আমি ডাক্তার বেনজীর একজন ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথ। আমি পৃথিবীর সর্বাধিক পরিচিত ও স্বনামধন্য হোমিও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান – ইন্টারন্যাশনাল এ্যাকাডেমি অব ক্ল্যাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি (আইএসিএইচ, গ্রীস) হতে হোমিওপ্যাথিতে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছি। আইএসিএইচ প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বখ্যাত হোমিও গুরু প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাস। হোমিওপ্যাথিতে তার অবদানের স্বীকৃতস্বরূপ তিনি ১৯৯৬ সালে অলটারনেট নোবেল পুরস্কার বা রাইট লাইভলিহুড এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত হন। ইতিমধ্যে  ৭৫ টি দেশের ১৭ হাজার মেডিক্যাল ডক্টর ও হোমিওপ্যাথ তাঁর নিকট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অত্যন্ত সফলতার সাথে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রফেসর ভিথোলকাসের নিকট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সকল মেডিকেল প্র্যাকটিশনার ও হোমিওপ্যাথের তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন

প্রফেসর ভিথোলকাস ছাড়াও আমি প্রখ্যাত ভারতীয় হোমিওপ্যাথ ফারুক জে মাস্টার, এমডি, পিএইচডি এর নিকটে হাতে কলমে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি।

ডা. ফারুক জে মাস্টার ও প্রফেসর জর্জ ভিথোলকাসের নিকট প্রশিক্ষণ গ্রহণের আগে আমি ঢাকা হতে অত্যন্ত সফলতার সাথে ডিএইচএমএস (ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারী) কোর্স সম্পন্ন করি। এরও পূর্বে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ হতে বিএসএস (অনার্স) ও এমএসএস ডিগ্রী অর্জন করি। পরে আমি অষ্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেছি। এছাড়া আমি ইসলামিক অনলাইন বিশ্ববিদ্যালয় হতে ৪ বছর মেয়াদি বিএসসি ইন সাইকোলজি কোর্স এবং সুইজারল্যান্ড হতে ৬ মাস মেয়াদি লীন এন্ড হেলদি কোর্স সম্পন্ন করেছি।

আমি উপরোক্ত দুজন হোমিও গুরুর নিকট হতে হোমিওপ্যাথির অনেক বাস্তব, প্রায়োগিক ও গবেষণালব্ধ তথ্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করেছি যা আমার চিকিৎসা জীবনে প্রতিনিয়ত কাজে লাগছে।

আমি ১৯৯৫ হতে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি), সাভারে অনুষদ সদস্য হিসেবে চাকুরীরত। বর্তমানে আমি পরিচালক পদে কর্মরত।

কেন আমি হোমিওপ্যাথ হলাম?

আপনারা প্রশ্ন রাখতে পারেন কেন আমি একটি সরকারী চাকুরি করার পরও হোমিওপ্যাথির প্রতি এতটা আকৃষ্ট হলাম। কারণটি হলোঃ

১৫-১৬ বছর বয়স হতে আমি এ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারের ডায়গনসিস অনুযায়ী ক্রণিক ডায়রিয়া, কোল্ড এ্যালার্জি এবং কিছু চর্মরোগে ভুগছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর হতে সমস্যাগুলি প্রকট আকার ধারণ করে যা আমার দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকেও ব্যাহত করতে থাকে। একটানা প্রায় ১০ বছর আমি বিশেষজ্ঞ এ্যালোপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ মতে প্রচুর ঔষুধ সেবন করেছি। কিন্তু একসময় আমি বুঝতে পারি এজাতীয় চিকিৎসা আমাকে প্রকৃতপক্ষে কোন সাহায্যই করছেনা। ঔষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় আমার অবস্থা দিন দিন জটিল হতে জটিলতর হতে থাকে। এক সময়ে আমি হোমিওপ্যাথির কিছু মৌলিক পুস্তক অধ্যয়ন শুরু করি এবং আমার চিকিৎসার জন্য একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথের শরণাপন্ন হই। রোগী হিসেবে আমি প্রত্যক্ষ করলাম হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত দ্রুত ও স্থায়ীভাবে আমার যাবতীয় সমস্যার সমাধান করেছে। এরপর আমি আর চিকিৎসার জন্য পিছন ফিরে দেখিনি। কিন্তু সেই সময়ের কথা আমি আজও ভুলতে পারিনা যখন আমাকে প্রায় প্রতি সপ্তাহে নিয়মিতভাবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যেতে হতো, ঐ চিকিৎসার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া জেনেও।

