারেন।তবে হাত ব্যবহার না করাই উত্তম। রোগী ব্যতীত অন্য কেউ স্পর্শ করায় ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এমনকি ক্রিয়া তার ত্বকেও হতে পারে।

Classical homeopathy is what homeopathy was invented and taught to us by Samuel Hahnemann, the father of homeopathic medicine. But there we see many deviations today.

The essence of classical homeopathy is to apply only one medicine similar to the patient’s mental, emotional and physical symptoms. Since it is not scientifically possible to test (prove) more than one drug at a time in a healthy human body, and even if tested, it is completely impossible to know which drug produces which symptoms or how it reacts. Hence, it is impossible to give more than medicine. In fact, classical method is extremely laborious for physicians. It takes a lot of time to analyze and research the various symptoms of the patient which seems to be an embarrassment for modern homeopaths.

 But the success of classical homeopathy is extremely satisfactory. If the most similar medicine (simillimum) is not found, the result is zero or the patient may get some temporary relief. World-renowned homeopaths are therefore in favor of classical homeopathy.

On the other hand, there are many homeopaths that are averse to labor and dislike to analysis and research. They do not record the patient’s symptoms properly or at all, do not understand exactly what medicine to apply. Mainly due to inefficiency, lack of time, lack of sincerity towards the medical profession, reluctance and unethical attitude in public service, these doctors choose the straight path and apply 4/5 to 25/30 medicines to the patient. In this way, they do not give enough time to the patient and want to make a profit by trading in medicines – which is cheating with the patient. In fact, this treatment may be a temporary relief in some cases. But the biggest disadvantage is that the patient’s condition becomes more and more complicated, the patient’s distinctive symptoms disappear, the patient’s symptoms modality (aggravation/ amelioration) change and the disease becomes almost impossible to cure. What is possible with classical homeopathy is never possible with such so-called modern homeopathic remedies.

Homeopathy treats the patient; not the disease. In addition to treating all types of acute patients, classical homeopathy treats a variety of chronic degenerative diseases. If the patient seeks recourse to classical homeopathy in the early stages of the disease, if the symptoms are not suppressed by allopathic treatment for more days and if the patient does not reach the end of the disease, then any disease of the patient is cured inshallah. Moreover, in the case of patients who have exceeded the limits of cure, homeopathic remedies are able to offer more palliative treatment than allopathic or any other treatment. In many cases, homeopathic remedies have made it possible to successfully treat many diseases that are considered incurable by allopathic remedies.  

The main sources of homeopathic medicines are vegetable, mineral or animal ingredient which are manufactured originally in liquid form but prescribed with water, milk powders, tablets or pills whose. These drugs are manufactured in pharmaceutical factories through dilution and potentisation (vigorous serial shaking).

Basically, it works directly on the patient’s defense mechanism to further strengthen the patient’s vitality which in turn increases the patient’s immunity. In this way the disease is cured by fighting against it.

Since homeopathic medicines are manufactured by diluting high doses and shaking vigorously, the harmful toxins of homeopathic medicines are eliminated. If all these homeopathic medicines are given to the patient according to the overall similar symptoms, there is never any danger in it. However, if the wrong medicine is applied, there will be little reaction. In many cases, the patient has artificial or proving symptoms of the medicine given. All in all, it is not dangerous if taken in small doses and according to the symptoms.There are side effects when the wrong medicine is applied.

Homeopathic remedies are not addictive at all.

 The saying is completely wrong because “If something has an action, it will have side effects or reaction.” According to Newton’s third law of motion, “action and reaction are equal and opposite.” If there is action of any medicine, it must have reactions or side effects if taken wrongly. If homeopathic medicine is inappropriately used for a long time or the combination of medicines is given randomly for a long time, then the medicine must have side effects.

With the wrong medication, the patient’s symptoms &its modality may change. This is the biggest side effect. When the medication is stopped, the patient gradually returns to normal. For example, the patient’s headaches that used to appear on the right side may shift from the right side to the left side. Moreover, the application of wrong medicine can cause artificial symptoms or proving symptoms. However, according to the Homeopathic regulations, there is no possibility of side effects in the application of the most similar medicine or simillimum.

Classical homeopathic treatment often involves a temporary increase in the patient’s symptoms in real life. The deeper the patient’s pathology, the greater the initial aggravation. This aggravation proves that the medicine has started working after taking the medicine with proper potency and dosage considering the symptoms. The aggravation is curable .Rather, in some cases the immediate relief of the patient reminds us of at least the two (two) wrong & adverse reactions of the 22-types remedy actions. Which is to understand if the patient is relieved immediately after the treatment – either the vitality of the patient is very weak or inferior due to which the patient is no longer curable or the medicine that was applied is wrong. Although in some cases the vitality of the patient is very strong, such an aggravation is not seen or even if there is a slight aggravation, the patient does not realize it. But the fact is that the number of such healthy patients is negligible. Roughly 2 to 3 percent.