হোমিওপ্যাথি আমাকে নতুন পথের সন্ধান দিয়েছে, আমাকে একজন পূর্ণ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেছে। আমি বুঝতে পারি হোমিওপ্যাথি মানুষের রোগের চিকিৎসা করেনা বরং রুগ্ন মানুষটির চিকিৎসা করে। কারণ, রুগ্ন মানুষটি সুস্থ হলেই তার রোগের নাম যাই হোক না কেন তা আরোগ্য হয়ে যায়। সাধারণ মানুষের কাছে হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা ও বিশ্বাস হোমিওপ্যাথিকে পেশা হিসেবে নিতে আমাকে সাহায্য করেছে।

একটি স্মৃতিচারণ এখানে না করলেই নয়। খুব ছোটবেলায় আমার বাবাকে দেখতাম ক্ষুদ্র পরিসরে হোমিও চিকিৎসা প্রদান করতেন। সকাল-বিকেল তাঁর কাছে প্রতিদিনই কিছু রোগী আসতেন। তিনি বই-পুস্তক অধ্যয়ন করে তাদের ঔষুধ দিতেন। আমার মনে আছে তিনি ঔষুধ নির্বাচনের পর আমাকে তা তৈরী করতে নির্দেশ দিতেন। আমি তাঁর নির্দেশমত ঔষুধ প্রস্তুত করে রোগীকে দিতাম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন আমি কমবেশী ২০০ ওষুধের নাম জানতাম। তখন হোমিওপ্যাথির মাহাত্ম্য বুঝতে না পারলেও আমার নিজের জীবন যখন বিপন্ন হলো তখন আমি নিজেই ছোটবেলায় বাবার হোমিও চিকিৎসাসেবার সেই স্মৃতিকে স্মরণ করে হোমিওপ্যাথির দারস্থ হলাম এবং চমৎকারভাবে উপকৃত হয়ে নতুন জীবন ফিরে পেলাম।

আমার অভিজ্ঞতা

হোমিওপ্যাথ হিসেবে এই কথার প্রতি অত্যন্ত আস্থা রাখি যে অসুস্থ রোগীকে সুচিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করতে পারলে অর্থাৎ তার রুগ্ন ও বিশৃংখল জীবনী শক্তিতে সাম্যাবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে রোগীর রোগের নাম যা কিছুই হোকনা কেন তা আরোগ্য হবে ইনশাল্লাহ্। হোমিওপ্যাথি যদিও পূর্ণ মানুষের চিকিৎসা করে তবুও আমি চিকিৎসক হিসেবে অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীকে সফলতার সাথে আরোগ্য করেছি। এর মধ্যে পুরুষ ও মহিলাদের নানান ধরণের জটিল রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস্, আইবিএস, চর্মরোগ, হাঁপানি, হরমোনাল সমস্যা, আথ্রাইটিস, বাতজ্বর, গ্যাসট্রিক, পেপটিক আলসার, জন্ডিস, হেপাটাইটিস, টনসিলাইটিস, নাকের পলিপ, টিউমার, সিস্ট, নানা ধরণের মানসিক ও আবেগিক সমস্যা আমি অত্যন্ত সফলতার সাথে চিকিৎসা করেছি। আমি বিশ্বাস করি অন্য কোন চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর রোগলক্ষণ অধিক পরিমাণে চাপা না পড়লে বা রোগীর কেসটি অধিক জটিল না হলে কিডনীরোগ, ক্যান্সার, ডায়বেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদিও অন্য যেকোন চিকিৎসা ব্যবস্থার চেয়ে হোমিওপ্যাথি দ্বারা সফল ভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব।

error: Content is protected !!