Occasionally homeopathic aggravation occurs when the right medicine is applied which is curable. Patients undergoing treatment for most acute diseases do not realize this aggravation at all. This aggravation is mainly due to the strong immune response after drug application. In the case of chronic diseases, this mild aggravation in the disease occurs at the end of treatment. This temporary aggravation is basically a sign of healing. 

It is inappropriate to apply more than one medicine at a time. However, if the patient’s life is in danger and the doctor is not sure which of the nearest similar drugs to use, then the use of only 1 after another can be considered. But experienced doctors successfully applied only 1 medicine in this case.

Since many drugs are not used together like allopathic, it is very affordable. The cost of homeopathic treatment is relatively low. This is because in the case of homeopathic treatment, the patient does not have to undergo expensive lab tests again and again. The cost of medicines is also comparatively much less. Mahatma Gandhi’s quote – “Homeopathic treatment has a much higher cure rate than any other treatment. The cost of homeopathic treatment is less. It is a side-effect free, refined and state-of-the-art treatment method.”

It should be kept in a dry place, where the sunlight does not reach directly, and in a place where there is no pungent odor. No need to refrigerate.

It is difficult to predict how long homeopathic treatment will last. However, the data obtained from the research shows that 1 (one) month of treatment is required for every 1 (one) year of suffering. The duration of treatment varies depending on the severity of the disease, the complexity of the pathology, the state of vitality or immune system etc. Homeopaths can often make a prediction based on all of these things which is called prognosis. Acute disease can be cured very quickly. Curing chronic diseases is somewhat time consuming. However, it is not necessary to take lifelong medication as seen in most allopathic treatments. 

Of course not. Stop treatment as soon as the patient recovers. Homeopaths need to be given some time to monitor whether the disease returns. However, in the case of chronic patients, it is a little exception. According to Dr. Herring’s law of healing (direction of cure), the following can be observed before the patient recovers completely: (A) The patient’s old symptoms return in a certain order. That is, the last symptom goes first. Then, conversely, the old symptoms return to normal for a short period of time and disappear.(B) Symptoms are transferred from the more important organ to the less important organ. For example, when the symptoms of the heart are relieved, it is transferred to the lungs or liver or kidneys (of course, if those organs have been diseased before). The inner symptoms gradually manifest on the outer limbs or skin.(C) The upper body parts of the given situation are displayed and at one time the situation disappears.This is how a cure is completed.

Homeopathic treatment should be given to new diseases as much as possible during treatment. The patient should report the matter first. There can be a lot of homeopathic aggravation which goes away as per the instructions of the homeopath. Chemical drugs or allopathic medicines should not be used unless for some reason the patient’s life is in danger. Any action should be taken immediately on the advice of a doctor in case of an accident or poisoning. Because the cause of the accident or poisoning are external matter, it is not an internal disease. 

Some patients are suffering from diabetes, high blood pressure, heart disease, cancer, asthma etc. In their cases, homeopathy and allopathy can go together. However, the expected results from homeopathy can not be obtained as because two types of opposite treatment is going on.The root cause of all diseases, the severity of the disease and the complex pathology of the patient should be considered. In all cases allopathic treatment is given based on the objective symptoms i.e. lab test report. Since homeopathy is a symptomatic treatment, it is difficult to find the original symptoms in the patient. In all diseases, the patient cannot report exact modalities (aggravation/ amelioration of symptoms) except showing test report. As a result the speed of treatment is slow.However, in this case, the desired results can be obtained by applying homeopathic medicines frequently at low strength and gradually withdrawing allopathic treatment. In allopathic medicine where diseases like diabetes, high blood pressure, heart disease, cancer, asthma etc. are completely incurable there is a long history of curing such patients by homeopathic treatment in some cases. However, in no case can this cure be possible in modern homeopathy without classical homeopathy.

With the help of classical homeopathy, the disease does not come back. However, as a result of wrong treatment, the patient returns to his previous condition. In all cases, the patient must adhere to the minimum rules of hygiene such as – nutritious food and drink, regular exercise, adequate rest and sleep. Along with all this, positive change in life is essential. The disease can recur if homeopathic treatment is not given properly and thoroughly. Some patients may experience this, especially due to mental-emotional trauma. However, with the right dosage of the right medicine, there is no possibility of recurrence of the disease.

This is a very big and evil slander for homeopathy. Homeopathic medicine is made with 100% natural ingredients according to homeopathic pharmacopoeia. Its main source is some vegetables, animals or minerals. The real homeopath rather fights against steroids.

Homeopathic remedies are safe for patients of all ages, including children and pregnant women. The condition is – the right medicine should be given in appropriate power (potency) and dose according to the symptoms.

This is a completely wrong idea. Rather homeopathy works extremely fast. However, as a result of long-term suppressive treatment, the patient’s symptoms are not clearly found. In such cases patients are unable to inform the doctor about the exact modalities of the symptoms. As a result, the homeopath has to struggle to prescribe the right medicine. As the overall health of the patient deteriorates, step by step improvement of the patient is expected. Having suffered from the disease for 20/25 years, one should not expect a cure overnight. Moreover, some patients quit all the treatments and go to the homeopath as the last resort. Yet the harm of allopathic treatment is not the same for everyone. Homeopathic medicine is symptomatic. During homeopathic treatment- the patient is asked many questions including significant past ailments and its treatment. Knowing the patient’s mental-emotional state, physical health, lifestyle is a time-consuming process. Aanalysis of these symptoms helps to determine the right medication. Then in a short time homeopathic treatment can bring excellent results. The more clearer the symptoms, the shorter the treatment time. Many people all over the world have experienced excellent and miraculous cure with homeopathic remedies.

 According to the World Health Organization (WHO), homeopathic medicine is the second most popular treatment in the world. Allopathy and homeopathy go hand in hand until the diagnosis is made. The case analysis and consutation and prescription next process is completely different.Homeopathy adheres to pure science in the treatment of acute and chronic diseases. In allopathy, all patients are given the same treatment for a specific disease, in most cases multiple medications. However, in homeopathy, for the same disease, different single drug is prescribed to different patients by analyzing the overall physical and mental condition of the patient. There is no connection between psychotherapy, placebo effect or black magic.

The patient are asked for homeopathic treatment because homeopathic treatment is the only holistic treatment method.Here the patient can be cured from within by analyzing the overall physical-mental-emotional condition of the complex-chronic patients. The other methods give only temporary relief although they have too many side effects.When it comes to complex diseases such as allergic diseases, recurrent acute diseases, mental illnesses, hormonal diseases, there are many opportunities to cure diseases with homeopathic treatment. Homeopathic remedies should be taken for the permanent cure of such patients. Other methods create new diseases as side effects. Sometimes permanent damage of organs take place due to complications.

Homeopathic medicine is sweet in taste but does not raise blood sugar levels. Numerous patients with diabetes mellitus have witnessed excellent results from homeopathic medicine. The taste of homeopathic medicine is bitter like the capsule method of allopathic medicine. It is given through sweet flavored pills for regular and perfect use. However, the medicine can be taken with water or milk power.

Based on the glorious achievements of homeopathy in the past, this is a completely wrong idea. Homeopathy has been able to cure numerous dangerous and deadly diseases quickly. Homeopathy works as a great therapy for both acute and chronic diseases if the patient’s overall symptoms are properly considered and the patient is given the right dose of medicine.Homeopaths advise to seek other treatment in case of emergency as it is not possible for homeopaths to treat patients in the hospital in a full-time manner.After all, the failure of a homeopath is never a failure of homeopathic science. 

According to homeopathic textbooks and global research, if a patient drinks coffee four or five times a day, he should refrain from drinking coffee or reduce it. Drinking less coffee does not harm the effects of homeopathic medicine.Patients can eat almost everything like onion, garlic etc. without any fear. However, it is advisable to temporarily avoid certain foods and drinks as they are considered harmful for the patient.For example, sweets are prohibited for diabetic patients and cold foods for pneumonia patients.

While prescribing homeopath mentions the dose, potency and frequency of taking the medicine. Medicine is prescribed for specific patient according to the patient’s overall symptoms and the medicine should be taken as advised. It is never the same for all patients. 

As Allopathy uses ‘capsules’, Homeopath gives ‘sweet pills’. Pills are not medicine as long as they are mixed with liquid medicines. Homeopathic medicine is bitter in taste so the medicine is given inside the pills which absorbs the medicine& later acts as a capsule. Pills basically act as carriers or vehicles. Water can also be used as a carrier instead of pills.

Homeopathic remedies are made for specific patients. If the hand is clean, the patient may take the medicine in his hand. But it is better not to use hands. Touching someone other than the patient can cause side effects. Even the action can be on his skin.